বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আলফ্রেড কিনসে নামে কুখ্যাত এক সেক্স রিচার্‌সার ছিল আমেরিকাতে । লোকটা চল্লিশ  পঞ্চাশের দশকে এবং তার কিছু পরে সেক্স নিয়ে চরম ভুল ভাল কিছু গবেষণা করে।পাশ্চাত্যে চার্চের পতনের পর মানুষ ক্রমাগতই বস্তুবাদী হয়ে পড়ে । ইশ্বর, ধর্মের যায়গা দখল করে নেয়  বিজ্ঞান আর দর্শন । বিজ্ঞানকে নিয়ে কোন প্রশ্ন তোলা যাবে না , বিজ্ঞান যা বলবে তা চোখ বন্ধ করে মেনে নিতে হবে । তো তথাকথিত মুক্তমনা, বিজ্ঞানমনস্ক আলফ্রেড কিনসে যখন বিজ্ঞানের অপব্যবহারের মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে চমৎকার কিন্তু একাডেমিক্যালি একেবারেই অগ্রহনযোগ্য সব গবেষণা পত্র নিয়ে আসল তখন সমাজকে বাধ্য করা হল এগুলো মেনে নিতে । আলফ্রেড  কিনসের গবেষণাগুলো কাজে লাগিয়ে মুনাফা লুটতে হাজির হলো কুখ্যাত এক ইরোটিক ম্যাগাজিন, Sexuality Information and Education Council of the United States (SIECUS), শয়তানী সিস্টেমের এজেন্ডা বাস্তবায়নের শক্তিশালী এক হাতিয়ার হিসেবে পেল আলফ্রেড  কিনসের গবেষণাগুলো ।

সমাজের ওপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হল চরমভাবে বিকৃত যৌনাচারগুলো । বলা হল, মানুষ যৌনতার ব্যাপারে সম্পূর্ণ স্বাধীন। এখানে ইশ্বর, সমাজ বা অভিভাবক কারো কোন হস্তক্ষেপ চলবে না । সে যা মন চায়  তা করতে পারবে । হস্তমৈথুন, এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স, সমকামিতা,অযাচার,চাইলড সেক্স, পশুকামিতা সব কিছুকেই স্বাভাবিক করে ফেলার কার্যক্রম শুরু হল । আজকের পাশ্চাত্যের বেহায়াপনার শুরুটা শুরু হল এই ভন্ড গবেষকের হাত ধরে ।

(পরবর্তীতে ভন্ড আলফ্রেড কিনসের গবেষণা গুলো বিজ্ঞানী, চিকিৎসকদের কাছে একাডেমিক্যালি চরম মার খেয়েছিল । এগুলো নিয়ে  আমরা এক সময় খুব দীর্ঘ  আলোচনা করব ইনশা আল্লাহ্‌)

এই  প্রতারক কিনসে চল্লিশ-পঞ্চাশের  দশকে কোমর বেঁধে নেমে পড়ে আমেরিকার ফিজিশিয়ান এবং আমেরিকান সমাজের সমালোচনা করতে ।আমেরিকান  সমাজ সংকীর্ণমনা, মৌলবাদী প্রগতির পথে বাঁধা কারণ আমেরিকান সমাজে হস্তমৈথুন করাকে জঘন্য কাজ হিসেবে দেখা হয় । সে

ফিজিশিয়ানদের  তুলোধুনো করে ছাড়ে কারণ তাঁরা স্কুল গুলোতে বাচ্চাদের শেখান হস্তমৈথুন ক্ষতিকর ।

.

কিনসের নিজের ভাষায় , “ফিজিশিয়ানরা মাস্টারবেশনের ক্ষতিকারতা নিয়ে  হাইস্কুলের বাচ্চাদের সামনে অনেক বকবক করে ; তারা  দাবী করে বৈজ্ঞানিক ভাবেই প্রমানিত হস্তমৈথুন নার্ভাস ডিসঅর্ডার এবং নিউরোটিক ডিসটারবেন্স এর জন্য দায়ি। কিন্তু আসলে ঘটনা একটু অন্যরকম । তাদের  এই দাবীর স্বপক্ষে বিজ্ঞানের কিছুই করার নেই । তারা যে সমাজে বড় হয়ে উঠেছে সেই সমাজের নৈতিকতা বোধই  তাদেরকে হস্তমৈথুনকে ক্ষতিকর ভাবতে প্রভাবিত করেছে”

কিনসে চরম মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে জোর গলায় দাবী করে মাস্টারবেশনের কোন ক্ষতিকারতা নেই ।  তার এই মিথ্যা দাবীটাই সেক্স এডুকেশানের বই গুলোতে বার বার খুব বিশ্বাসযোগ্য ভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং এটাকে ধ্রুব সত্য বলে মেনে নিতে বাধ্য করা হয়েছে ।

.

ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস ! অন্য কোন গবেষক নয়, আলফ্রেড কিনসে নিজেই নিজের থিওরিকে মিথ্যা প্রমাণিত করে একসময় । স্বেচ্ছায় নয় অবশ্য; বাধ্য হয়ে । কিনসে  ছিল চরমমাত্রায় হস্তমৈথুনে আসক্ত। সে নিজের যৌনাঙ্গের ওপর ভয়াবহ  নির্যাতন নিপীড়ন চালায়, ফলে আক্রান্ত হয়  orchitis নামের এক লজ্জাজনক রোগে । কিনসের টেস্টিকলে অসহ্য ব্যাথা হতো । এই রোগের কারণে অকালেই কিনসে রিটার্ন টিকিট ছাড়াই পাড়ি জমায় জাহান্নামে । [১]

.

কিনসের গবেষণাগুলো দ্বারা পাশ্চাত্য ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় আগেই বলা হয়েছ । এই গবেষণাগুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেকেই দাবী করেন হস্তমৈথুন শরীরের জন্য খুব উপকারী । হস্তমৈথুন প্রোটেস্ট ক্যান্সার প্রতিরোধ করে, এটা আপনাকে আরো পুরুষালী করে তোলে , দীর্ঘক্ষন বিছানায় পারফর্ম করতে সাহায্য করে আরো কত কি!

.

আমাদের এই  ‘চোরাবালি’ সিরিজের প্রথম দুই পর্বে আমরা তুলে ধরেছি মাস্টারবেশনে আসক্ত ভাইদের জীবন নষ্ট হয়ে  যাবার গল্পগুলো । এই পর্ব সহ সামনের কয়েকটা পর্বে আমরা বিজ্ঞান এবং সামাজিক গবেষণার সাহাজ্যে মাস্টারবেশনের ক্ষতিকারতা তুলে ধরার চেষ্টা করব যদি আল্লাহ্‌ তৌফিক দেন ।

হস্তমৈথুন তৈরি করবে নানা ধরণের যৌন জটিলতাঃ

আপনার যৌনজীবনকে বিষিয়ে তোলার জন্য এই এক হস্তমৈথুনই যথেষ্ট। আর যদি এর সাথে যোগ হয় পর্নোগ্রাফি, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। পাশাপাশি হাত ধরে চলা এই দু’ ভাই আপনার জীবনকে লন্ডভন্ড করে দেবে, বুকের যমীনে সুখ স্বপ্নের যে ক্ষেত আপনি বহু যত্নে গড়ে তুলেছিলেন তা নিমিষেই পুড়িয়ে দেবে চৈত্রের খরতাপের মতোই।

.

অকাল বীর্যপাত বা Premature Ejaculation এর অন্যতম কারণ এই হস্তমৈথুন। হস্তমৈথুন করার সময় আপনি চেষ্টা করতে থাকেন কতো তাড়াতাড়ি চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছানো যায়, পাওয়া যায় শীর্ষসুখ। দেরি হলে ভালো লাগে না, অসহ্য বিরক্তি এসে ভর করে। এভাবে কিছুদিন হস্তমৈথুন করার পর আপনার মস্তিষ্ক বুঝে ফেলবে খুব তাড়াতাড়ি আপনি চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছাতে চাচ্ছেন। সে তখন এভাবেই নিজেকে প্রোগ্রাম করে নেবে। অল্প সময়েই আপনি শীর্ষসুখ পেয়ে যাবেন। স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক অন্তরঙ্গতার সময়েও আপনার প্রোগ্রামড ব্রেইন অল্প সময়েই আপনাকে চুড়ান্ত মুহূর্তে পৌঁছে দেবে। আপনার স্ত্রী থাকবেন অতৃপ্ত।

.

