ফেইসবুক ছুরির মতো। চিকিৎসকের হাতে থাকলে ছুরি জীবন বাঁচায়, রংবাজের হাতে থাকলে জীবন কেড়ে নেয়। ফেইসবুকও তা-ই। ভালোমতো ব্যবহার করতে পারলে আপনার জীবনের গতিপথই পালটে দেবে ফেইসবুক। আর একটু অসতর্ক হলেই জীবন নষ্ট হয়ে যাবে। ফেইসবুক একসময় এমন ছিল না, জ্ঞানের প্রতিযোগিতা, সৌন্দর্যের প্রতিযোগিতা, দাম্পত্য জীবনের সুখ প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা, ক্ষমতার দাপট দেখানোর প্রতিযোগিতা, নিজের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক জীবনের প্রদর্শনী ছিল না ফেইসবুকে।

একবার চিন্তা করুন ফেইসবুক কতবার আপনার জীবনের স্বাদ নষ্ট করে দিয়েছে, বেঁচে থাকার ইচ্ছেকে মেরে ফেলেছে, অস্থিরতা, অশান্তি সৃষ্টি করেছে। দামি রেস্টুরেন্টে বন্ধুদের সেলফি দেখে, দেশ-বিদেশ ভ্রমণের ছবি দেখে আপনি অশান্ত, অস্থির হয়েছেন। ফেইসবুকে আপনার বন্ধুরা যখন তাদের জীবনের কাল্পনিক সুখ আর সাফল্যের ডালি সাজিয়ে বসেছে, তা দেখে আপনার অন্তর হয়েছে বিষাক্ত, পরশ্রীকাতর। হতাশার শ্যাওলা জমেছে আপনার মনে। দীর্ঘশ্বাস পড়েছে একের পর এক … “ধুর শালা! কিছুই হলো না জীবনে!” হতাশার শ্যাওলা আরও ঘন হয়েছে, হয়েছে আরও বেশি সবুজ। এই হতাশার মুহূর্তে কত অসংখ্যবার শয়তান আপনাকে পেয়ে বসেছে। আপনি পর্ন দেখেছেন, করেছেন হস্তমৈথুন, শেষমেষ আক্ষেপের অশ্রু ঘুম পাড়িয়েছে আপনাকে।

যতটুকু পারুন, ফেইসবুকে কম সময় দিন। তবে বাধ্য না হলে একবারে ছেড়ে চলে যাবেন না। পরিমিত ফেইসবুকিং অনেক ক্ষেত্রেই খুবই উপকারী একটি বিষয়। ইসলামিক পেইজগুলো ফলো করুন, যারা সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে মিশিয়ে দেয় না বা ইসলামকে পাশ্চাত্যের মনমতো ব্যাখ্যা করে না এমন হকপন্থী আলিমদের অনুসরণ করুন। এসব দিক থেকে ফেইসবুক আপনাকে অনেক সাহায্য করতে পারবে।

আপনার যেসব বন্ধু অশ্লীল ছবি, ভিডিও ইত্যাদি শেয়ার করে তাদের আনফ্রেন্ড করে দিন। আনফ্রেন্ড করতে না চাইলে আনফলো দিন। আইডির ওপর কার্সর রাখলে following লিখাকে unfollow করে দেয়। এতে ওই আইডি আপানার ফ্রেন্ডলিস্টে থাকবে কিন্তু নিউজ ফিডে শো করবে না। এতে চোখের গুনাহও হলো না, বন্ধুও রাগ করল না। মাঝখানে আপনি ফিতনাহ থেকে বেঁচে গেলেন। ফেসবুকের ডান পাশে আসা বিভিন্ন মডেলদের ফলো করার আইডি, বিভিন্ন অশ্লীল পেইজের অ্যাড ইত্যাদি দূর করার জন্য facebook purity নামের ব্রাউযার এক্সটেনশান ব্যবহার করতে পারেন। Firefox, chrome দুটোর ব্রাউযারের জন্যই পাবেন।

