বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

এক.

সক্কাল সক্কাল দুর্গা নাম জপতে জপতে  নাদুস নুদুস রসগোল্লা খাওয়া চেহারার  পুরুত মশাই লালমাটির পথ ধরে হেলেদুলে হেঁটে যাচ্ছিলেন । তার হাতে একটা দড়ি । দড়ির শেষ মাথায়  পুরুত মশাইয়ের মতোই একটা নাদুস নুদুস পাঁঠা বাঁধা । পাঁঠাটা মনিবের মতোই হেলেদুলে মনিবের পেছনে পেছনে হেঁটে যাচ্ছে । পুরুত মশাইয়ের গন্তব্য গো-ছাগলের হাট   ।

.

পুরুত মশাই পাঁঠা নিয়ে যে পথ ধরে যাচ্ছিলেন সেই পথেরই ধারে এক বটগাছের নীচে বসে ছিল ত্রিরত্ন; নীতাই,মধু আর গঙ্গা । নীতাই আর মধু তাস পিটাচ্ছিল । গঙ্গা বসে বসে  তাই দেখছিল আর বিড়ি ফুঁকছিল  । পুরুত মশাই তার পাঁঠা নিয়ে তাদের পাশ কাটিয়ে চলে গেলেন । একই পাড়ায় বাড়ি তাদের সবারই । পুরুত মশাইকে দেখে নীতাই আর মধু তাস পেটানো বন্ধ করে তার দিকে চাইলো, গঙ্গা বিড়ি লুকিয়ে ফেলে একটা নমস্কার করলো, কিন্তু পুরুত মশাই খেয়ালই করলেন না ! কি ভাবতে ভাবতে নিজের পথে চলে গেলেন  । গঙ্গা তার গমনপথের দিকে  তাকিয়ে  কষে একটা গালি দিল । পাঁঠাটা দেখা মাত্রই নীতাই এর মাথায় একটা দুষ্টু বুদ্ধি এসেছিল । কিন্ত পুরুত মশাইয়ের পাঁঠা ভেবে সঙ্গে সঙ্গেই মাথা থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল দুষ্টু বুদ্ধিটা । পুরুত মশাইএর এমন ব্যবহারের পর  দুষ্টুবুদ্ধিটা আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠলো ।গঙ্গা আর মধুকে সবকিছু বলে দ্রুত সলা-পরামর্শ করে নিল । বিচিত্র  একটা হাসি ফুটে উঠলো তিনজনের মুখেই ।

.

একছুটে কিছুটা ভিনপথ ঘুরে মধু হাজির হলো পুরুত মশাইয়ের সামনে ।

“নমস্কার! পুরুত মশাই কোথায় চললেন এই নেড়ি কুত্তাটা নিয়ে” ।

“ছোকরা! চোখের কি মাথা খেয়েচিস  ! এটা নেড়ি কুত্তা হবে কেন ? এটা তো পাঁঠা । হাটে নিয়ে যাচ্চি বেচব বলে”।

.

রাগে গজরাতে গজরাতে হেঁটে চললেন পুরুত মশাই । কলিযুগে আর কতকি দেখব ! সেদিনের পুঁচকে ছোড়া আমার সঙ্গে করে ফাজলামি!  একটু পরে সামনে পড়লো গঙ্গা ।

“নমস্কার! তা পুরুত মশাই কুত্তার গলায় দড়ি বেঁধে কোতায় নিয়ে যাচ্চেন”?

পুরত মশাই এবার আগের মতো রাগলেন না ।  কিছুটা দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে বললেন,“তোমাদের আজ কি হলো বলো তো ,বাপু? একটু আগে মধুও এই পাঁঠাকে  বলল  কুত্তা । এখন তুমিও বলচো”।

গঙ্গা মাথার দিব্যি দিয়ে বললো  যে এটা পাঁঠা নয় ,একটা লোম ওঠা নেড়ি কুত্তা ।

পুরুত মশাই বিড়বিড় করতে করতে হাঁটা শুরু করলেন । সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকাতে থাকলেন পাঁঠার দিকে ।  ভয় পেতে শুরু করলেন তিনি । শেষ বয়সে মাথাটা কি গেল? পাগল হয়ে গেলাম? ঠাকুরদার অবশ্যি শেষ বয়সে মাথাটা বিগড়ে গিয়েছিল ।

.

