পর্নোগ্রাফি একটি সামাজিক মহামারি ব্যাধি। শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক কেউ এর প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, ইন্টারনেট এর মাধ্যমে অপ-সংস্কৃতির অবাধ প্রবেশ এর প্রধান কারণ।

পর্নোগ্রাফির ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা আমাদের উদ্দেশ্য। মানুষ পর্নমুভির ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে সচেতন হবে এ আশায় ব্যক্তিগতভাবে পর্নমুভি দেখার ক্ষতিকর ফলাফল ভোগ করেছেন এমন অনেকেই  তাদের কাহিনী আমাদের সাথে নির্দ্বিধায় শেয়ার করেছেন।

তেমনি একটি সত্য কাহিনী টাইসন নামের(নাম পরিবর্তন করা হয়েছে)একজনের বাস্তব জীবন থেকে নেয়া। যেটি তার অতীতের ড্রাগস ও পর্নমুভি আসক্তির সাথে সংগ্রামের । টাইসনের গল্পটি আমরা বিরল ও অদ্ভুত ঘটনা বলতে পারতাম। দুর্ভাগ্যবশত, আমরা সারা বিশ্বর শিশু, তরুণ, ও প্রাপ্তবয়স্ক থেকে যে হাজার হাজার মেইল এবং সরাসরি পত্র পেয়েছি তার বেশীরভাগে দেখা যায়, পর্নমুভি আসক্তির অভিজ্ঞতা সবক্ষেত্রে অনুরূপ।

…… আমি এককালে  ড্রাগস আসক্ত ছিলাম ।সেই আসক্তি কাটিয়ে উঠেছি অনেক দিন হল । ড্রাগসের সরাসরি শারীরিক ও মানসিক ক্ষতির অভিজ্ঞতা আমার হয়েছে। আমি বেঁচে আছি এজন্য নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি।

যদি আপনি আমাকে পাঁচ বছর আগে জিজ্ঞেস করতেন, আমি পর্ন মুভিকে কখনোই আসক্তি ও ড্রাগস হিসেবে বিবেচনা করতাম না। সত্যি কথা বলতে, আমি আপনার কথা হেসে উডিয়ে দিতাম। কিন্তু  আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি   পর্ন মুভি, ড্রাগসের মতোই ক্ষতিকর

আমি ভাবতাম পর্নোগ্রাফি  জীবনের একটা স্বাভাবিক অংশ ।  আমি মনে করতাম পর্ন মুভি ক্ষতিকর নয়। পর্নমুভি আমাকে  তো আমাকে বলছে না যাও কাউকে  খুন করে আসো বা   কারো ক্ষতি কর ।

কিন্তু একসময়  আমি একটি কঠিন সত্য আবিষ্কার করলাম  পর্ন মুভি আমার স্বাভাবিক জীবন যাত্রার ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে আমি রক্ত-মাংসের মানুষ ভেবে কোন  নারীর দিকে তাকাতে পারতাম না, তাকে শুধু কেনা-বেচার বস্তু ও কামনার আগুন উস্কে দেওয়ার সামগ্রী হিসেবে দেখতাম। আমি নিজের উপর আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছিলাম না এবং এ ধরনের চিন্তাকে আমি যত বেশি প্রশ্রয় দিতাম তত বেশি পর্ন মুভির প্রতি ক্ষুধা বেড়ে যেত।

কিন্তু, ততক্ষণ আমি এটা থামানোর চেষ্টা করিনি, যতক্ষণ পর্যন্ত আমি পর্ন মুভি আসক্তিকে  সত্যিকারভাবে ড্রাগস আসক্তির অনুরূপ হিসেবে দেখিনি। কোন এক বিকেলে,  যৌন আবেদনময়ী পোশাকে এক আকর্ষণীয় নারীকে দেখে আমি কামাতুর হয়ে গেলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে আমি নারীর শরীর  পেতে চাইলাম।  এই অনুভূতি থেকে মুক্তি পেতে কিছু পর্নমুভি দেখতে চাইলাম। আমি ইন্টারনেটে আমার প্রিয় পর্ন সাইটে লগ অন করার জন্য তাড়াতাড়ি কম্পিউটারের কাছে  এ ছুটে গেলাম। আমি কোন কিছু পরোয়া করছিলাম না, আমি যে কোন উপায়ে শুধু পর্ন মুভি অথবা সেক্স চেয়েছিলাম। যখন আমার অবস্থা স্বাভাবিক হল ঠিক ঐ মুহূর্তে আমার মনে হল আরে  আমি একসময় ড্রাগ নিতে দেরি হলে যেরকম অস্থির হয়ে যেতাম , শরীরের প্রচন্ড চাপ অনুভব করতাম পর্ন মুভির ক্ষেত্রেও তো সেরকমটা হচ্ছে ।   আমি বুঝতে পারলাম যে আমি নিজের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছি, এবং পর্ন মুভির  আসক্তি আমাকে শেষ করে ফেলেছে।