অশ্লীলতা ছড়িয়ে বেড়ানো অসংখ্য পেইজ আছে ফেইসবুকে। এসব পেইজ কোনোমতেই ফলো করা যাবে না। ফলো করা যাবে না নায়িকা, অভিনেত্রী, মডেল বা কোনো সেলিব্রেটিকেই। আপনার হোমপেইজ রাখতে হবে একদম পরিষ্কার। কোনো মেয়ের ছবিই যেন না আসে। ফেসবুক স্ক্রল করতে করতে কোনো মেয়ের ছবি দেখে ফেললেও সেটা আপনাকে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করার ট্রিগার হতে পারে, উসকানি দিতে পারে। তাই আমাদের সাজেশান হলো মাহরাম ছাড়া আর কোনো মেয়েকেই আপনার ফ্রেন্ডলিস্টে না রাখা। এমন অনেক ভাই আছেন যারা পর্ন, হস্তমৈথুন ছাড়ার জন্য আদা জল খেয়ে নামেন।

কিন্তু ফেইসবুকে নারীর ফিতনাহর জালে আটকে থাকার কারণে পর্ন, হস্তমৈথুন আর ছাড়া হয় না। আজকে, এ মুহূর্তেই বিপরীত লিঙ্গের সবাইকে আনফ্রেন্ড করুন। কাযিনদেরও। (কাযিনদের আনফ্রেন্ড করতে না চাইলে আনফলো দিয়ে রাখতে পারেন, কিন্তু আমরা এটাকে তীব্রভাবে নিরুৎসাহিত করব। সোজা আনফ্রেন্ড করুন। হয়তো কিছু কঠিন কথা শুনতে হবে, কিন্তু আলটিমেটলি এতে আপনি উপকৃত হবেন ইন শা আল্লাহ্‌।)

খুঁজে খুঁজে ফ্রেন্ডলিস্টের সব মেয়ে/ছেলেদের বের করে আনফ্রেন্ড করা ঝামেলার এবং সময়সাধ্য ব্যাপার। তবে এর সহজ সমাধান আছে।

ছেলেদের জন্য :

নিচের লিংক গেলে, আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে যাদের জেন্ডার ফিমেইল দেয়া তাদের সব আইডি চলে আসবে ইন শা আল্লাহ্‌। তারপর খুব সহজে তাদের আনফ্রেন্ড করে দিতে পারবেন।

https://www.facebook.com/search/females/me/friends/intersect

ওপরের লিংকে সমস্যা হলো এ লিংকটি ব্যবহার করুন:

https://m.facebook.com/search/females/me/friends/intersect

মেয়েদের জন্য :

নিচের লিংকে গেলে, আপনার ফ্রেন্ড লিস্টের যেসব আইডির জেন্ডার মেইল দেয়া তাদের সব আইডি চলে আসবে ইন শা আল্লাহ্‌। তারপর তাদের আনফ্রেন্ড করে দিতে পারবেন খুব সহজে।

https://www.facebook.com/search/males/me/friends/intersect

ওপরের লিংকে সমস্যা হলে :

https://m.facebook.com/search/males/me/friends/intersect

বিপরীত লিঙ্গের কারও সাথে ফেইসবুকে কখনোই ইন্টার‍্যাকশানে যাবেন না। কখনোই চ্যাট করবেন না। মোটামুটি ইসলাম প্র্যাক্টিসিং ভাইয়েরাও এ ফাঁদে পড়ে যান। কোনো মেয়ে আপনাকে ইনবক্সে কিছু জিজ্ঞাসা করলেও উত্তর দেয়ার দরকার নেই। আপনি যে ফিতনাহর ভয়ে রিপ্লাই দিতে চাচ্ছেন না এটা বলারও দরকার নেই। শয়তান আপনাকে বার বার ধোঁকা দিতে চাইবে। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে দাওয়ার গুরুত্ব এবং ফযীলত। শয়তানের ধোঁকায় ভুলবেন না। কমেন্ট, ইনবক্সে দ্বীনের দাওয়াত দিতে গিয়ে কখন যে দিলের দাওয়াত দিয়ে বসে থাকবেন তা টেরও পাবেন না।

