বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

রিমাইন্ডার – ২০

হে যুবক!
তোমাকে বলছি এখনো কি সময় হয়নি তোমার রবের দিকে ফিরে আসার ?
এখনো কি সময় হয়নি তোমার রবের দিকে প্রত্যাবর্তন করার?
আর কত সময় তুমি গুনাহ-এ বিভোর হয়ে থাকবে ? আর কত সময় তুমি পাপের সমুদ্রে হাবুডুবু খাবে ? আর কত সময় তুমি তোমার প্রতিপালক সম্পর্কে উদাসীন হয়ে থাকবে ?

তোমার প্রতিপালক তোমাকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ
“হে লোকসকল ! কোন জিনিস তোমাকে তোমার প্রতিপালক সম্পর্কে উদাসীন করে রাখল ? ”

হে যুবক!
তুমি পাহাড়সম পরিমাণ গুনাহ করে ফেলেছ , গুনাহ করতে করতে গুনাহ’র সমুদ্রে হাবুডূবু খাচ্ছ,। পৃথিবীর এমন কোন খারাপ কাজ বাদ নেই, যেটা তুমি কর নি।
মনে মনে ভাবছো ! আল্লাহ সুবহানা ওয়া তা’আলা তোমাকে কখনোই ক্ষমা করবেন না।

আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে তুমি নৈরাশ হয়ে গেছ।
কিন্তু জেনে রাখ আল্লাহ তোমাকে লক্ষ্য করে বলছেনঃ
“হে আমার বান্দারা ! যারা নিজেদের উপর জুলুম করেছ , যারা নিজেদের উপর অবিচার করেছ , তোমরা আল্লাহর রহমতের ব্যাপারে নৈরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা’আলা তোমাদের সকল গুনাহকে ক্ষমা করে দিবেন। নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”
—————————–
” তোমার রবের দিকে ফিরে এসো ”
(কালেক্টেড)

রিমাইন্ডার – ২১

(ভালো মানুষ হচ্ছে তারা,) যারা যখন কোনো অশ্লীল কাজ করে ফেলে কিংবা (এর দ্বারা) নিজেদের ওপর নিজেরা যুলুম করে ফেলে (সাথে সাথেই) তারা আল্লাহকে স্মরণ করে এবং গুনাহের জন্যে (আল্লাহর) ক্ষমা প্রার্থনা করে। কেননা আল্লাহ তায়ালা ছাড়া আর কে আছে যে তাদের গুনাহ মাফ করে দিতে পারে? (তদুপরি) এরা জেনে বুঝে নিজেদের গুনাহের ওপর অটল হয়েও বসে থাকে না।

(সূরা আলে ইমরান, আয়াত -১৩৫)

রিমাইন্ডার-২২

লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাত ইল্লাহ বিল্লাহ ।

যতবারই এই ভিডিও (https://www.youtube.com/watch?v=pOFZ7sYS48M ) দেখছি , ততবারই উপলব্ধি করছি মানুষ কতটা অসহায় । মৃত্যুর চৌকাঠে পা রেখেও মানুষ গত দম্ভ আর অহংকারের সঙ্গে জমিনের বুকে হেঁটে বেড়ায় । ভাবটা এমন সে চিরদিন এভাবেই বেঁচে থাকবে , কোনদিন তাকে পোকা মাকড়ের ঘর অন্ধকার কবরে যেতে হবে না । মুনকার নাকীর কোনদিন তাকে রিমান্ডে নিবে না ।

কয়েকটা নিউজের লিংক দেওয়া হল । সবগুলো নিউজই একটা বিষয় কমন – আকস্মিক মৃত্যু ।
পর্ন দেখা অবস্থায় ।
শেষ বিচারের দিন কি অবস্থায় এরা আল্লাহ্‌র সঙ্গে দেখা করবেন , ভেবে দেখুন একবার ।
লা হাওলা ওয়ালা কুয়্যাত ইল্লাহ বিল্লাহ ।

ইয়া আল্লাহ্‌, আমাদের এরকম করুন পরিনতি থেকে রক্ষা করুন । আমাদের শেষকাজ যেন হয় আমাদের জীবনের সবচেয়ে ভালো কাজ । জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অংশ যেন হয় সর্বশেষ অংশ , আর জীবনের সবচেয়ে ভালো দিন যেন হয় শেষ বিচারের দিন ।

১) http://nyp.st/1UF7uEi

২) http://bit.ly/2EXt97O

৩) http://cbsn.ws/2DlDWZg

রিমাইন্ডার -২৩

“কোন পাপ করার জন্য আপনার কামনা যত বড় হবে, সেই পাপকে এড়িয়ে গেলে আপনার ঈমান তত বড় হবে।”
– শাইখ মুহাম্মাদ বিন আল-উসাইমিন

