গ্র্যাজুয়েশন শেষ করতে খুব বেশি দেরি নেই। একসময় জীবনের একমাত্র লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য ছিল ভালো একটা চাকরি করে মনের মতো একজনকে বিয়ে করা। এখন চাকরির কথা মনে হলেই গা শিউরে ওঠে। চাকরি-টাকরি বাদ। ব্যবসা করব, ব্যবসা। ঘুমানোর আগে কাঁথা গায়ে দিয়ে ফুল স্পিডে ফ্যান ছেড়ে আমি ব্যবসার চিন্তা করি। মফস্বল শহরে অল্প টাকা নিয়ে ব্যবসা শুরু করব, তারপর আস্তে আস্তে ব্যবসা ফুলে ফেঁপে উঠবে। হেড কোয়ার্টারটা ওই মফস্বল শহরেই থাকবে, কিন্তু ব্রাঞ্চ খোলা হবে ঢাকাসহ দেশের সব বড় বড় শহরে। গাড়ি হবে, বাড়ি হবে, বউ হবে। প্রতিমাসে একবার কক্সবাজার, বছরে অন্তত একবার দেশের বাইরে ট্যুর। ভবিষ্যতের এই সুখময় দিনের কথা ভাবতে ভাবতে আমার চোখের ঘুম কখন হাওয়া হয়ে যায়! ভাগ্যিস আমার কাঁথাটা ছেঁড়া না; নাহলে নিন্দুকেরা মুখ বেঁকিয়ে বলেই বসত, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখ টাকার স্বপ্ন!

এই যে চিন্তা করতে পারা, ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারা আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কি বিশাল এক নিয়ামত সেটা কি আমরা কখনো ভেবে দেখেছি? কী গভীরভাবে মানুষ চিন্তা করতে পারে! কী ব্যাপক বিস্তৃত তার চিন্তাভাবনা! কত মোটাসোটা খটমটে, রসকষহীন বই সে লিখে ফেলেছে স্রেফ চিন্তা করেই! পাল্টে দিয়েছে পৃথিবীর গতিপথ!

সুবহান আল্লাহ্‌!!

চিন্তাশক্তিকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখা খুবই জরুরি। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পর্নোগ্রাফি/হস্তমৈথুন/ চটিগল্পের শুরুটা কিন্তু হয় লাগামছাড়া চিন্তাভাবনা থেকেই। রাতে ঘুমানোর আগে বা কোনো অলস মুহূর্তে কোনো মেয়ের কথা মনে হলো বা মনে হলো পর্ন ভিডিওতে দেখা কোনো দৃশ্যের কথা। আপনি সেই মেয়েকে নিয়ে বা দৃশ্য নিয়ে চিন্তাভাবনা করা শুরু করলেন। আপনার চিন্তাভাবনা ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠল। আপনার ভেতরের প্রবৃত্তিকে জাগিয়ে তুলল। ওই জঘন্য কাজগুলো করার জন্য প্রেশার তৈরি করল। একসময় আপনি সেই চাপের কাছে মাথানত করবেন, আত্মসমর্পণ করবেন শয়তানের কাছে।

তাই চিন্তার ব্যাপারে সাবধান। আপনার পদস্খলনের জন্য শয়তানের খুবই শক্তিশালী হাতিয়ার হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত, লাগামছাড়া চিন্তা। আবারও বলছি এটা খুবই শক্তিশালী হাতিয়ার। শয়তানের এই হাতিয়ার নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারলে আপনার আসক্তি কাটানো খুবই সহজ হয়ে যাবে। কোনো মেয়েকে নিয়ে বাজে চিন্তা করা বা পর্ন অভিনেত্রীদের নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগায় আনন্দ আছে, ক্ষণিকের মজা আছে। কিন্তু এর শেষ পরিণাম ভয়াবহ; জাহান্নামের লেলিহান শিখা।

যা যা করতে পারেন :

১) কিছুক্ষণ চিন্তা করে মজা নিই, পরে আর চিন্তা করব না, এ রকম মন-মানসিকতা থাকা যাবে না। বাজে চিন্তা আসামাত্রই আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কাছে আশ্রয় চাইতে হবে। চিন্তার ডালপালা গজাতে দেয়া যাবে না। চিন্তার ফোকাস সরিয়ে ফেলতে হবে, মানুষজনের সাথে কথা বলতে হবে, জায়গা পরিবর্তন করতে হবে বা কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে যেতে হবে।