আপনাদের অনুরোধ করব দয়া করে ফেইসবুকে ছবি আপলোডের পরিমাণ একটু কমান। উঠতে-বসতে সেলফি তোলা আর সেটা ফেইসবুকে আপলোড দেয়া যে একধরনের অসুস্থতা, মানসিক ভারসাম্যহীনতা সেটা কেন আপনারা বোঝেন না? ফেইসবুকে ছবির পর ছবি আপলোড করে, কাল্পনিক সব স্ট্যাটাস দিয়ে আপনি যে মিথ্যে সুখের ফানুস ওড়াচ্ছেন তাতে আপনার কী লাভ হচ্ছে? আপনার কারণে কত মানুষের অন্তর বিষিয়ে যাচ্ছে! টানাপোড়েন সৃষ্টি হচ্ছে সম্পর্কে। সেই সঙ্গে চোখের “নজর”[1] লেগে আপনার ক্ষতি হচ্ছে!

আপনার ক্রমাগত সেলফি আপলোড দেয়াতে সবাই যে বিরক্ত হয়, কিন্তু ভদ্রতার খাতিরে কেউ বলে না এটা কেন বোঝেন না? বোনেরা আমার, আপনারা কেন বোঝেন না, আপনাদের ছবিগুলোতে প্রশংসামূলক কমেন্ট করা ছেলেগুলো আপনাকে নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগে? তাদের বন্ধুদের সঙ্গে আপনাকে নিয়ে কুৎসিত আলোচনা করে? আপনারা আসলেই কি চান কোনো বিকৃত রুচির ছেলের যৌন ফ্যান্টাসি আর হস্তমৈথুনের নায়িকা হতে? ঠিক বুঝি না, বুঝতে পারি না আপনারা কেন যে নিজেরাই নিজেদের এভাবে অপমানিত করেন!

কিছু প্রতারক চক্র ফেইসবুক থেকে মেয়েদের ছবি সংগ্রহ করে, তারপর এডিট করে পর্নসাইট বা চটিগল্পের পেইজে দিয়ে দেয়, অনেক সময় ব্ল্যাকমেইল করে। এ কথাও মাথায় রাখা দরকার।

শয়তানের পাতা আরেকটি মারাত্মক ফাঁদ হলো আধুনিক বয়ফ্রেন্ড/গার্লফ্রেন্ড কালচার। গার্লফ্রেন্ড নিয়ে শয়তান খুবই মারাত্মক ফাঁদ পাতে। পর্ন ও হস্তমৈথুন আসক্তি থেকে মুক্তি পাবার জন্য আমাদের একটা টিপস ছিল যে, একজন খুবই কাছের বন্ধুকে সব খুলে বলে তার কাছে সাহায্য চাইতে হবে। শয়তান আপনাকে বোঝাবে, “আরে পাগলা, গার্লফ্রেন্ডের চেয়ে কাছের মানুষ কে আছে তোর? তার সাথে সবকিছু শেয়ার কর। সে কি তোর জন্য মূর্তিমান এক প্রেরণা নয়? তার চোখের দিকে তাকিয়ে, তার হাত নিজের মুঠোতে নিয়ে তুই কি নিজের মধ্যে বিশ্বজয়ের শক্তি অনুভব করিস না? তা ছাড়া বিদ্রোহী কবি বলেছেন,

‘কোন কালে একা হয়নি কো জয়ী পুরুষের তরবারী

প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়েছে বিজয় লক্ষী নারী’

গার্ল ফ্রেন্ডের প্রেরণাতেই তুই বিদায় জানাতে পারবি পর্ন আর হস্তমৈথুন আসক্তিকে।”