কিছুক্ষন পরেই তার সঙ্গে দেখা হল  নিতাইয়ের । নিতাই সঙ্গে সঙ্গেই পুরুত মশাইকে জিজ্ঞাসা করল তিনি কেন কুত্তার গলায় দড়ি পড়িয়েছেন আর তাকে কোথায়ই বা নিয়ে যাচ্ছেন । পুরুত মশাই যখন দুর্বল স্বরে বললেন এটা কুত্তা নয়, পাঁঠা তখন  নিতাই মা কালীর দিব্যি খেয়ে বললো এটা কুত্তা ।

পুরুত মশাই  শতভাগ  নিশ্চিত হলেন যে এই শেষবয়সে এসে তার মাথাটা সত্যিই বিগড়ে গেছে। পাঁঠাটার গলার দড়ি খুলে দিয়ে,‘হেই কুত্তা যা যা, ছেই ছেই’ বলে তিনি তাড়িয়ে দিলেন। তারপর  উদ্ভ্রান্তের মতো ঘোলা চোখে হাঁটা ধরলেন বাড়ির পথে ।

.

মধু,গঙ্গা,নিতাই কাছে পিঠেই ছিল। পুরুত মশাই চোখের আড়াল হতেই তারা দৌড়ে যেয়ে পাঁঠাটা ধরে ফেললো। তারপর কেলো হাসি দিয়ে রওয়ানা দিল  চক্রবর্তীদের আমবাগানের দিকে। পাঁঠার মাংস দিয়ে সেই একটা ভোজ হবে আজ !

.

গল্পটা পড়েছিলাম অনেক দিন আগে ইংরেজিতে, ইংরেজি পড়া শিখেছি কেবল তখন। গল্পের ত্রিরত্ন; গঙ্গা,নিতাই আর মধু মিলে  ছকে ফেলে যেভাবে পুরুতমশায়ের পাঁঠা’টা সাবাড় করে ফেললো তা খুব ক্ল্যাসিকাল একটা টেকনিক। পৃথিবীর ইতিহাসে বারবার ব্যবহার করা হয়েছে এই টেকনিকটা, মক্কার কুরাইশ থেকে শুরু করে পাশ্চাত্যের ক্রুসেডার আমেরিকা,ফ্রান্স,ইংল্যান্ড,জার্মানি- বাদ যায়নি কেউই। ইংরেজিতে গালভরা একটা নাম দেওয়া হয়েছে এর-‘ The Big Lie Theory’

[https://goo.gl/Mhc7Qn]

.

সোজা বাংলায়‘Big Lie Theory’ হলঃ  একটা মিথ্যে কথা তা যতোই বড় হোকনা কেন,তা যদি বারবার, বারবার বলা হতে থাকে তাহলে ম্যাঙ্গো পিপল একসময় সেটা  সত্যি বলে ধরে নেয়।

পুরুত মশাই যেমন একটা মিথ্যে কথা পরপর তিনজনের মুখ থেকে শুনে তা সত্যি বলে ধরে নিলেন।

.

‘Big Lie Theory’ এর সাথে নাৎসিদের নাম জড়িয়ে থাকলেও, সবচেয়ে চৌকস ভাবে এর ব্যবহার করেছে নব্য ক্রুসেডার আমেরিকা,ফ্রান্স,ইংল্যান্ড,জার্মানি,রাশিয়া,ইন্ডিয়া এন্ড কোং ।

.

টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক প্রেস কনফারেন্সেDepartment of Homeland Security (DHS) secretary John Kellyট্রাম্প প্রশাসনের সাতটি মুসলিমদেশের নাগরিকদের আমেরিকাতে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘আমরা আমেরিকার নাগরিকদের জীবন নিয়ে জুয়া খেলতে পারিনা’

hkttps://goo.gl/BFjhe7

.

অর্থাৎ আমেরিকার প্রশাসন বলতে চাইছে এই মুসলিমদেশের নাগরিকদের হাতে আমেরিকানদের জীবন একেবারেই  নিরাপদ নয়। তারা আমেরিকার মাটিতে পা দিতে পারলেই আমেরিকানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলবে।

.