২) এমন কিছু মেয়ে থাকে যাদের কথা মনে হওয়া মাত্রই আপনার ভেতরে পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন করার একটা চাপ তৈরি হয়। ওইসব মেয়েদের কথা মনে হওয়া মাত্রই আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কাছে আশ্রয় তো চাইবেনই সেই সাথে ওইসব মেয়েদের জন্যও দু’আ করবেন, যেন আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাদের হেদায়াত দেন, তাদের হৃদয়ের ক্ষতগুলো সারিয়ে তুলে পবিত্র জীবনযাপনের তাওফিক দেন। এভাবে দু’আ করাটা খুবই কার্যকরী। এর মাধ্যমে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে। ওই মেয়েগুলো আপনার কাছে এখন আর কেবল ভোগের মাল না; বরং সুখ-দুঃখ, হাসি-কান্না সব মানবীয় অনুভূতি নিয়ে রক্ত-মাংসের একটা জলজ্যান্ত মানুষ। ওদেরও ভালোবাসতে ইচ্ছে করে, ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে, স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে করে, প্রিয় মানুষটার কাঁধে মাথা রেখে জ্যোৎস্না দেখতে ইচ্ছে করে, আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) নাম স্মরণ করছেন, তার কাছে দু’আ করছেন। এ সময় শয়তান খুব একটা সুবিধা করে উঠতে পারবে না। আপনার ফোকাস চেইঞ্জ হয়ে যাবে।

আর আপনার দু’আর কারণে যদি আল্লাহ্‌ (সুবঃ) কাউকে হেদায়াত দিয়েই দেন, তাহলে কী বিপুল পরিমাণ পুরস্কার আপনার জন্য অপেক্ষা করবে সেটাও ভেবে দেখার বিষয়।

৩) বাজে চিন্তা যেন না আসে সে ব্যবস্থা করতে হবে। জাস্ট ফ্রেন্ড, জাস্ট ফ্রেন্ড খেলা, পবিত্র প্রেম, পবিত্র প্রেম খেলা বন্ধ করতে হবে।

“আমরা শুধুই বন্ধু, আমাদের মন পবিত্র, মনে কোনো পাপ নেই, আমরা ভাই-বোনের মতো”, প্লিয এ ধরনের হাস্যকর দাবি করবেন না। কেন এই মিছে অভিনয় করছেন? কেন নিজেই নিজেকে বোকা বানাচ্ছেন? আপনি জানেন যে, আমিও জানি আপনি যা বলছেন তা মিথ্যে। আপনি আপনার “জাস্ট ফ্রেন্ডদের” নিয়ে ফ্যান্টাসিতে ভোগেননি, তাদের নিয়ে অন্য বন্ধুদের সঙ্গে রসালো আলাপ করেননি, তাদের ভেবে হস্তমৈথুন করেননি এইসব মিথ্যে বলবেন না। যেখানে মেয়েদের দিকে তাকানোই হারাম সেখানে তাদের সাথে প্রেম করা, বন্ধুত্ব করা, মেলামেশা করার তো প্রশ্নই আসে না।

মেয়েদের সাথে অবাধ মেলামেশাও পুরুষের সেক্সুয়াল মোড অন করে। পুরুষ যখন কোনো নারীর সাথে ইন্টার‍্যাকশানে যায় তখনো তার শরীরের ভেতর টেস্টোস্টেরোন নিঃসৃত হয় এবং তাকে সেই নারীর সাথে চূড়ান্ত পর্যায়ের অন্তরঙ্গ হবার জন্য প্রস্তুত করে।[1] আর টেস্টোস্টেরোন নিঃসরণের মাত্রা যদি খুবই বেশি হয়, তাহলে ব্যক্তি অন্তরঙ্গ হবার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। আপনার “জাস্ট ফ্রেন্ড” বা প্রেমিকার সাথে তো আর ঠিক সেই মুহূর্তে অন্তরঙ্গ হতে পারছেন না, তাই বাথরুমে গিয়ে নিজেকে ঠান্ডা করছেন, ঠিক কিনা?