প্রেম নিজেই এক মারাত্মক ফিতনাহ। পদে পদে আল্লাহ্‌র (সুবঃ) আদেশ অমান্য করা। গার্লফ্রেন্ডের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে, তার দিকে তাকানোর মাধ্যমে, ডেটিং করার মাধ্যমে, স্পর্শ করার মাধ্যমে আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) আদেশ অমান্য করে চলেছেন আর শয়তানকে সুযোগ করে দিচ্ছেন আপনার অন্তরের নিয়ন্ত্রণ নেয়ার। আপনার অন্তরের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সে আপনাকে দিয়ে ইচ্ছেমতো পাপ কাজ করিয়ে নিচ্ছে।

আপনি পর্ন দেখছেন।

হস্তমৈথুন করছেন।

প্রেমকে হস্তমৈথুন/পর্ন-আসক্তি থেকে মুক্তির মহৌষধ মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রেম আপনাকে খুব অল্প সময়ের জন্য পর্ন-হস্তমৈথুন থেকে দূরে রাখতে পারবে হয়তো, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি কোনো সমাধান দিতে পারবে না। সে প্রেম যতই “পবিত্র”(?) হোক না কেন। অধিকাংশ ছেলেরা কী করে? নিজেই বলুন।প্রেমও করে আবার পর্ন ভিডিও দেখে, হস্তমৈথুন করে। এ হারাম সম্পর্কটা হুড তোলা রিকশা, কেএফসি, আলো-আঁধারির রেস্টুরেন্ট, স্টার সিনেপ্লেক্স পর্ব শেষে আপনাকে লিটনের ফ্ল্যাটে কিংবা “রুম ডেইটে” নিয়ে যেতে পারে। আর সেটা নিশ্চয়ই পর্ন আর হস্তমৈথুনের চেয়েও জঘন্য এক ব্যাপার।

আপনি নিজে পর্ন/হস্তমৈথুন/চটিগল্পের আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে চাইলে এমন সব বন্ধুদের গুডবাই জানাতেই হবে, যারা নিজেরাও ওইসবে আসক্ত। ওদের সাথে ওঠাবসা চালিয়ে গেলে আসক্তি থেকে বের হয়ে আসা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। ওরা আপনাকে পর্ন দেখার আমন্ত্রণ জানাবে, “চল দোস্ত, আজকে একটু দেখি…”, “নতুন কালেকশান আছে। দেখবি চল…”

হয়তো-বা বসে আড্ডা দিচ্ছেন। হুট করে কেউ চটিগল্প বা পর্ন ভিডিওর গল্প শুরু করে দিলো, মেয়েদের নিয়ে রসালো আলাপ শুরু করে দিলো। তাদের আলোচনায় আপনি যোগ না দিলেও অশ্লীল কিছু টার্ম, কিছু শব্দ গেঁথে যাবে আপনার মাথায়। পরে আপনার মস্তিষ্ক যখন অলস থাকবে, আপনি একা থাকবেন বা ঘুমাতে যাবেন তখন আপনার মাথায় ওই শব্দগুলো ঘুরতে থাকবে। ক্রমাগত আপনাকে জ্বালাতে থাকবে। পর্ন না দেখা পর্যন্ত, হস্তমৈথুন না করা পর্যন্ত আপনি নিস্তার পাবেন না চিন্তার জ্বলুনি থেকে।

.

“পিচ্চিকালের বন্ধু, ওদের ছাড়া থাকবি কীভাবে? একসঙ্গে গ্রুপস্টাডি করিস, ওদের থেকে দূরে সরে গেলে কে তোকে পড়া বুঝিয়ে দেবে, কার কাছে নোট পাবি?” এসব বলে শয়তান আপনাকে ধোঁকা দেবার চেষ্টা করবে। ওর কথায় কান দিয়েছেন তো মরেছেন। আপনার জীবনটাকে ধ্বংস করে ছাড়বে এসব বন্ধুরা। আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে জাহান্নামে।

.