২০১৬ সালের এক জরিপ চালানোর সময় ১৫০০ আমেরিকানকে প্রশ্ন করা হয় তারা সবচেয়ে কিসের ভয়ে ভীত।

প্রথম পাঁচটা বিষয়ের ২ এবং ৪ নম্বরে ছিল টেররিজম বা সন্ত্রাসবাদ।

https://goo.gl/Z99q9u

.

সন্ত্রাসবাদ আমেরিকানদের জন্য আসলেই কি এতো বড় হুমকি এবং ক্ষতির কারন?

.

New America Foundation এর মতে ২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে ৯৪ জন আমেরিকার মাটিতে জিহাদীদের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন, ঠিক একই সময়ে আমেরিকার মাটিতে ৩ লক্ষ ১ হাজার ৭৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছে বন্দুকের গুলিতে !

https://goo.gl/Z99q9u

একজন আমেরিকানের ক্যান্সার অথবা হার্টের অসুখে মৃত্যুবরণ করার সম্ভাবনা  রিফিউজি সন্ত্রাসীদের হাতে মৃত্যু বরণ করার চেয়ে ৬ দশমিক ৯ মিলিয়ন গুন বেশি, সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাবার সম্ভাবনা  রিফিউজি সন্ত্রাসীদের হাতে মৃত্যু বরণ করার চেয়ে  ৪ লক্ষ ৭ হাজার গুন বেশি, বজ্রপাতে মারা যাবার সম্ভাবনা ২৬০ গুন বেশি। এমনকি শার্কের আক্রমণে (পৃথিবীতে শার্কের আক্রমণে মানুষ নিহত হবার ঘটনা খুবই বিরল ) একজন আমেরিকানের মারা যাবার সম্ভাবনা রিফিউজি সন্ত্রাসীদের হাতে মৃত্যু বরণ করার চেয়ে ৬ গুন বেশি।

https://goo.gl/jg9Bzx

.

তাহলে কেন সন্ত্রাসবাদকে মারাত্মক হুমকি মনে করছে আমেরিকানরা? মুসলিমদের রক্তলোলুপ পিশাচ হিসেবে বিবেচনা করছে?

উত্তর-  ‘Big Lie Theory’ । মিডিয়া,নাটক,সিনেমা, উপন্যাস,সংবাদমাধ্যম,পেইড দালাল  সম্ভাব্য সবরকম উপায়ে  ‘সন্ত্রাসবাদ আমেরিকানদের জন্য মারাত্মক হুমকি’ এই ভয়ংকর মিথ্যেটা জনগণকে বারবার বলা হয়েছে । আর সাধারণ জনগন সেটা বিশ্বাস করেই বসে আছে।

 

দুই.

এই পৃথিবীর ইতিহাস (মানব জাতির ইতিহাসও বলা যায়) হল হক ও বাতিলের দ্বন্দের ইতিহাস।জান্নাতে সেই আদম(আঃ) আর শয়তানের লড়াই থেকে শুরু। এরপর যুগে যুগে কালে কালে লড়াই হয়েছে ইব্রাহীম (আঃ) আর নমরুদের,মূসা (আঃ) আর ফেরআউনের, মুহাম্মাদ’র (ﷺ) আর আবু জেহেলদের। হক ও বাতিলের লড়াই এখনো চলছে,চলবে কিয়ামতের আগ পর্যন্ত। ইবলীশ’তো  অহংকারের বশে আল্লাহ্‌কে (সুবঃ) চ্যালেঞ্জ করেই রেখেছে…

.

‘সে( ইবলিশ) বললো, যেহেতু তুমি আমাকে এই আদমের জন্যেই আমাকে গোমরাহীতে নিমজ্জিত করলে,তাই আমিও এদের গোমরাহ করার জন্য তোমার প্রদর্শিত সরল পথের বাঁকে বাঁকে ওথ পেতে থকাবো। অতঃপর পথভ্রষ্ট করার জন্য আমি অবশ্যই তাদের কাছে আসবো ……’

[সূরা-৭;১৬-১৭]

.