রিমাইন্ডার – ২৪

যদি আপনি আপনার ঈমানের অবস্থা পরীক্ষা করতে চান তবে যখন একা থাকেন তখন নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুন। একাকী থাকা অবস্থায় নিজেকে পর্যবেক্ষণ করুণ।
শুধু দু রাকাত সলাত আদায় এবং একদিন রোজা রাখার মাধ্যমে ঈমান সৃষ্টি হয় না..
বরং এটা সৃষ্টি হয় নিজের নফস এবং এর কামনা-বাসনার বিরুদ্ধে মুজাহাদা করার মাধ্যমে।
আল্লাহরর কসম! ইউসুফ(আ) এত বড় মর্যাদা এবং সফলতা লাভ করতে পেরেছেন তার নিজ প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করার কারণে।
“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি তার পালনকর্তার সামনে দাঁড়ানোকে ভয় করেছে এবং নিজেকে কামনা বাসনা থেকে নিবৃত্ত রেখেছে, তার ঠিকানা হবে জান্নাত”-(৭৯: ৪০-৪১)

যেদিন আল্লাহর আরশের ছায়া ব্যতিত আর কোন ছায়া থাকবে না, সেদিন যারা আল্লাহর আরশের ছায়ায় স্থান পাবে তাদের মধ্যে একজন হচ্ছে….যে নির্জনে আকাকী অবস্থায় আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তার দুই চোখ অশ্রুতে ভিজে যায়….

