পর্নমুভি দেখা থেকে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না , মাঝে মাঝেই হারাম উপায়ে আপনার প্রবৃত্তির চাহিদা মেটাচ্ছেন ? এগুলো থেকে বের হয়ে আসতে চান কিন্তু পারছেন না ?

তাহলে দু’আ করতে থাকুন আল্লাহ্‌র কাছে । ইনশা আল্লাহ্‌ , আপনার রব আপনাকে নিরাশ করবেন না ।

‘আর তোমাদের রব বলেছেন , ‘তোমরা আমাকে ডাক , আমি তোমাদের জন্য সাড়া দেব। ’ {সূরা আল-মু‘মিন , আয়াত : ৬০ }

“আল্লাহ্‌ লাজুক দয়াবান । যখন কোন মানুষ তাঁর দিকে দু’খানা হাত উঠায় (দু’আ করতে) তাহলে তিনি তা ব্যর্থ ও শুন্যভাবে ফিরিয়ে দিতে লজ্জা পান ।
(তিরমিজী,ইবনু মাজাহ , ইবনু হিব্বান । হাদীসের মান -সহীহ )

এক লেকচার শুনেছিলাম । সেখানে তিনি বলছিলেন , “ যদি আপনি কোন পাপ কাজ থেকে দূরে সরে থাকার চেষ্টা করছেন বা রাসূল (সাঃ) এর কোন সুন্নাহ নিজের জীবনে নিয়ে আসতে চাচ্ছেন কিন্তু বিভিন্ন কারণে তাতে সফল হচ্ছেন না ।

তাহলে, আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) কাছে সাহায্য চান । রাতের গভীরে আপনার পাপের জন্য অনুতপ্ত হোন । রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পড়ে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) এর কাছে খালিশ অন্তরে দু’আ করুন , “ ইয়া আল্লাহ্‌ ! আমি ঐ কাজটা থেকে বেঁচে থাকতে থাকতে চাই কিন্তু আমার নফসের কারণে , শয়তানের ধোকার কারণে আমি সেই পাপ থেকে দূরে থাকতে পারছি না । আমার চারপাশের পরিবেশও বিরূপ । আপনি সবকিছুর উপরেই পূর্ণ ক্ষমতাবান, কাজেই আমাকে সেই কাজ থেকে দূরে সরে থাকার তৌফিক দান করুন ।

এই দু’আ করতে কি খুব বেশি কষ্ট হবে ? তেমন কোন সময় খরচ হবে ?
-না । কিন্তু সামান্য কষ্ট করে,সামান্য সময় ব্যয় করে আপনার করা এই দু’আ হাশরের ময়দানে আপনার কাছে অমূল্য ধন মনে হবে ।

হাশরের ময়দানে আল্লাহ্‌ (সুবঃ) তাঁর বান্দা জিজ্ঞাসা করবেন , “ হে আমার বান্দা! তুমি ঐ পাপ কাজটা কেন করলে ? কেন একাকী রুমের দরজা লাগিয়ে চোখের খিয়ানত করলে , হারাম জিনিস দেখলে , হারাম কাজে লিপ্ত হলে ?

বান্দা হয়তো উত্তর দিবে , “ ইয়া রব! আমি আমার নফসকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারতাম না । আমার চারপাশের পরিবেশের ছিল ফাহেশায় (অশ্লীলতা, বেহায়াপনা, নির্লজ্জতা) ছড়াছড়ি । আমার কি দোষ ?

আল্লাহ্‌ (সুবঃ) বান্দার এই উত্তর শুনে বলবেন, “ তুমি আমার কাছে কেন সাহায্য চাও নি ? আমি কি কুরআনে বলিনি আমি এই মহাবিশ্বের একচ্ছত্র অধিপতি ? সকল বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান (ইন্নাল্লাহা ক্বুল্লি শাইয়ীন ক্বাদীর)? কেন তুমি আমার কাছে চাওনি ?
আমি কি তোমার অন্তর পরিবর্তন করে দিতে পারতাম না ? চারপাশের ফাহেশা থেকে তোমাকে বাঁচাতে পারতাম না ?
বান্দা কোন উত্তর দিতে না পেরে চুপ হয়ে যাবে ।

তো ভাই ,আল্লাহ্‌র কাছে সাহায্য চান । তাহলে , হাশরের ময়দানে অন্তত আল্লাহ্‌কে (সুবঃ) এটা বলতে পারবেন , “ ইয়া আল্লাহ্‌! আমি তোমার কাছে সাহায্য চেয়েছিলাম , তোমার কাছে দু’আ করেছিলাম তুমি এখন আমাকে মাফ করে দাও।

আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করুন এভাবে যেন আপনি আল্লাহ্‌র (সুবঃ) সঙ্গে কথা বলছেন । ইয়া আল্লাহ! আমি সম্পূর্ণ ভাবে তোমার কাছে আত্মসমর্পণ করলাম , তোমার উপরই ভরসা করলাম। তুমি আমাকে ঐ পাপ থেকে বাঁচাও আর না হলে আমাকে হাশরের ময়দানে ঐ পাপের কারণে পাকড়াও করোনা ।

সুবহানাল্লাহ্‌ ভাই , এইভাবে দু’আ করলে আপনার শুধু লাভ আর লাভ । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) হয় সেই পাপ থেকে আপনাকে বাচাবেন আর না হলে তাঁর শাস্তি থেকে বাঁচাবেন । দুই দিক থেকেই আপনার লাভ ।                                                         ————-0—————-

সহীহে হাদীসে এসেছে বান্দা যখন আল্লাহ্‌র কাছে দু’আ করে এবং ফলাফলের জন্য ব্যস্ত হয়ে যায় , বলতে থাকে “কখন আল্লাহ্‌ আমার দু’আর উত্তর দিবেন, কখন আমি আমার কাঙ্ক্ষিত বিষয়টা পাবো, তখন তার দু’আর জবাব দেওয়া হয় না । (মুসলিম)
কাজেই আল্লাহ্‌র উপর থেকে আশা না হারিয়ে দু’আ করতে থাকুন । আপনার দু’আ ব্যর্থ হবে না ইনশা আল্লাহ্‌ .

 

শেয়ার করুনঃ