দুর্ভাগ্যবশত, এই চোখ-খুলে দেওয়া অভিজ্ঞতাটা অনেক দেরিতে হল। ড্রাগস আসক্তির চেয়ে পর্ন মুভি আসক্তি নির্মূল করতে আমার আরও অনেক বেশি বছর লেগেছিল। মনে করে দেখুন পূর্বে আমি বলেছিলাম যে আমার পর্ন  দেখা কাউকে আঘাত করছে কিনা, হায়! আমি কতই না ভুল ছিলাম ? আমার পর্ন  আসক্তি আমার স্ত্রী ও সন্তানের প্রায় অপূরণীয় ক্ষতি করেছে। এই দুঃসহ অভিজ্ঞতা পাড়ি দেওয়ার সময় আমার অনেক বার মনে হয়েছে আত্মহত্যা করে ফেলি। কারন আমার মনে হত সম্ভবত আমি আর কখনো সাভাবিক জীবন ও সুস্থ সম্পর্কে ফিরতে পারবনা।

অনেকেই মনে করেন পর্ন মুভি শুধু  মজা, সেক্স, ও স্রেফ বিনোদনের জন্য । কিন্তু  এটা মোটেও ঠিক না । প্রায় সবাই জানে যে, ড্রাগস নেওয়া আপনার জন্য ভাল নয়, কিন্ত তারা কি জানে পর্ন মুভি আসক্তি ঠিক একই ভাবে আসক্তিপূর্ণ ও প্রিয়জনের সাথে সম্পর্ক বরবাদ করে দেয়? নিজে জেনেছি যে, ড্রাগস আসক্তির চেয়ে   পর্ন  আসক্তি থেকে রিকভার করা অধিকতর কঠিন। যারা আনন্দময় জীবন ও সম্পর্ক চায়, তাদের উচিত যে কোন মূল্য পর্ন মুভি থেকে দূরে থাকা। যদি আপনি ইতোমধ্যে এতে জড়িয়ে পড়েন তবে দ্রুত বেরিয়ে পড়ুন এবং সাহায্য নিন। এটা আপনাকে কখনো আনন্দ দেবেনা, বরং আরও বেশি ক্ষতি করবে। পর্ন মুভির আসক্তি থেকে  মুক্তি পাবার পর আমি  নতুন করে বাঁচতে শিখেছি , নারীদেরকে সম্মান করতে শিখেছি । জীবনটা আমার কাছে এখন অনেক বেশি মধুর মনে হয় ।

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

মূল লিখাটি এই সাইট থেকে সংগৃহীত- https://fightthenewdrug.org/blog/

পড়ুন-

মাদকের রাজ্যে- https://bit.ly/2N4ONzA

নীল রঙের অন্ধকার (প্রথম কিস্তি): https://bit.ly/2NAWPjh
নীল রঙের অন্ধকার (দ্বিতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2xg34yS
নীল রঙের অন্ধকার (তৃতীয় কিস্তি): https://bit.ly/2x6jBFY
নীল রঙের অন্ধকার (চতুর্থ কিস্তি): https://bit.ly/2x7BEvA
নীল রঙের অন্ধকার (পঞ্চম কিস্তি): https://bit.ly/2x7WuuS
নীল রঙের অন্ধকার (ষষ্ঠ কিস্তি): https://bit.ly/2xf97TY
নীল রঙের অন্ধকার (সপ্তম কিস্তি): https://bit.ly/2p3UUFS
নীল রঙের অন্ধকার (অষ্টম কিস্তি): https://bit.ly/2xf8VUK
নীল রঙের অন্ধকার (নবম কিস্তি): https://bit.ly/2QquLgS
শেয়ার করুনঃ