বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

খুবই অবাক লাগে যখন দেখি একদল মানুষ মাস্টারবেশনের পক্ষে প্রচারণা চালায়; ধর্মে নিষেধ করেছে তো কি হয়েছে, বিজ্ঞান আমাদের বলছে এটা শরীরের জন্য উপকারী , এর কোন ক্ষতিকর দিক নেই, মাঝে মাঝে মাস্টারবেট করলে শরীর ভালো থাকে, টেনশান মুক্ত থাকা যায় ব্লা ব্লা …… । পাশ্চাত্যের কিছু দেশে তো রীতিমতো স্কুলের বাচ্চাদের সেক্স এডুকেশানের নামে এই জঘন্য ব্যাপারটাতে উৎসাহী করে তোলা হয় । খুবই দুঃখ লাগে যখন দেখি আমাদের দেশেও মুসলিম নামধারী  আল্লাহর  কিছু অবুঝ বান্দা এর পক্ষে ফেসবুক , ব্লগে লিখালিখি করছে , ভিডিও বানাচ্ছে ।

বুকের ভেতর  খুব কষ্ট নিয়ে এই সিরিজটা শুরু করলাম আল্লাহর ইচ্ছায় । এই সিরিজে ইনশা আল্লাহ আমরা সবাইকে একটা ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করব আপাতদৃষ্টিতে মাস্টারবেশন আসক্তি খুব নিরীহ মনে হলেও কি ভয়ঙ্কর বিষে বিষাক্ত এই আসক্তি । প্রথম  দুই টা পর্বে আমরা এমন কিছু হতভাগ্য ভাইদের কথা আপনাদের জানাবো মাস্টারবেশন আসক্তি যাদেরকে ধ্বংসের গভীর এক খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিয়েছে । পরের কয়েকটি পর্বে আমরা আলোচনা করব  বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে মাস্টারবেশনের ভয়াবহতা । সবশেষে ইনশা আল্লাহ , ইসলাম এবং বিজ্ঞানের পয়েন্ট অফ ভিউ থেকে মাস্টারবেশনের ওপর একটা তুলনামূলক পর্যালোচনা করা হবে ।

আপনি আমন্ত্রিত ।

এক.

আমার বয়স ২৩ বছর আর আমি থাকি হন্ডুরাসে । ১০ বছর ধরে আমি মাস্টারবেট করে আসছি । এতে  আমি পুরোপুরি আসক্ত ।

প্রত্যকেদিনই আমাকে মাস্টারবেট করতে হয় ।  দুইবার , একটানা চার দিন ছিলাম  মাস্টারবেট না করে ।

মাস্টারবেশন আসক্তি আমার স্বাস্থ্য,আমার প্রজনন অংগ আর সামাজিক জীবনের খুব ক্ষতিসাধন করেছে ।

মাস্টারবেশন আসক্তি আমার যে ক্ষতিগুলো করেছেঃ

১) কোন গার্লফ্রেন্ড জুটাতে পারিনি । (https://www.youtube.com/watch?v=rXfDmL7iig4)

২) সারাদিন দুর্বল দুর্বল লাগে । চোখে সবসময় ঘুম লেগে থাকে ।

৩) শরীরে একটু শক্তি সঞ্চয় হলে আবার মাস্টারবেট করতে ইচ্ছে করে ।

৪) তেমন কোন প্রোডাক্টিভ কাজই করা হয়না । সৃষ্টিকর্তার দেওয়া চমৎকার এই জীবনটা নষ্ট করে ফেললাম ।

৫) শরীর তীব্র জ্বালাপোড়া করে ।

৬) আমাকে খুবই বয়স্ক দেখায় । একটানা চারদিন মাস্টারবেশন থেকে দূরে ছিলাম,দুইবার । সেই সময় আমার চেহারায় সতেজ একটা ভাব ছিল । আহা! সেই দিনগুলো কত ভালো ছিল !