কৃতজ্ঞতাঃ- Bd Reminder : বাংলা ইসলামিক রিমাইন্ডার

রিমাইন্ডার – ২৫

আমাদের জীবনের বিশাল একটা সময় আমরা খরচ করি নিজেদের সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার জন্য। আমরা সবাই চাই পোষাক, পারফিউম, হেয়ারস্টাইল, আচরণ, বাচনভঙ্গি – সবক্ষেত্রেই মানুষের সামনে নিজেদের একটি পরিশীলিত রূপ তুলে ধরতে। আরেকজন মানুষ আমাকে দেখছে – এটা জানা মাত্রই সাধারণত আমাদের আচরণে একটা পরিবর্তন আসে। বিশেষ ভাবে বিপরীত লিঙ্গের কারো মনোযোগ পেলে আমরা বেশ অনেকটাই আত্মসচেতন হয়ে উঠি।
.
বলা যায় আমাদের সবার বিভিন্ন ভারশান বা সংস্করণ আছে। স্থান-কাল-প্রেক্ষাপট অনুযায়ী আমরা নিজেদের বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করি। জাকজমকপূর্ণ কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা যেভাবে নিজেদের তুলে ধরতে চাই সেভাবে অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সামনে আমরা নিজেদের উপস্থাপন করি না। সহকর্মীদের সাথে আমাদের আচরণ যেমন হয়, নিজ পরিবারের সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আমরা সেভাবে আচরণ করি না।
.
অলস দুপুরে ভুঁড়ি উদোম করে নাক ডাকতে থাকা দোকানীও কাস্টোমার আসা মাত্র সলজ্জ ভাবে চেষ্টা করে নিজেকে উপস্থাপনীয় করে তুলতে। এলাকার সবচেয়ে বেপরোয়া ছেলেগুলোও মুরব্বি আর বড় ভাইদের সামনে সিগারেট ‘ব্যান’ করে। দুই হাতে পেছনে দিয়ে সুবোধ ছেলের মতো দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। বাসে অবলীলায় নাক খোঁচাতে থাকা লোকটাও যখন বুঝতে পারে মানুষ তার দিকে তাকিয়ে আছে, তখন চেষ্টা করে যথসম্ভব ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ভাবে নাকের ভেতর থেকে আঙ্গুল সরিয়ে আনার (অধিকাংশ ক্ষেত্রে)।
.
রিকশায় কিংবা সিএনজি প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে পাবলিকলি অসভ্যতায় মেতে ওঠা ছেলে বা মেয়েটাও চিন্তা করতে পারে না তার মা-বাবা কিংবা পরিবারের কারো চোখের সামনে একই কাজ করার। রাস্তার মোড়ে মোড়ে রিকশাচালকদের কাছ থেকে ঘুষ নিতে থাকা লোকগুলোও চেষ্টা করে নিজেদের নির্লজ্জতা ঢাকার। ঘুষ যাদের জীবিকার মূল উৎস তারাও চেষ্টা করে কমিশন, স্পীড মানি, বখশিশ, নাস্তা-পানির টাকা – শ বিভিন্ন নামে নিজেদের অপরাধের একটা সম্মানজনক ব্যাখ্যা দেবার।
.
আর আমরা যখন সম্পূর্ণ একা, যখন আমরা নিশ্চিত থাকি আর কেউ আমাদের দেখছে না – তখন আমরা যেভাবে থাকি, লোকচক্ষুর সামনে আমরা সেভাবে থাকি না। সামাজিক সঙ্কোচ, লৌকিকতার সীমানা, চক্ষুলজ্জার লাগাম যখন থাকে না তখন আমরা অনেকাংশেই বদলে যাই। কেউ আমাকে দেখছে না এটা জানা আমাদের প্রভাবিত করে। আর তাই নির্জনে আমরা এমন অনেক কাজ করি যা কারো সামনে করার কথা আমরা কল্পনাও করি না।
.
কিন্তু আমরা ভুলে যাই একজন সব সময় আমাদের দেখছেন। যখন আমরা আমাদের পরিবারের চোখের আড়াল হই তখনো তিনি আমাদের দেখছেন, যখন আমরা লক্ষ লক্ষ মানুষের ভিড়ে থাকি তখনো তিনি আমাদের দেখছেন। যখন আমরা লোকচক্ষুর অন্তরালে কিংবা অন্ধকারের আড়ালে সীমালঙ্ঘনে মেতে উঠি তখনো তিনি আমাদের দেখেন, যখন আমরা নিজেদেরকে ধুয়ে মুছে মানুষের সামনে আসি তখনো তিনি আমাদের দেখছেন।
.
তাঁকে তন্দ্রাও স্পর্শ করতে পারে না এবং নিদ্রাও নয়। আসমান ও যমীনে যা কিছু রয়েছে, সবই তাঁর। কে আছ এমন, যে সুপারিশ করবে তাঁর কাছে তাঁর অনুমতি ছাড়া? দৃষ্টির সামনে কিংবা পিছনে যা কিছু রয়েছে সে সবই তিনি জানেন।
.
মাটির নিচে, আকাশের উপররে, সমুদ্রের গভীর কোন কিছুই তাঁর অগোচরে হয় না। কোন কিছুই তাঁর কাছে গোপন থাকে না। আপনার অপরাধ, আপনার সীমালঙ্ঘন, আপনার মুহুর্তের পদস্খলন এমনকি আপনার মনের গভীরে লুকিয়ে রাখা চিন্তাগুলো – আপনি কোন কিছুই তাঁর কাছ থেকে আড়াল করতে পারবেন না।
.
“আর তুমি যে অবস্থাতেই থাক না কেন আর যা কিছু তিলাওয়াত কর না কেন আল্লাহর পক্ষ হতে কুরআন থেকে এবং তোমরা যে আমলই কর না কেন, আমি তোমাদের উপর সাক্ষী থাকি, যখন তোমরা তাতে নিমগ্ন হও। তোমার রব থেকে গোপন থাকে না যমীনের বা আসমানের অণু পরিমাণ কিছুই এবং তা থেকে ছোট বা বড়, তবে (এর সব কিছুই) রয়েছে সুস্পষ্ট কিতাবে।” [সূরা ইউনুস। ৬১]
.
মানুষের ব্যাপারে আমরা লজ্জা বোধ করি। মানুষের দৃষ্টির ব্যাপারে আমরা সঙ্কোচবোধ করি। পারিপার্শ্বিকতার কারনে আমরা আমাদের আচরণ, ব্যবহার আর প্রবৃত্তির উপর লাগাম দেই। কিন্তু আমরা ভুলে থাকি আল্লাহ আমাদের দেখছেন। আমরা ভুলে যাই তিনি সব কিছু শোনেন, তিনি সব কিছু দেখেন, তিনি সব কিছু জানেন। আমরা ভুলে যাই তাঁর সামনে আমাদের দাঁড়াতে হবে। আমরা ভুলে যাই সেইদিন আমাদের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সাক্ষ্য দেবে। আমরা ভুলে যাই সেইদিন এমন এক কিতাব, এমন এক আমলনামা আমাদেরকে দেয়া হবে যাতে ছোট বড় কোন কিছুই বাদ দেয়া হবে না।
.
যিনি অন্ধকারের সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনাকে দেখছেন। যিনি আলোর সৃষ্টিকর্তা তিনি আপনাকে দেখছেন। যিনি সমস্ত কিছুর সৃষ্টিকর্তা, সেই মহাস্রষ্টা আপনাকে দেখছেন। প্রতিটি মূহুর্তে। এক সেকেন্ডের লক্ষ কোটি ভাগের এক ভাগের জন্যও তাঁর আড়াল আমরা হতে পারি না। তবুও কি আমরা আল্লাহকে স্মরণ করবো না? তবুও কি আমরা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার দৃষ্টির ব্যাপারে সলজ্জ হবো না?
.
#KnowYourDeen
ইউটিউব লিঙ্ক – https://youtu.be/DO7R0MKGjQ0
কৃতজ্ঞতা Asif Adnan

শেয়ার করুনঃ