হস্তমৈথুন আপনাকে যৌন মিলনের জন্য অযোগ্য, অক্ষম বানিয়ে দেবে। মেডিক্যাল সায়েন্সের ভাষায় একে বলা হয় Erectile Dysfunction (ED)। European Federation of Sexology এর প্রেসিডেন্ট সহ আরো অনেক বিশেষজ্ঞের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে পর্নআসক্তি এবং হস্তমৈথুনের যুগলবন্দী Erectile Dysfunction এর অন্যতম কারণ।

Erectile Dysfunction এর ফলে যৌনমিলনের সময় আপনার লিঙ্গ (Penis)  উত্থিত হবেনা, যতোটুকু কাঠিন্য দরকার ততোটুকু হবে না,অথবা যতোসময় ধরে শক্ত থাকা প্রয়োজন ততো সময় ধরে ধাকবেনা। ফলশ্রুতিতে আপনি হারাবেন স্বাভাবিক যৌনমিলনের সক্ষমতা।[২,৩,৪]

.

হস্তমৈথুনের কারণে আপনি স্বাভাবিক যৌনক্রিয়ার প্রতি আগ্রহ হারাতে থাকবেন। ২০১৫ সালের একটি গবেষণাপত্র অনুযায়ী হস্তমৈথুন এবং পর্ন দেখার ফলে বিবাহিত পুরুষেরা, তাদের স্ত্রীদের সঙ্গে অন্তরঙ্গতার ব্যাপারে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। স্ত্রীর সঙ্গে অন্তরঙ্গতা তাদের কাছে একঘেয়ে লাগে। [৫]

হস্তমৈথুনের কারণে Chronic penile lymphedema নামের ঘিনঘিনে এক রোগে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা থাকে । এই রোগে আক্রান্তদের লিঙ্গ কুৎসিত আকার ধারণ করে।  [৬]

.

দাম্পত্যজীবনে অশান্তিঃ

স্বাভাবিক যৌনমিলন যেখানে সুখী দাম্পত্যজীবন উপহার দেয়, ধুলো কাদামাটির এ পৃথিবীর বুকে জান্নাতী সুখের এক পশলা বৃষ্টি নামায় সেখানে, হস্তমৈথুন, পায়ু সংগম (Anal Sex), ওরাল সেক্স দাম্পত্যজীবনে মিশিয়ে দেয় জাহান্নামের ফ্লেভার। হতাশা,অতৃপ্তি,অশান্তি,ঝগড়াঝাঁটির অন্যতম প্রভাবক এই বিকৃত যৌনাচারগুলো। [৭,৮,৯]

.

Dr. Harry Fisch, যিনি Cornel University ‘র Urrrology এবং Reproductive Medicine এর ক্লিনিকাল প্রফেসর,মাস্টারবেশনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে মন্তব্য করেন,

‘ঘন ঘন মাস্টারবেশনের কারণে একজন মানুষ ইরেকশানজনিত (পেনিস শক্ত হওয়া বা উত্থান) সমস্যায় ভুগতে শুরু করবে। মাস্টারবেশনের সাথে সাথে দেখতে থাকলে একসময় যৌনমিলনের ক্ষমতায় সে হারিয়ে ফেলবে’। [১০]

.

অতিরিক্ত মাস্টারবেশন ও পর্ন ব্রেইনে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং আসক্তির জন্ম দিতে পারেঃ 

ডোপামিন এক প্রকার রাসায়নিক পদার্থ যা এক স্নায়ুকোষ থেকে আরেক স্নায়ুকোষ স্থানান্তরিত হয়।আমাদের ব্রেইনে এর ভূমিকা কী সেটা নিয়ে ‘মাদকের রাজ্যে’ শিরোনামের লিখাতে [১১] আমরা বিস্তারিত আলোচনা করেছি। হস্তমৈথুন করার পর আমাদের ব্রেইনে ডোপামিন নির্গত হয়, আমরা আনন্দ পাই। আরো  উদাহরণ হিসেবে বলা যায়  ড্রাগস নেওয়া,জুয়া খেলা,খাবার খাওয়া,দৈহিক মিলন ইত্যাদি ইত্যাদির কথা।আমরা যখন এইসবে মত্ত হই তখন আমাদের ব্রেইনে ডোপামিনের বন্যা বয়ে যায় এবং আমরা তৃপ্তি অনুভব করি।আর মাস্টারবেশনের ব্যাপারটা একটু স্পেশাল।মানে ধরুন একটা বাচ্চার হাতে বড়সড় ক্যাডবেরি ধরিয়ে দিলে বাচ্চার অবস্থা যেমন হয় ব্রেইনের অবস্থাও ঠিক তাই হয় যখন এর কারণে ডোপামিন নির্গত হয়।