দয়া করে এগুলো বন্ধ করুন। পর্ন/হস্তমৈথুন/চটিগল্পের আসক্তি থেকে ফিরে আসা এমনিতেই খুবই কঠিন। আপনার এ কাজগুলোর জন্য ফিরে আসা আরও কঠিন, এমনকি অসম্ভবও হয়ে দাঁড়ায়।

৪) মাহরাম ছাড়া যত নারী আছে, তাদের সাথে পর্দা করুন। এমনকি নিকটাত্মীয়াদের সাথেও। মাহরাম হচ্ছেন এমন একজন যাকে বিয়ে করা হারাম। যেমন : ছেলেদের জন্য দাদি, নানি, মা, দুধ-মা, খালা, ফুপু, বোন, দুধ-বোন, শাশুড়ি, মেয়ে, নাতনি, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে, ছেলের বউ হলো মাহরাম।[2] বাকি সবাই গাইর মাহরাম। মাহরাম ছাড়া অন্য যেকোনো মহিলাদের অর্থাৎ গাইর মাহরাম মহিলাদের বিয়ে করা জায়েজ। ভাবি, চাচি, মামি, শালি, কাযিন (মামাতো বোন, চাচাতো বোন, খালাতো বোন) এরা সবাই গাইরে মাহরাম। এদের সাথে পর্দা করতে হবে।[3]

পর্ন-আসক্তি বিশেষ করে চটিগল্পের নেশা ছাড়তে চাইলে অবশ্যই অবশ্যই এদের সঙ্গে পর্দা করতে হবে। তা না হলে তাদের সঙ্গে আপনার কথোপকথন, চলাফেরা, ওঠাবসা আপনাকে চটিগল্পগুলোর কথা বা ইনসেস্ট পর্নের কথা মনে করিয়ে দেবে। চটিগল্প বা পর্নের বিরুদ্ধে আপনি যে প্রতিরোধ ব্যূহ গড়ে তুলেছেন, তা ভেঙে তছনছ হয়ে যাবে। আপনি বার বার ফিরে যাবেন চটিগল্প কিংবা পর্নের কাছে। শয়তান সব সময় এই সম্পর্কগুলো দিয়ে মানুষকে ধোঁকা দেয়।

তাই ভুল হয়ে যাবার (আল্লাহ্‌ না করুক) ভালো একটা আশঙ্কা থাকে। তা ছাড়া চটিগল্প পড়ার কারণে বা পর্ন দেখার কারণে আপনার মনে তাদের নিয়ে বাজে একটা চিন্তা সব সময় ঘোরাফেরা করে, আপনি বহু কষ্টে সেটি চাপা দিয়ে রাখেন। তাদের সঙ্গে মেলামেশা, কথাবার্তায় সেই চিন্তা ফুলে ফেঁপে উঠবে, বিস্ফোরণ ঘটতে কতক্ষণ?বলা যত সহজ পর্দা করাটা তত সহজ না।

সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে পর্দা মেনে চলার। একান্তই সম্ভব না হলে চেষ্টা করুন ইন্টার‍্যাকশান একেবারেই কমিয়ে ফেলতে। কাযিন, শালি, ভাবি, মেয়ে ক্লাসমেইট গল্প করতে এলে গোমড়া মুখে থাকুন, হ্যাঁ, হু-তেই কাজ সেরে ফেলুন। দেখবেন আস্তে আস্তে ওরা দূরে সরে যাবে। সবচেয়ে ভালো টেকনিক হলো “হুজুর” হয়ে যাওয়া। দাড়ি ছেড়ে দিন, মাথায় টুপি পড়তে শুরু করুন, গাইরে মাহরাম মহিলা দেখলেই চোখ নামিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন, দেখবেন কাযিন বা শালিরা আপনার সঙ্গে আড্ডা মারতে আসছে না, ভাবি আপনাকে দেখলেই মাথায় কাপড় দিয়ে আড়ালে চলে যাচ্ছেন। এ কাজগুলো যদিও এমনিতেই করা উচিত, তবুও যদি না করে থাকেন, অন্তত এ উসিলায় করে ফেলুন।

