কিশোর আলোঃ ফ্রি-মিক্সিং প্রপাগাণ্ডা

.

অনেককাল আগের কথা, তখন হাইস্কুলে পড়ি। কোচিং, নোটিং আর পড়াশুনায় তুমুল প্রতিযোগিতা করে বেড়ানো সেই সময়টাতে আনন্দের অংশটুকু ছিল স্কুলে-কোচিংয়ে বন্ধুদের সাথে গল্পসল্প করা। মোবাইল গেম, কার্টুন, টিফিন সময়ে নিজেদের ক্রিকেট ম্যাচের হিসেবনিকেশ – এসব নিয়েই আলাপ হতো আমাদের। আমরা ছিলাম বয়েজ স্কুলে।

কয়েকজন ছিল ক্লাসের বইয়ের নিচে লুকিয়ে তিন গোয়েন্দা, হিমু, জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশান পড়তো। স্যারের কাছে ধরা খেয়ে ওদের মাঝে মাঝেই বেত খেতে হতো। কিন্তু ওরা থামতো না, পরে আবার পড়তো। বুঝতাম না কী এমন নেশা ছিল ওসব বইয়ে! ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলে ওদের কাছে চেয়ে কয়েকটা বই পড়েছিলাম। যদিও ধৈর্য্যে কুলাতো না বলে সব মিলিয়ে ওসব বই কয়েকটার বেশি পড়া হয় নাই, তবুও একটা বিষয় ঠিকই বুঝেছিলাম – নেশা… ভিন্ন জগতের নেশা; কেউ চাইলে এই নেশার জগতে প্রবেশ করে অনেকগুলো সময় হারিয়ে ফেলতে পারে।

একবার দেখলাম বন্ধুরা কী যেন নিয়ে শতধা ব্যস্ত হয়ে উঠছে। খবর নিয়ে দেখি গণিত অলিম্পিয়াড – সেটারই নাকি রেজিস্ট্রেশন চলছে। আমার কেন যেন ইচ্ছাই করলো না দিতে। অ্যাকাডেমিকের জ্বালাতেই হাঁসফাঁস, এর উপর আবার এক্সট্রা কারিকুলার! দরকারই নাই! আলহামদুলিল্লাহ আমার পরিবার থেকেও অ্যাকাডেমিকের বাহিরের এসব বিষয়ে চাপ দেওয়া হয় নাই কখনও। কিন্তু…

গণিত অলিম্পিয়াড থেকে ফিরে এসে বন্ধুদের আলোচনার টপিকগুলো হঠাৎ বদলে গেল। সেখানে গিয়ে কোন মেয়েকে কার ভাল লেগেছে, কে আবার কার দিকে তাকিয়ে ছিল এসব হয়ে গেল আলোচনার টপিক! আমি যেহেতু যাই নি, তাই সেসব আলোচনায় নীরব শ্রোতা হয়ে থাকতাম কেবল। এরপর বছরের পর বছর পেরিয়েছে। একে একে শুনেছি ফিজিক্স অলিম্পিয়াড, ভাষা প্রতিযোগিতা, ছোটদের আইটি উৎসব হেনতেন আরও অনেককিছু… আর পরে শুনেছি নারী নিয়ে মুখরোচক সব আলোচনা-গল্প… বারংবার। হাতেগোণা দুয়েকজনের কাছ থেকে না, বরং ভাল ছাত্র, মিডিয়াম ছাত্র সবার থেকেই। এসএসসির পর আবিষ্কার করেছিলাম এতকিছুর পেছনের হিরোদের(!) – প্রথম আলো, প্রথম আলোর বন্ধুসভা, জাফর ইকবাল, আনিসুল হক প্রমুখেরা মিলে এতসবকিছু বছরের পর বছর ধরে করে যাচ্ছে।

.

আজ যা নিয়ে লিখছি তা হল দেশের ৯৫% মানুষের সন্তানদের সামাজিকীকরণে দ্বীনবিকৃতির এক সফলতম নীলনকশার কথা। আলো-জাফর-আনিসুলদের এক দীর্ঘমেয়াদি নীলনকশা যার প্রভাব ইতোমধ্যেই যুবসমাজে আরম্ভ হয়েছে।

ফ্রি-মিক্সিংকে সমাজে সহজ করতে নিরলসভাবে কাজ করে গেছে, এখনও যাচ্ছে এই প্রথমালো-জাফর-আনিসুল গং। আর এক্ষেত্রে তারা নিঃসন্দেহে সফলও বটে… এদেশে চালানো সবচেয়ে সফল প্রপাগান্ডা বললেও হয়তো ভুল হবে না। আর এই প্রপাগান্ডার টার্গেট অডিয়েন্সও স্পর্শকাতর – শিশু কিশোররা… যারা কিনা সহজেই প্রোগ্রামড হয়, যারা কিনা কিছুদিন বাদেই সমাজের হাল ধরবে।

.