আদম সন্তানকে পথ ভ্রষ্ট করার জন্য শয়তানের খুব কার্যকরী একটা হাতিয়ার হলো মানুষের যৌনপ্রবৃত্তি। মানুষের যৌন প্রবৃত্তিকে তুলনা করা যেতে পারে ধারালো ছুরির সঙ্গে। চিকিৎসকের হাতে  থাকলে সেটা জীবন বাঁচায় আর রংবাজদের হাতে থাকলে জীবন কেড়ে নেয়। যৌন প্রবৃত্তি হালাল উপায়ে ব্যবহৃত হলে  দুজন মানুষকে কাছাকাছি নিয়ে আসে,সাদা কালো জঞ্জালে ভরা মিথ্যে কথার এই পৃথিবীতে  ভালোবাসা,স্নেহ,মায়া,মমতার সংসার গড়ে তোলে। যৌন প্রবৃত্তিতে শয়তানকে নাক গলাতে দিলে সে  ছলেবলে কৌশলে জাহান্নামের ওয়ান ওয়ে টিকিট ধরিয়ে দেবে ।

.

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এই সূরা আরাফের ২০ নম্বর আয়াতে বলেছেন,“ অতঃপর শয়তান তাদের দুজনকেই কুমন্ত্রনা দিল যেন সে তাদের নিজেদের (আদম এবং হাওয়া) লজ্জাস্থানসমূহ যা তাদের পরস্পরের কাছ থেকে গোপন করে রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করে দিতে পারে …

.

২৭ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে

‘হে আদম সন্তানেরা শয়তান যেভাবে তোমাদের পিতামাতাকে জান্নাত থেকে বের করে দিয়েছে,তেমনি করে তোমাদেরকেও সে যেন প্রতারিত করতে না পারে,শয়তান তাদের উভয়ের দেহ থেকে তাদের পোশাক খুলে ফেলেছিল,যাতে করে তাদের উভয়ের গোপন স্থানসমূহ উভয়ের কাছে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে…

“যে শয়তানের পদাংক অনুসরণ করে, সে জেনে রাখুক, শয়তান অশ্লীল ও মন্দ কাজের আদেশ দেয় (প্রলুব্ধ করে)।”
[সূরা ২৪ আন নূর : আয়াত ২১]

.

শয়তান যেভাবে আমাদের আদি পিতামাতাকে প্রতারিত করে জাহান্নাম থেকে বের করেছে তেমনি আমাদেরকেও সে প্রতারিত করার চেষ্টা করে। আমাদের মধ্যে যিনা-ব্যাভিচার ,অশ্লীলতা,বেহায়াপনা,বিকৃত যৌনাচার ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য শয়তান আর তার দোসরেরা ঝাঁপিয়ে পড়ে সর্বশক্তি দিয়ে।

.

উনবিংশ বা বিংশ শতাব্দীতে মানুষ যখন সবকিছু দেখতে শুরু করলো বিজ্ঞান নামক চশমার ভেতর থেকে তখন শয়তান আর তার দোসরদের দরকার ছিল এমন কিছু সায়েন্টিফিক থিওরির যেগুলো অশ্লীলতা,বেহায়াপনা, বিকৃত যৌনাচারগুলোর  পায়ের তলায় মাটি দাড় করিয়ে দেবে । সিগ্মন্ড ফ্রয়েড কিছু থিওরি দিয়েছে কিন্তু আসল (কু)কাজটা করে গেছে আলফ্রেড কিনসি।
.

১৯৪৮ সালে এই মহান ‘বিজ্ঞানমনস্ক’ বের করে তার প্রথম বই ‘Sexual Behavior in the Human Male’ ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত হয় তার আরেকটি বই Sexual Behavior in the Human female’

এই দুটি বই পাশ্চাত্যে ঝড় তোলে, যৌনতা সম্পর্কে পাশ্চাত্যের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন আনে। পাশ্চাত্যের ইতিহাসের অন্য কোন বই বা রিপোর্ট পাশ্চাত্যকে এতোটা বদলে দেয়নি যা এই দুইটি বই দিয়েছিল। আধুনিক সেক্স এডুকেশান কিনসির এই দুইটি বইয়ের ওপর ভিত্তি করেই পরিচালিত হচ্ছে। যৌনতা সম্পর্কে আধুনিক পশ্চিমা ধারণা একেবারে শুরু থেকে শেষপর্যন্ত গড়ে উঠেছে আলফ্রেড কিনসির এই দুই বিখ্যাত ‘থিসিসের’ উপর ভিত্তি করে।

.