প্রথম প্রথম আপনার মনে হতে পারে কাযিন, ভাবি বা অন্য গাইর মাহরাম মহিলাদের থেকে এ রকম দূরে দূরে সরে থাকলে ওরা আপনাকে অসামাজিক ভাববে। ভাববে আপনি আলগা ভাব মারেন। পরে একসময় বুঝবেন ব্যাপারটা ঠিক উল্টো—এই দূরে দূরে সরে থাকার কারণেই তারা আপনাকে প্রচুর সম্মান করবে, শ্রদ্ধা করবে। ভালো ছেলের উদাহরণ দিতে গেলে আপনার নামটাই প্রথমে মনে পড়বে।

৫) সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চোখের হেফাযত করা। রাসূল (সাঃ) বলেছেন “নজর হচ্ছে শয়তানের তীর”[4]। শুধু এই চোখের হেফাযতের মাধ্যমে আপনি পর্ন-হস্তমৈথুন আসক্তি থেকে নিজেকে বাঁচাতে তো পারবেনই, সেই সঙ্গে আপনার জীবনটাই বদলে যাবে। এক সপ্তাহ চোখের হেফাযত করে দেখুন। পার্থক্যটা নিজেই টের পাবেন।

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “মানুষের শরীরে এমন একটি গোশতপিণ্ড রয়েছে যা ঠিক থাকলে পুরো

শরীর ঠিক থাকে; আর তা যদি নষ্ট হয়ে যায় তাহলে পুরো শরীর নষ্ট হয়ে। আর তা হলো ক্বলব বা হৃদয়।” (বুখারি : ৫২; মুসলিম : ৪১৭৮)

ক্বলব বা হৃদয় ঠিক থাকলে ঈমান-আমল সবই ঠিক থাকবে, আর ক্বলব কলুষিত থাকলে ঈমান-আমলের বারোটা বেজে যাবে। শয়তান তাই প্রথমেই আপনার হৃদয়ের দখল নিয়ে নিতে চায়, যেন আপনাকে ইচ্ছেমতো নাকে ছড়ি দিয়ে ঘোরানো যায়। চোখের দৃষ্টি হলো শয়তানের তুরুপের তাস। এর মাধ্যমে সে অতি সহজেই আপনার হৃদয়ের দখল নিতে পারে। আর একবার হৃদয়ের দখল করে নিতে পারলে সে আপনাকে দিয়ে তার ইচ্ছেমতো পাপ কাজ করিয়ে নেবে।

এই যৌন সুড়সুড়িতে সয়লাব সমাজে কি আদৌ চোখের হেফাযত করা সম্ভব?

জ্বী, কঠিন হলেও সম্ভব। রাস্তাঘাটে চলাচলের সময় মাটির দিকে তাকিয়ে হাঁটতে হবে, রাস্তার আশেপাশে, গার্লস স্কুলের ফুটপাতে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আড্ডা দেয়া যাবে না। যে জায়গাগুলোতে মেয়েদের আনাগোনা বেশি বা যে জায়গাতে ফ্রি মিক্সিংয়ের সম্ভাবনা বেশি সেই জায়গাগুলো পরিত্যাগ করতে হবে।

সাহাবা (রাঃ), তাবেঈ এবং আগের যুগের নেককার মানুষদের চোখের হেফাযত সম্পর্কে জানতে হবে। তাঁদের প্রতিযোগী হিসেবে নিতে হবে; উনারা পারলে আমি কেন পারব না…

মুভি, নাটক, গান-বাজনা থেকে দূরে থাকতে হবে, পত্রিকার বিনোদন-পৃষ্ঠা সযত্নে এড়িয়ে চলতে হবে। বেশ কার্যকরী একটা উপায় হলো, আপনি একদিনে কতবার চোখের হেফাযত করতে পারলেন না সেটা হিসাব করে রাখা। তারপর কাফফারা হিসেবে প্রতিবারের জন্য দু-রাকাত করে নফল সালাত আদায় করা। মনে করুন, আপনি কোনো একদিন মোট ১০ বার চোখের হেফাযত করতে পারলেন না, তাহলে এই ১০ বারের জন্য মোট ২০ রাকাত নফল সালাত আদায় করুন। এভাবে করতে থাকুন।

শয়তানের ধোঁকায় পড়ে আপনি চোখের হেফাযত করতে পারেননি, কিন্তু শয়তান যখন দেখবে আপনি প্রত্যেকবার চোখের হেফাযত না করার জন্য দু-রাকাত করে সালাত আদায় করছেন, তখন সে আফসোস করবে। আপনাকে নফল সালাতের সোয়াব থেকে বঞ্চিত করার জন্য সে নিজের গরজেই আপনাকে চোখের হেফাযত করতে সাহায্য করবে।