এক পলকে কর্মপদ্ধতিঃ

প্রথমে দেশের সর্বাধিক প্রচলিত দৈনিকে শিশু-কিশোরদের জন্য সাপ্তাহিক আয়োজন। এরপর স্কুল-কলেজে বিভিন্ন জ্ঞানগর্ভ অলিম্পিয়াডের নামে ছেলেমেয়ের অবাধ মেলামেশার সুযোগ করে দেওয়া। জাফর ইকবাল, আনিসুল হকদের মত সেক্যুলার শিশুসাহিত্যিক, কলামিস্টদের এনে সফল ক্যাম্পেইন করা… এভাবে বছরের পর বছর চালিয়ে যাওয়া। নিজেদের প্রচারিত দৈনিকে ফলাও করে করে ফিচার করা। স্বেচ্ছাকাজের জন্য বন্ধুসভার আয়োজন করে আবার উঠতি ছেলেমেয়েদের একসাথে করে দেওয়া… এ যেন এক মহাসমারোহ। কিন্তু তাতেও যেন হচ্ছিল না, তাই শিশু কিশোরদের জন্য আলাদা পত্রিকাই বের করা হল – কিশোর আলো।

.

‘কিশোর আলো’ মাসিক পত্রিকাটি আসার পর আলো-জাফর-আনিসুলদের প্রপাগাণ্ডা চালানো যেন অনেক সহজ হয়ে গেল। এক অফিস থেকে সব পরিচালনা। আগেই গড়া কিছু ইয়াং আর ট্যালেন্টেড ছেলেপেলেদের দিয়ে একটার পর একটা ক্যাম্পেইন তারা করে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে একটা আলাদা জগত। কথা না বাড়িয়ে পাবলিক কিছু কার্যকলাপ তুলে ধরি।

.[১] ‘কিশোর আলো’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজে ঢুকলেই দেখা যাবে একদল ছেলেমেয়ে একসাথে বৃষ্টিতে ভিজছে। এটাই নাকি ছেলেবেলার ভাল থাকার নমুনা ছবি।

নোটটি লিখাকালীন সময়ে কিশোর আলোর আগস্ট, ২০১৭ সংখ্যার প্রচ্ছদ দিয়ে ফেসবুক পেইজ সাজানো হয়েছিল। এখানে ছবিটি ঝাপসা করে দেওয়া হল। ছবিতে দেখা যায়, ছেলেমেয়েরা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজছে। এটাই নাকি ছেলেবেলার ভাল থাকা।

.

[২] কোন স্তরের স্বেচ্ছাসেবী জুটিয়েছে তারা? তাদের ভাষায়,

“আমি এমন জীবন প্রাণ বাজি দিয়ে কাজ করা ভলান্টিয়ার এর আগে দেখিনি। …শিরোনামহীনের কনসার্ট চলার সময় ষন্ডামার্কা ছেলে দর্শকরা যখন স্টেজের কাছাকাছি এসে ধাক্কা দিয়ে স্টেজে ওঠার চেষ্টা করছে তখন আমি দেখি শুকনা পাতলা এক বাচ্চা মেয়ে ভলান্টিয়ার (একটু জোরে বাতাস এলে যে উড়ে চলে যাবে) তাদের একাই ধাক্কা দিয়ে পেছনে সরানোর চেষ্টা করছে। আমি আতঙ্কিত হয়ে তার ঘাড়ে থাবা দিয়ে পেছনে এনে বললাম, তুমি এদিকে এসে দাড়াও, মারা যাবা তো! সে বলল, ভাইয়া এরা তো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। আমি স্টেজের দায়িত্বে থাকা ভলান্টিয়ার। আমি বললাম, রাখো তোমার শৃঙ্খলা, তুমি এদিকে এসে দাড়াও। দ্রুত আশে পাশে তাকালাম আমাদের কোন ষন্ডামার্কা ভলান্টিয়ার দেখা যায় কিনা। তাকিয়েই পেয়ে গেলাম…তাহমিদ।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, পুরো অনুষ্ঠানটা সফল হয়েছে এর ভলান্টিয়ারদের আন্তরিকতার জন্য, কিশোর আলোর প্রতি তাদের ভালোবাসার জন্য…”