৭) পিঠ ব্যাথা করে ।

৮) মাস্টারবেশনের পরে  পুরো শরীর ব্যাথা করে , হাড়গুলো ঝনঝন করে ।

৯) সবসময় নিজেকে দোষী মনে হয় ।

১০) আমার প্রজনন অঙ্গ অস্বাভাবিক হয়ে গেছে ।

মাস্টারবেট না করার উপকারিতাঃ

(চার দিন মাস্টারবেট না করেই যে পরিবর্তন গুলো আমি লক্ষ্য করেছিলাম)

১) শরীরের দুর্বলতা, ক্লান্তি দূর হয়ে গিয়েছিল । দিল ‘খুশ’ ছিল ।

২) কাজ কর্মে ব্যাপক ফুর্তি ছিল ।মনযোগ বেড়ে গিয়েছিল ।যে কাজ ধরতাম সেটা শেষ করেই ছাড়তাম আর অনেক কাজ করতে পারতাম ।

৩) একটু বেশী  স্মার্ট হয়ে গিয়েছিলাম, মনেহয় । বন্ধুদের সঙ্গে বেশ ভালো রসিকতা করতাম, পার্ট নিতাম ।

৪) সেক্সুয়ালি প্রোএক্টিভ ছিলাম ।

৫) সকালে ঘুম থেকে ওঠে ভাবতাম , এইবার এক্সারসাইজ করে শরীরটা ফিট বানিয়ে ফেলব ।

আমি এখন তীব্র সংকল্পবদ্ধ; মাস্টারবেট করা ছাড়বোই । শক্তিশালী একজন মানুষ হব , হব একজন ভালো স্বামী ,ভালো বাবা  ।

আমি চাই  পরিবারের সদস্য আর বাচ্চাদের সঙ্গে চমৎকার কিছু সময় কাটাতে। জ্যোৎস্না আর জোনাকি দেখে আমি মুগ্ধ হতে চাই , বসন্তের উদাসী বাতাস গায়ে মেখে নিতে চাই , চাই পাখির কাছে ,ফুলের কাছে যেয়ে তাদের কথা গুলো বুঝতে  ; সৃষ্টিকর্তার উপহার দেওয়া এই জীবনটা চুটিয়ে উপভোগ করতে ।

দুই.

আমি ভারত থেকে বলছি । বয়স যখন ১৩ তখন প্রথম মাস্টারবেশনের সঙ্গে পরিচয় ঘটে । তারপর কোন বিরতি ছাড়াই একটানা আড়াই বছর ধরে মাস্টারবেট করেছি । শুরুর দিনগুলোতে দিনে একবার করে মাস্টারবেট করতাম কিন্তু পরের দিকে এই সংখ্যা বেড়ে যায়; ২-৩ বার এমনকি ৫ বারের বেশীও মাস্টারবেট করতাম প্রতিদিন ।গলায় এবং মুখে প্রচুর ব্রোন বের হবার কারণে  আমাকে  খুবই বিচ্ছিরি দেখাতো ।

স্কুল বা কোচিং ছাড়া অন্য কোথায় যেতাম না । বাড়িতে বসে থাকতাম সবসময়। মানুষজনের সামনে যেতে খুবই অস্বস্তিবোধ করতাম । লজ্জা ,হতাশা ,দুশ্চিন্তা,পিঠব্যাথা,তীব্র মাইগ্রেনের ব্যাথায় আমার তখন ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা ।পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছিল , কিন্তু আমি বেশ মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলাম; পড়াশোনা চালিয়ে নিয়েছি ভালোমতো ।  একটানা আড়াই বছর ধরে মাস্টারবেট করার পর আমি এটা থেকে মুক্তি পেয়েছিলাম যদিও  সেই মুক্তির স্বাদ খুব বেশী দিন ধরে উপভোগ করতে পারিনি । ক্লাসে একটা মেয়ে ছিল , ও’কে আমি মনে মনে ভালবাসতাম [বিবাহ বহির্ভূত প্রেম হারাম –https://www.youtube.com/watch?v=rXfDmL7iig4 , https://www.ummaland.com/blog/1740/বিবাহ-বহির্ভূত-সম্পর্ক-প্রেম-ইসলামে-সম্প/ ] । ভালোবাসার জন্য আমি প্রতীজ্ঞা করলাম যে করেই হোক না কেন মাস্টারবেশন  ছাড়তে হবে । এত লজ্জা নিয়ে , পিম্পলে ভরা বিদিকিচ্ছিরি এই চেহারা নিয়ে ও’র  সামনে আমি দাঁড়াবো কীভাবে !