“হায় আমাদের দুর্ভোগ, আমি যদি অমুক ব্যক্তিকে বন্ধুরূপে গ্রহণ না করতাম। আমার কাছে উপদেশ আসার পর সে আমাকে তা থেকে বিভ্রান্ত করেছিল। শয়তান তো এমনই চরিত্রের যে, সময়কালে সে মানুষকে অসহায় অবস্থায় ফেলে চলে যায়।”

(সূরা আল ফুরকান; ২৫:২৮-২৯)

“বন্ধুবর্গ সেদিন একে অপরের শত্রু হবে, তবে খোদাভীরুরা নয়।” (সূরা আয যুখরুফ; ৪৩:৬৭)

আল্লাহ্‌র (সুবঃ) জন্য বিদায় বলে দিন ওইসব বন্ধুদের। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আপনাকে এদের চেয়েও উত্তম বন্ধু মিলিয়ে দেবেন ইন শা আল্লাহ্‌। মানুষ একাকী থাকতে পারে না, বিচ্ছিন্ন হয়ে জীবন কাটাতে পারে না। তাই আমাদের সাজেশান হবে প্র্যাক্টিসিং মুসলিম ভাইদের (সমাজের ভাষায় “হুজুর” ) সঙ্গে ওঠাবসা করুন। ইন শা আল্লাহ্‌ তাঁদের সাহচর্য আপনাকে সহায়তা করবে আসক্তি দূর করতে।

.

যুবকদের যৌনাকাঙ্ক্ষা দমিয়ে রাখার একটি পদ্ধতি রাসূলুল্লাহর (সাঃ) হাদিস থেকে জানা যায়। রোযা রাখা।[2] প্রতি সপ্তাহে দুদিন, সোমবার আর বৃহস্পতিবার রোযা রাখা শুরু করতে পারেন। দেখবেন মাস দেড়েকের মধ্যে আপনি অনেক এগিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু শয়তান আপনাকে রোযা রাখতে দিতে চাইবে না; “এত লম্বা দিনে কীভাবে রোযা রাখবি, ক্লাস আছে, ল্যাব আছে… পারবি না, রোযা রাখলে তুই শুকিয়ে যাবি, চেহারা নষ্ট হয়ে যাবে…”

.

আল্লাহ্‌র (সুবঃ) ওপর ভরসা করে রোযা রাখা শুরু করে দিন। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) সহজ করে দেবেন ইন শা আল্লাহ্‌। একই কথা খাটে দান-সাদকাহর ব্যাপারেও। প্রত্যেকবার হস্তমৈথুন করার পর বা পর্ন দেখার পর আপনি যখন পাপের কাফফারা হিসেবে দান-সাদকাহ করতে যাবেন, তখন শয়তান আপনাকে ভয় দেখাবে, “দান করলে তো টাকা শেষ হয়ে যাবে। মাস চালাবি কী করে?”

.

এসব ফিসফিসানিকে কোনোরকমের গুরুত্ব দেয়া যাবে না। আল্লাহ্‌ (সুবঃ) নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, দান করলে তিনি ধন-সম্পদ বাড়িয়ে দেন, তাই শয়তানের কথায় কান না দিয়ে দান করতে থাকুন।

.