নিচে আরও দেখবেন যে মেয়েটার কথা বলা হয়েছে সে আবার কমেন্টও করেছে। বোন তুমি বুঝলে না জান্নাতের বিনিময়।

(https://tinyurl.com/y74p5kcm) [পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া না হলে লিঙ্কে কোনো সমস্যা নেই]

.

[৩] তাদের অফিসে ছেলেমেয়ে একসাথে ‘মহাসমারোহে’ নাচগানের মহড়া চলে।

.

ছেলেমেয়েরা একসাথে যেখানে এভাবে নাচগানে মেতে উঠে, সেখানে বাবামায়েরাই কীভাবে তাদের সন্তানদের পাঠান সেই প্রশ্নই আরও কষ্টদায়ক। নিজেদের সন্তানদের ব্যাপারে নিজেরা এমন সিদ্ধান্ত নিলে আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন আপনি?

https://tinyurl.com/yc9kqjbu (ফাহশা ভিডিও)

.

[৪] তাদের চালানো ফ্রি-মিক্সিং প্রপাগান্ডায় শহরের বিভিন্ন স্কুলের ছেলেমেয়েদের মধ্যে ‘চমৎকার সম্পর্ক’ (!) গড়ে উঠার ব্যাপারে তারা জানে না তা কিন্তু নয়। তারা নিজেরাই দায় এড়ানো পোস্ট দেয় –

“কিআর মিটিংয়ে আসা, ভলান্টিয়ার বা মডেল হওয়া ইত্যাদি করতে গিয়ে তোমাদের নিশ্চয় অনেক নতুন বন্ধু হচ্ছে। এক স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে চমৎকার সম্পর্ক হচ্ছে আরেক স্কুলের। এগুলো খুবই ভালো ব্যাপার। কিন্তু এখানে একটা বিষয় খেয়াল রাখবে। আর সেটি হলো, ফেসবুকে নতুন কাউকে অ্যাড করা কিংবা মোবাইল নম্বর দেয়ার মতো বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা। তোমার ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কাউকে অ্যাড করা বা না করা তোমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ অনূর্ধ্ব-১৮ বছর বয়সীদের জন্য বিশেষ প্রাইভেসির ব্যবস্থা রেখেছে এবং তাদের নিয়মানুযায়ী অপরিচিত কাউকে অ্যাড করা উচিৎও নয়। মিটিংয়ে একবার দেখা হলেই তুমি বুঝতে পারো না কে কেমন। সুতরাং নতুন বন্ধুত্ব হলেও ফেসবুকের মতো ব্যক্তিগত প্রোফাইলে অ্যাড করে নেয়া কিংবা নিজের মোবাইল নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ। কোনো ফেক আইডি যেন তোমাদের প্রোফাইলে ঢুকে না পড়ে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”

https://tinyurl.com/ybmaqr8n [পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া না হলে লিঙ্কে কোনো সমস্যা নেই]

.

[৫] দেশজুড়ে এমনভাবে এক জগত তৈরি করেছে তারা যে শিশুকিশোররা রীতিমত অন্ধভক্ত। বিদেশের ছেলেমেয়েদের মার্ভেল, ডিসি ইউনিভার্সের কমিক্সের ব্যাপারে অবসেশনের নানা ডকুমেন্টারি দেখেছি। এসব অপ্রয়োজনীয় বিষয়াদিরই বাংলা ভার্সন আর Obsession জাগার মত আয়োজন তৈরি করেছে এই আলুচক্র। এক ব্রেইনওয়াশড ছেলের ছবি আবার তারাই নিজেদের পেইজে দিয়েছে –

https://tinyurl.com/yb7fw3tu (লিঙ্কে সমস্যা নেই, যেতে পারেন) .

এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে যেন খুব ভালকাজে জীবন উৎসর্গ করা হয়েছে। অবশ্য যেকাজের ফলে পকেটে টাকা আসছে, সেটাকে এমনভাবে দেখানোই তো অস্বাভাবিক। কমেন্টগুলোও দ্রষ্টব্য।

.[৬] নিজের উঠতি ছেলেকে বা মেয়েকে কিশোর আলোর মডেল বানাতে চান? যেখানে টিকে গেলে তারা হয়তো দেশের পরবর্তী ফাহিশা ব্যক্তিত্ব, পরবর্তী তাহসান-মিথিলা হয়ে উঠবে। এই দেখুন তাদের মডেল চাওয়া পোস্ট –

পোস্টটির কমেন্ট দেখলেই বোঝা যায় ছেলেমেয়েদের চিন্তাভাবনা কীভাবে নষ্ট হচ্ছে। শিশু-কিশোর বয়স থেকেই মডেল হওয়ার জন্য ছেলেমেয়ে নিজেদের মোবাইল নাম্বার থেকে ফেসবুক আইডি পর্যন্ত বিলিয়ে দিতেও দ্বিধা করছে না।

পোস্টের কমেন্টগুলো তাদের সফলতারও পরিচায়ক।

.

[৭] Integration:

যেকোনো প্রপাগাণ্ডা সফল করতে হলে সবচেয়ে ভাল যে কয়টি বিষয়ে সবচেয়ে গুরুত্ব প্রয়োজন তার মধ্যে একটি হল সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয়াদির যোগসাজেশ বা Integration. এই কাজটিই সফলভাবে করার মাধ্যমে আজ এই অবস্থানে পৌঁছেছে আলু-জাফর-আনিসুল গংদের এই প্রপাগাণ্ডা। তারা শিশু-কিশোরদের অবসেশনের যত বিষয় রয়েছে, সেগুলো সব এই ‘কিশোর আলো’ প্লাটফর্মের নিচে এনেছে। কিশোর আলো কেবলই এক ম্যাগাজিন নয়, শিশু কিশোরদের শত আসক্তির আর ফ্রি-মিক্সিংয়ের এক নাম।

কমিক্সের ফেস্টিভাল (https://tinyurl.com/yb6qj2vw), তিন গোয়েন্দাসহ সেবা প্রকাশনী (https://tinyurl.com/ycdn3246), প্রতিবছর ‘কিআনন্দ’ নামক উৎসব (https://tinyurl.com/y9npwhlx), ফ্ল্যাশমব, ভলান্টিয়ারদের নিজেদের কিভোজন সবমিলিয়ে ফ্রি-মিক্সিং আর ফিতনাহের যত উপায় আছে সবকিছুর এক অসামান্য Integration করা হয়েছে।

.

সুবহানআল্লাহ! একটা সময় ছিল যখন অর্থাৎ, গানবাজনা, কমিক্স, তিন গোয়েন্দাসহ সেবা প্রকাশনীর বই – এসব বিষোয়গুলো সন্তান নষ্ট হওয়ার মাধ্যম মনে করা হতো। কিন্তু আজ ওদের নীলনকশার সফল বাস্তবায়নে ধীরে ধীরে এগুলোই এখন মহাসমারোহে প্রচার-প্রসার করা হচ্ছে। তাও আবার বলেও দেওয়া হচ্ছে যে তাদের টার্গেট অডিয়েন্স শিশু-কিশোর !

[৮] মিটিং ও প্রোফাইলিংঃ

প্রতি মাসেই ভক্ত ছেলেমেয়েদের একসাথে করে মিটিং করা হয়। অভিভাবকদের সম্মতি নিতে বলা হয় কড়াভাবে, কিন্তু মিটিং করে ২০ বছরের নিচের ছেলেমেয়ে আর কিশোরআলোর ভলান্টিয়াররা! আর রমজানে হলে তো ছেলেমেয়েদের একসাথে ইফতার পার্টি (!) করানো হয়। মিটিংয়ের বাহানায় একইসাথে চলে তাদের প্রোফাইলিং প্রজেক্ট আর বিক্রি বাড়ানোর পাঁয়তারা। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়দের পার্সোনাল নাম্বার থেকে শুরু করে ছবি, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সবকিছুর এক অনবদ্য প্রোফাইলিং করে যাচ্ছে তারা। অভিভাবকরা যেন কিছুই বুঝেন না, কোনোই বাধা দিচ্ছেন তারা। এই একটা ছবিতেই তাদের কাজকর্মের ভয়ংকর পুরোচিত্রই সহজবোধ্য। (https://tinyurl.com/y7j7oh6f)