এই দুটি বইয়ে কিনসি এমন কিছু কথা বলে যা মানুষেরা আগে কখনোই শোনেনি । কিনসি দাবী করে যে শিশুরা জন্মগত থেকেই সেক্সুয়ালী এক্টিভ,সাত মাস বয়সী এক শিশু এবং এক বছরের নিচের আরো পাঁচজন শিশুকে সে মাস্টারবেট করতে দেখেছে। [Sex education as bullying, page 7 ]। শিশুরা  বয়স্ক সঙ্গী/সঙ্গীনীদের সঙ্গে আনন্দদায়ক এবং উপকারী যৌনমিলন করতেই পারে এবং করা উচিত। [Kinsey,Sex and Fraud, page 3] পিতামাতার উচিত ৬-৭ বয়স থেকে শুরু করে শিশুদের মাস্টারবেট করানো। এবং মিলেমিশে একসঙ্গে মাস্টারবেট করা।

কিনসি দাবী করে ৩৭% পুরুষ  হোমোসেক্সুয়াল এক্সপেরিয়েন্সের সম্মুখীন হয় বয়ঃসন্ধিকাল থেকে বৃদ্ধ হবার সময়ের মধ্যে [Kinsey,Sex and Fraud, page 2]

.

কিনসি দাবী করে মানব যৌনতার ওপর কারো কোন কর্তৃত্ব ফলানো চলবে না । তার যা মন চাইবে সে তাই করতে পারবে, এটাই স্বাভাবিক, সমকামিতা স্বাভাবিক,শিশুকাম,মাস্টারবেশন স্বাভাবিক,স্বাভাবিক সব ধরণের বিকৃত যৌনাচার, বরং নারী-পুরুষের স্বাভাবিক অন্তরঙ্গতাই অস্বাভাবিক। [Kinsey,Sex and Fraud, page 2]

.

পরবর্তীতে এই ‘মহান’ বিজ্ঞানীর কাজগুলো রিফিউটেশানের শিকার হয়েছে বিজ্ঞানীদের দ্বারাই। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন আলফ্রেড কিনসির দাবীগুলোর তেমন কোন সায়েন্টিফিক ভিত্তি নেয়, তার তথ্য উপাত্ত গুলো যথেষ্ট পরিমাণে গোঁজামিলে ভরপুর [Kinsey,Sex and Fraud, page 1]। এক্সপেরিমেন্ট করার জন্য অনেক সময় সাবজেক্টের ওপর চরম  যৌননির্যাতন চালানো হয়েছে, রেহায় দেওয়া হয়নি শিশুদেরকেও।

.

কিন্তু ক্ষতি যা হবার তা হয়ে গিয়েছেই। কিনসি সব ধরণের বিকৃত যৌনাচারকে স্বাভাবিক করার যে দাবী তুলেছিল তা বাস্তবায়নে এগিয়ে আসতে দেরী করেনি শয়তান আর তার দোসরেরা। বস্তা বস্তা ডলার ঢেলে কিনসির ভুয়া দাবীগুলো  বিজ্ঞানের সহীহ শুদ্ধ পোশাক পরিয়ে উপস্থাপন করা হয়েছে পুরো বিশ্বের সাধারণ মানুষ জনের কাছে। ক্রমাগত গুনগান গাওয়া হয়েছে সমকামিতার,শিশুকামের। সেক্স এডুকেশানের নামে বাচ্চাদেরকে ছোট থেকেই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে সমকামিতা,মাস্টারবেশন,এনাল সেক্সের মতো জঘন্য বিষয়গুলো। পশুকাম,শিশুকামকে স্বাভাবিক করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, মুভি,সিরিয়াল,গল্প,উপন্যাসের মাধ্যমে সমকামীদেরকে সমাজের মূলধারায় নিয়ে আসার চেষ্টা করা হয়েছে,পর্নমুভির মাধ্যমে হাতে কলমে ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে সমকামিতা সহ সকল বিকৃত যৌনাচারের। Big Lie Theory’র আরেকটি জুতসই উদাহরণ। আর এ কাজে অগ্রনী ভূমিকা পালন করেছে এবং করে চলছে Sexuality Information and Education Council of the United States (SIECUS), International Plant Parenthood Federation (IPPF), জাতিসংঘ, প্লেবয়ম্যাগাজিন, পর্ন ইন্ডাস্ট্রি, বিভিন্ন এনজিও ইত্যাদি । [এই সিরিজের পরবর্তী পর্বে এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে ইনশা আল্লাহ্‌]

.