নামায আদায় করার এ টিপস শোনার পরে মনে খুবই ভালো অনুভূতি কাজ করে, “যাক বাবা! আর চোখের হেফাযত করতে সমস্যা হবে না।” কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, এই টিপসের ওপর আমল করা কষ্টকর। আপনি সারাদিন মেয়েদের দিকে ইচ্ছেমতো তাকালেন, রূপসুধা পান করলেন এই ভেবে যে, “আমি রাতে তো নামায আদায় করে নেবই কাফফারা হিসেবে”, কিন্তু শেষমেষ দেখবেন নামায আর আদায় করা হয়ে উঠবে না। আমলের ব্যাপারে আন্তরিকতা না থাকলে চোখের হেফাযত আর করা হয়ে উঠবে না। তাই কঠোর প্রতিজ্ঞা করতে হবে যে ১০০ রাকা’আত নামায হলেও আপনি ১০০ রাকা’আত নামায আদায় করবেন।

পর্ন ভিডিও দেখা, হস্তমৈথুনের দিকে ধাবিত করার উল্লেখযোগ্য আরেকটি মাধ্যম হলো ইউটিউব। আপনার মনে কোনো খারাপ উদ্দেশ্য নেই, স্রেফ একটা ভালো ভিডিও দেখার জন্য ইউটিউবে বসবেন, তারপর সাজেশান লিস্টে কিছু ভিডিও উঁকিঝুঁকি মারতে থাকবে। আপনি সেদিকে তাকাতে না চাইলেও মাঝে মাঝে চোখ চলে যাবে। আর তখনই শয়তান এসে ক্যাঁক করে ধরবে। আর এটা বলবেন না যে, ইউটিউবে ১০ মিনিটের জন্য ভিডিও দেখতে বসে আপনি কেবল ১০ মিনিটই বসে থাকেন। একবার ইউটিউবে বসলে এক-দেড় ঘণ্টা কোন দিক দিয়ে চলে যায়, টেরও পাওয়া যায় না। শুধু শুধু সময় নষ্ট। তারচেয়ে এই সময়ে কিছুটা আঁতলামি যদি করতেন, তাহলে আপনার সিজিপিএ-টা স্বাস্থ্যবান হতো, ভালো একটা জব পেতেন আর কোনো রূপসী কন্যার বাবার মনটাও হয়তো ভবিষ্যতে গলত।

অনেক সময় অবশ্য কোনো উপায় থাকে না। কোনো টিউটোরিয়াল দেখার জন্য বা ভালো কোনো লেকচার শোনার জন্য ইউটিউবে বসতেই হয়। পরামর্শ থাকবে বিসমিল্লাহ বলে ব্রাউযিং শুরু করুন। ভালো হয় K9 ইন্সটল করা থাকলে। চাইলেও আজেবাজে ভিডিওগুলোতে অ্যাক্সেস করতে পারবেন না।[5]

অবসর সময়ে কখনো ইউটিউবে বসে র‍্যান্ডমলি ভিডিও দেখবেন না (বাক্যটা কয়েকবার পড়ুন, মাথায় গেঁথে নিন )। অবসর সময়ে খুব বেশি বেশি কুমন্ত্রণা দেয় শয়তান, তার ওপর যদি আপনাকে ইউটিউবে র‍্যান্ডমলি ভিডিও দেখা অবস্থায় পায়, তাহলে তো ওর পোয়াবারো। ইউটিউবের ফাঁদ থেকে বাঁচার উপায় নিয়ে আর বিস্তারিত আলোচনা পাবেন বিষে বিষক্ষয় নামক প্রবন্ধে।

[1] Desires And Plesures Decoded, Documentry by Discovery Channel

[2] সূরা নিসা; ৪ : ২৩

[3] https://bn.wikipedia.org/wiki/মাহরাম

[4] মুস্তাদরাক হাকিম: ৭৮৭৫তাবারানি মুজামুল কাবির: ১০৩৬২

[5] বিষে বিষক্ষয় দ্রষ্টব্য।

শেয়ার করুনঃ