অংশগ্রহণের নিয়মাবলী:

১. ক) যারা আগে কখনো কিআর মিটিংয়ে অংশ নাওনি, তারা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য আমাদের পেজের ইনবক্সে পাঠাবে। যারা আগে মিটিংয়ে অংশ নিয়েছ, কিন্তু তথ্য পাঠাওনি, তাদেরও এই তথ্য পাঠাতে হবে। তথ্যগুলো হলো:নিজের নাম, পূর্ণ ঠিকানা, মোবাইল, বয়স, শ্রেণি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম, ফেসবুক আইডির লিংক (যদি থাকে) ও আগ্রহের বিষয়।প্রতিটি তথ্য লিখে মেসেজের মাধ্যমে আমাদের পেজের ইনবক্সে পাঠাবে। সঙ্গে তোমার একটি ছবিও দিবে (যে ছবিতে তোমাকে চেনা যাচ্ছে, সাইড থেকে তোলা বা মুখ ঢাকা স্টাইলিশ ছবি না)। ওয়াল বা স্ট্যাটাসে কোনো তথ্য দিবে না, শুধু ইনবক্সেই দিবে। তোমার এই তথ্যগুলো মিটিংয়ে আসা ও কিআতে ভবিষ্যতে কাজ করার জন্য তোমার রেজিস্ট্রেশন হিসেবে গণ্য হবে।

৪. সবাইকে কিশোর আলোর জুন সংখ্যাটা পড়ে আসতে হবে। মিটিংয়ে কিআ বিষয়ক আলোচনা হবে এবং সবাইকে সে আলোচনায় অংশ নিতে হবে। কিশোর আলো পড়ে আসা মিটিংয়ে অংশ নিতে আগ্রহী সবার জন্য বাধ্যতামূলক

৮. কিশোর আলোর মনোনীত কেউ ছাড়া ২০ বছরের বেশি বয়সীরা মিটিংয়ে অংশ নিতে পারবে না। …

[কোনো কারণে পোস্ট ডিলেট করে দেওয়া হলেও প্রমাণের জন্য স্ক্রিনশট দেওয়া হল]

.

এছাড়াও তারা ২০১৩ সালে করা প্রথম মিটিং থেকেই ছেলেমেয়েদের একত্র করে মিটিং করে আসছে। আর সবই হচ্ছে পাবলিকলি।

.(https://tinyurl.com/y72yr8d5 – ফাহশা ছবি, এখানে ঝাপসা করে দেওয়া হল)

.

[৯] স্কুলগুলোরও সমন্বয়

আপনার সন্তানকে স্কুলে পাঠাবেন আর ভাববেন স্কুলই তার সব দায়িত্ব নিয়ে নিচ্ছে! এই আলু গং স্কুলগুলোর মাধ্যমেই তো সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। প্রথম প্রথম কেবল অলিম্পিয়াডগুলোতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন স্কুলগুলোতে ছেলেমেয়ে একসাথে করে আনন্দফূর্তিরও আয়োজন করা হচ্ছে। আর স্কুলগুলোও হাসিমুখে এদের কাছে আপনার বাচ্চাসহ পুরো স্কুল ছেড়ে দেয় !

চিনে নিন তাদের প্রেফারড স্কুলগুলো। এসব স্কুলে আয়োজন করতে করতে সম্পর্ক এতই ভাল হয়ে গিয়েছে যে ঘটা করে পোস্ট দিয়ে কিশোর-কিশোরীদের মতামত চাওয়া হয়।

.

[১০] বিবিধ!

শুধু ঢাকাতেই যে কার্যক্রম সীমাবদ্ধ তা কিন্তু নয়। তারা ২য় প্রধান শহর চট্টগ্রামেও পৌঁছে গেছে অনেক আগেই। সেখানে একাধিকবার মিটিং হয়েছে, সেখানকার ফ্যান ছেলেমেয়েদ্র নিয়ে ফেসবুকে আলাদা গ্রুপও আছে তাদের। এছাড়া বাকিগ্রুপগুলোও দেখতে পারেন। এখানে যে ‘বুক ক্লাব’গুলো দেখছেন সেগুলোর কোনোটিই কিন্তু ছেলেমেয়েদের এমন কোনো বই পড়ার কথা বলে না, যেগুলো তাদের বাস্তবিক আত্নিক উন্নতি করবে। আখিরাতের উনতির কথা তো বহু দূরের কথা! এই গ্রুপগুলো শিশু-কিশোরদের মধ্যে জাফর ইকবাল, আনিসুল হক, হুমায়ূন আহমেদদের প্রমোট করে বেড়ায়।

.