নাটক, সিরিয়াল, সিনেমা, গান, আইটেম সং এগুলো শয়তানের খুবই ভয়ঙ্কর ফাঁদ। এগুলো থেকে দূরে না থাকলে কোনোমতেই চোখের হেফাযত করা সম্ভব না। শয়তান এ ফাঁদ পেতে খুব সহজেই আপনার অন্তর দখল করে নিতে পারে। অন্তরের নিয়ন্ত্রণ শয়তানের হাতে তুলে দিলে কী হবে সেটা বলাই বাহুল্য। বিশেষ করে বলিউডের আইটেম সং খুবই বিষাক্ত। একজন সুস্থ স্বাভাবিক পুরুষ আইটেম সং দেখলে কীভাবে স্থির থাকতে পারে? আপনি যদি আইটেম সং দেখা ছাড়তে না পারেন, তাহলে পর্ন-হস্তমৈথুন আসক্তি কাটানোর চিন্তা বাদ দিন। এ পর্যন্ত পড়ার পর আপনি নিশ্চয়ই আমাদের ওপর ক্ষেপে গিয়েছেন—গান শোনা যাবে না, মুভি-সিরিয়াল দেখা যাবে না, প্রেম করা যাবে না, মেয়েবন্ধু থাকা যাবে না, ফেইসবুকে মেয়েদের সঙ্গে চ্যাট করা যাবে না, ইউটিউবে র‍্যান্ডমলি ভিডিও দেখা যাবে না… তাহলে করা যাবেটা কী? ইসলাম কি এতটাই কঠোর? ইসলামে বিনোদন বলে কিছু নেই? অবসরে করবটা কী?

.

অবসরে কী করবেন, মুভি-সিরিয়ালের বদলে কী দেখবেন, গানের বদলে কী শুনবেন তা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে ‘তবু হেমন্ত এলে অবসর পাওয়া যাবে’ সিরিজে। পড়ে ফেলুন।

কিন্তু তার আগে আপনার কিছু বিষয় জানা দরকার…

.

অ্যামেরিকা!  স্বপ্নের দেশ!

যে দেশের আকাশে-বাতাসে সুখ আর আনন্দ ভেসে বেড়ায়।

যে দেশের মানুষদের মতো হতে পারাটাই আমরা মনে করি আধুনিকতা, জাতে উঠতে পারে, জীবনের সার্থকতা। যাদের লাইফস্টাইল আমরা অন্ধের মতো অনুকরণ করি। আমাদের পরম আকাঙ্ক্ষিত সব উপাদানই আছে তাদের যাপিত জীবনে—বন্ধু, আড্ডা, গান, উদ্দাম পার্টি, গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড, ফ্রি মিক্সিং, ফ্রি সেক্স, মুভি, সিরিয়াল, ড্রাগস… সবকিছুই। বিনোদনের এক মহাসমুদ্রে ডুবে আছে এরা। আমাদের চোখে জীবনে সুখী হতে হলে যা যা দরকার, তার সবকিছুই আছে এই অ্যামেরিকানদের। সুখের যে সংজ্ঞা আমরা বানিয়েছি সেটা অনুযায়ী অ্যামেরিকানদের সবচেয়ে বেশি সুখী হবার কথা।

.

কিন্তু…

.

কিন্তু তারপরও কেন প্রতি ১০ জনে ১ জন অ্যামেরিকান তীব্র হতাশায় ভোগে?[3]

কেন প্রতিবছর ৪৪,১৯৩ জন অ্যামেরিকান আত্মহত্যা করে? প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২১ জন?[4]

কেন অ্যামেরিকার কিশোর-কিশোরীরা ব্যাপকভাবে আত্মহত্যাপ্রবণ হয়ে উঠছে?[5]

কেন অ্যামেরিকানদের আত্মহত্যার হার আগের চেয়ে প্রায় ২৪ শতাংশ বেড়েছে?[6]

কেন?

[1] রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা নজরলাগা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাও। কেননা, নজরলাগা সত্য।-ইবনু মাজাহ : ৩৫০৮

[2] বুখারি : ১৮০৬; মুসলিম : ৩৪৬৪

[3] Did you know 80% of individuals affected by depression do not receive any treatment?

– https://goo.gl/ip6Vw5

[4] Suicide Statistics – https://goo.gl/QAScBi

[5] Suicide rates climb in US, especially among adolescent girls -https://goo.gl/sXV9ud

[6] Suicide rate on the rise in U.S. – https://goo.gl/xkYC7L

শেয়ার করুনঃ