কঠোর সাধনার মাধ্যমে মাস্টারবেট করা ছাড়লাম । মুখের সব পিম্পল আর দাগগুলোও ভ্যানিশ হয়ে গেল । রেজাল্ট খুবই ভালো হতে লাগলো , বাড়িয়ে বলছি না স্কুলের সেরা  হ্যান্ডসাম   ছাত্রদের একজন হয়ে গেলাম । দুশ্চিন্তা, হতাশা সব রাতারাতি দূর হয়ে গেল। কিন্তু স্কুল শেষ করার পর আমাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল ।দুজন আলাদা আলাদা কলেজে ভর্তি হলাম । চোখের সামনে থেকে মূর্তিমান ‘অনুপ্রেরণা’ চলে যাওয়াতে আবার মাস্টারবেশনে আসক্ত হয়ে গেলাম; আগের চেয়ে আরো ভয়ংকর ভাবে ।

পুরোনো সব সমস্যারা ফিরে এলো  দলবেঁধে। মুখের পিম্পল, দুশ্চিন্তা , হতাশা , মাথাব্যাথা । একটানা দুই-তিন দিন ধরে প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করত , মনে হত মাথার ভেতরে কেউ হাতুড়ি দিয়ে পেটাচ্ছে ।

ক্লাসটেস্টগুলোতে খুব বাজে রেজাল্ট করতে থাকলাম । বেধড়ক মার খেলাম এক  টিচারের হাতে একদিন । হতাশা আরো বাড়লো । ক্লাসটাস করা বাদ দিলাম , সারাদিন রুমের দরজা লাগিয়ে শুধু পর্ন দেখতাম । হতাশা কাটানোর জন্য মনোবিদদের কাছে গেলাম । কিন্তু লাভ হলোনা [আমি অবশ্য উনাকে কখনো বলিনি যে আমি মাস্টারবেশনে আসক্ত । এখবর , উনার মাধ্যমে বাবা মা বা আমার কোন আত্মীয় জানলে আমার পিণ্ডি চটকাতো না ?]

প্রিপারেশানের অভাবে ফাইনাল পরীক্ষা দিতে পারলাম না । একটা বছর লস হয়ে গেল । এখন আবার সেই পরীক্ষার জন্য প্রিপারেশান নিচ্ছি । আমার পেছনে  লাখ  রুপি  খরচ করছে আমার পরিবার , কিন্তু আমি সব জলে ফেলে দিচ্ছি । দুর্বিষহ একটা জীবন পার করছি । হতাশা, আত্মবিশ্বাসের অভাব, সংকোচ, ক্যারিয়ার নিয়ে দুশ্চিন্তা , স্বাস্থ্য সমস্যা …আরো অনেক কিছু যেগুলো আমি এখানে বললাম না । মাস্টারবেশনের ভয়ংকর এই ফাঁদ থেকে কবে মুক্তি পাব,  আদৌ পাব কিনা তা আমি জানি না । চূড়ান্ত একটা  যুদ্ধে নামবো আমি । মাস্টারবেশনের বিরুদ্ধে । আমার নিজের জন্য ,আমার বাবা-মা’র জন্য,পরিবার,যারা আমাকে ভালোবাসে , আমাকে বিশ্বাস করে তাদের জন্য । আমি কখনোই হেরে যেতে পারিনা , জিততে আমাকে হবেই……

[প্রেম মাস্টারবেশন ছাড়ার  মহা ঔষোধ মনে করার কোন দরকার নেই। প্রেম আপনাকে খুব অল্প সময়ের জন্য মাস্টারবেশন থেকে দূরে রাখতে পারবে, কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদী কোন সমাধান দিতে পারবে না ।  সে প্রেম যতই পবিত্র হোক না কেন। অনেক মানুষকে চিনি যারা প্রেমও করে আবার ধুমায়ে মাস্টারবেট করে, পর্ন দেখে । এই হারাম সম্পর্কটি হুডতোলা রিকশা, কেএফসি, আলো আধারির রেস্টুরেন্ট,স্টার সিনেপ্লেক্স পর্ব শেষে আপনাকে লিটনের ফ্ল্যাটে নিয়ে যেতে পারে।   আর সেটা নিশ্চয়ই মাস্টারেশনের চেয়ে জঘন্য একটা ব্যাপার ।]

চলবে ইনশা আল্লাহ ……

[লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত]

পড়ুনঃ

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2

I

রেফারেন্সঃ

১) https://goo.gl/kkmqYh

২)https://goo.gl/NU5KRo

শেয়ার করুনঃ