পড়ুন এই বইটিঃ https://goo.gl/AHVq5p

দেখুন এই ভিডিওটিঃ https://goo.gl/989ni9

.

পাশ্চাত্যের সেক্সিওলোজির পুরোটাই দাড়িয়ে আছে মিথ্যের ওপর।ইরাক,আফগানিস্তান,ইয়েমেনে ড্রোনে করে গনতন্ত্র,ব্যক্তিস্বাধীনতা,ফ্রিডোম অফ চয়েস ফেরি করে বেড়ানো পাশ্চাত্য কেন মিথ্যের ওপর দাড়িয়ে থাকা এই আইডিওলোজি গায়ের জোরে চাপিয়ে দিচ্ছে পুরো পৃথিবীর ওপর? অন্যের ব্যক্তিস্বাধীনতা,অন্যের ফ্রিডোম অফ চয়েসে নাক গলানোর অধিকার তাকে কে দিল? মুসলিম ভূখন্ডের অধিবাসীরা নিজেরাই ঠিক করে নিবে তারা সমকামিতা মেনে নিবে না বর্জন করবে, পাশ্চাত্যের গনতন্ত্রই তাদেরকে এই অধিকার দিয়েছে, পাশ্চাত্যের গনতন্ত্রই তাদেরকে এই অধিকার দিয়েছে তারা বেছে নিবে তাদের জীবন যাপনের পদ্ধতি। তাহলে কেন পাশ্চাত্যে জোর করে ‘মুক্তি’-র পশ্চিমা সংজ্ঞা চাপিয়ে দিচ্ছে মুসলিমদের উপর? যারা ক্রমাগত চিন্তার স্বাধীনতার বুলি আওড়ায়, বৈচিত্র্যের স্তুতি গেয়ে বেড়ায়, যারা মানুষের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারকে সম্মান করার কথা বলে তারাই কেন পশ্চিমা লিবারেলিসমের আদর্শগুলোকে সারা পৃথিবীর মানুষের উপর চাপিয়ে দিতে চায়? যা কিছু পশ্চিমা লিবারেলিসমের ছকের ভেতর পড়ে তা সভ্যতা আর যা কিছু এর বাইরে তার সবই পশ্চাৎপদতা কীভাবে তারা ই ঔদ্ধত্য ভরা দাবি করে?
https://goo.gl/TtXpFh

https://goo.gl/wuQRSQ

https://goo.gl/uViyuu

https://goo.gl/AJnjJa

ইনশাআল্লাহ্‌ এই সিরিজে আমরা পাশ্চাত্যের সেক্সিওলোজির শিকড় ধরে টান দেবার চেষ্টা করব। আমরা দেখব কিভাবে পাশ্চাত্য গায়ের জোরে সমকামিতাকে স্বাস্থ্যকর হিসেবে প্রমান করে চলেছে,কিভাবে সেক্স এডুকেশানের মাধ্যমে কিন্ডারগার্ডেনের বাচ্চাদেরকেও সমকামিতা,এনালসেক্স,ওরাল সেক্স, পেডেরাস্টি, মাস্টারবেশনের দীক্ষা দিচ্ছে, কিভাবে আফ্রিকার দরিদ্র দেশগুলোতে,বাংলাদেশে এনজিও ওয়ালারা সমকামিতার প্রসার ঘটিয়ে চলেছে, পাশ্চাত্যের চেপে রাখা শিশু আর নারী নির্যাতনের ইতিহাস আমরা আলোচনা করব, আমরা মুখোশ খুলে দেবার চেষ্টা করব  কিছু দেশ,কিছু ওরগানাইজেশান,কিছু ব্যক্তির,কিছু কোকোনাট শায়খদের যারা এই পৃথিবীটাকে আপনার এবং আপনার সন্তানের জন্য বসবাসের অনুপোযুক্ত করে তুলছে। আপনি আমন্ত্রিত।

ধন্যবাদ ।

ডাওনলোডঃ

১) Kinsey,Sex and Fraud –https://goo.gl/Jy99ze

২) Sex Education as Bullying- https://goo.gl/AHVq5p

শেয়ার করুনঃ