তাদের সর্বশেষ সংযোজন Kishor Alo Film & Photography Club (আরেক ফাহশা পেইজ) থেকে ছেলেমেয়েদের অভিনয় শিখানো, নিজেদের বানানো শর্টফিল্ম আপলোডিয়ে উৎসাহ যোগানো, কর্মশালার আয়োজন করে অভিনয় আর শ্যুটিং সংক্রান্ত নির্দেশন সহ সম্ভাব্য সমস্ত পদক্ষেপই তারা করছে সাধ্যমত।

.

শেষকথাঃ

পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখে যাওয়া সম্ভব। কিন্তু এখানেই ক্ষান্ত হলাম। আমাদের ছেলেমেয়েগুলোকে নিয়ে কিন্তু ২০-৩০ বছর আগে থেকেই নীলনকশা শুরু হয়ে গেছে। এরা একদিনেই এসব করে নাই আর তা সম্ভবও না। একসময় ছেলেমেয়ে একে অপরের সাথে কথা বলতে লজ্জা পাবার স্বাভাবিকতা আজ নষ্ট হয়ে বরং দিব্যি সাথে ঘোরাফেরা আর মেলামেশাই হয়ে গেছে স্বাভাবিক। আর এর প্রভাব ইতোমধ্যেই যুবসমাজে লক্ষণীয় হচ্ছে। আর শুধু যে প্রথম আলো তার বন্ধুসভার মাধ্যমে এসব করে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়। কালের কণ্ঠরাও শুভসঙ্ঘ এর মাধ্যমে একই পথে হাঁটছে, কেবল নতুন বলে এখনও আলুর মত সফল হয় নি। কিন্তু ধীরে ধীরে তারাও সেদিকেই এগোচ্ছে।

.

যারা কিশোর আলো বা জনপ্রিয় পত্রিকাগুলোর এতসব আয়োজনের ফ্যান তাদের বলি – ভাই ও বোন আমার, তোমাদের জান্নাত চাই বলেই এই অপ্রিয় কথাগুলো বললাম। আল্লাহ তো আমাদের জান্নাতের জন্য সৃষ্টি করেছেন। এখন এইসব তামাশার অংশীদার না হয়ে একটু রয়েসয়ে চললেই অনেক ভাল কিছু অপেক্ষা করছে আমাদের জন্য। যে জান্নাতকে কোনো মানবমন ধারণ করতে পারে না, সেই চিরসুখের জায়গার জন্য এতটুকু তো করাই যায়!

.

প্রিয় অভিভাবকগণ, নিশ্চয়ই আমাদের সন্তানেরা আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের নিআমত ও আমানতস্বরূপ। এবং আমরা সন্তানদের বিষয়ে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসিত হবো। তাই এব্যাপারে যেন আল্লাহকে আমরা ভয় করি আর নিজেরা যেন দাইয়্যুসে পরিণত হয়ে না যাই সেদিকে যেন খেয়াল রাখি, কেননা কিয়ামতের দিন তো আল্লাহ রব্বুল আ’লামীন দাইয়্যুসদের দিকে ফিরেও তাকাবেন না!

.

আল্লাহ আমাদের জিন শয়তান ও মানব শয়তানদের ওয়াসওয়াসা ও নীলনকশা থেকে হিফাজত করুন। আল্লাহ আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন এবং দ্বীনকে আঁকড়ে ধরার তাওফিক দিন।

. (ফাহশা ছবি আর ভিডিওতে কিশোর আলোর মূল পেইজ পরিপূর্ণ, তবু প্রমাণের জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। লিঙ্কগুলোর কন্টেন্ট কখনও ডিলিট করা হলেও ঝাপসা করে স্ক্রিনশট দিয়ে দেওয়া হয়েছে। দয়া করে কেউ গুনাহে জড়াবেন না)

======

লেখকঃ তানভীর আহমেদ 

==== ==

পড়ুনঃ নীল নকশা (প্রথম কিস্তি)- https://goo.gl/MLfx9j

শেয়ার করুনঃ