এই কারণেই আমাদের অনেকেই এতে ড্রাগসের মতন আসক্ত।আমরা চাই বার বার সেই শিহরণ জাগানিয়া অনুভূতিটার স্বাদ পেতে। আর তাই শতোবার করলেও তা যথেষ্ট না।এভাবে ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেইনের উপর ডোপামিনের চাঞ্চল্যকর প্রভাব আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।তাই নতুন উদ্দীপনা তৈরি হলেও আমাদের কাছে একসময় তা স্বাভাবিক বলেই মনে হয়।এই ক্যামিকালটা মানে ডোপামিন হল আসলে এমন এক উপাদান যে আপনাকে বলছে, যাও!মন চাচ্ছে যখন তখন একবারে ফাটায় দাও(উদ্দেশ্য হাসিল করেই ছাড়ো)।যৌন-ক্ষুধা,ঝুঁকি নেয়া,উদ্দীপনা,অনুপ্রেরণা,প্রত্যাশা ইত্যাদির সময় এমনটা ঘটে।ডোপামিনের ঘাটতির কারণে যে বিষয়গুলো নজরে আসে সেগুলো হলঃ যৌনক্ষুধা কমে যাওয়া,ঝুঁকি নেয়ার ভীতি কাজ করা,দুশ্চিন্তা বৃদ্ধি,ঝাঁঝালো প্রতিক্রিয়া,মনোযোগ দেওয়াতে অক্ষমতা,সামাজিকতা,অনুপ্রেরণা ও স্বাভাবিক প্রত্যাশার অভাব ইত্যাদি।আর ডোপামিনের স্বাভাবিক সঞ্চালন এসবের বিপরীত ঘটায়।মানসিক ও শারীরিকভাবে উৎফুল্ল করে তোলে।যারা পর্নের খোলস ত্যাগ করে বেরিয়ে এসেছে তারা এই পজিটিভিটির নির্ভেজাল সাক্ষী।[১২]

.

মাত্রাতিরিক্ত মাস্টারবেশন ডোপামিনের কার্যকারিতা নিঃশেষ করে দেয়ঃ  
আমাদের ব্রেইনে যারা ডোপামিনের উপস্থিতি আমাদের টের পাইয়ে দেয় তাদের বলে রিসেপ্টর।যখন নেশাসক্ত হয়ে কোন কাজ বারবার করা হয় তখন এই রিসেপ্টরগুলোর কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়।তখন ডোপামিনের নিঃসরণে আমাদের ব্রেইন আর আগের মত সাড়া দেয় না বা উদ্দীপ্ত হয় না।

.

তাই ধরেন,যে আগে অল্পকিছু দেখেই উদ্দীপ্ত হতো এবং মাস্টারবেট করে নিজেকে ঠাণ্ডা করতো,তার আর এখন ওইসব সিম্পল জিনিসপত্র দেখে পোষাবে না।সে এখন ধাবিত হবে জোরদার ক্যাটাগরির দিকে যা পর্যায়ক্রমে বর্বর হতে থাকে।কারণ সাধারণ জিনিস দেখে তার উদ্দীপনা প্রায় অনুভূতিহীন।এতে করে তার আত্মতৃপ্তি বজায় থাকে।
কয়েকজন মহিলার সাথে কথা হয়েছে যারা বলেছে তারা যাদের স্বাভাবিক পুরুষ হিসেবে জানত তাদের কেউ কেউ নাকি গে-পর্ন দেখে নিজেদের পরিতৃপ্ত করে।কেননা এখন আর অন্যকিছুই তাদের ভালো লাগে না।

.
সবচেয়ে ভয়ংকর ও পরিতাপের বিষয় হল এইভাবে যখন পর্ন আমাদের জীবনের সাথে শক্তভাবে গেঁথে যায় তখন এক পর্যায়ে এই রিসেপ্টরগুলোর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।তখন স্বাভাবিকটা অস্বাভাবিক আর অস্বাভাবিকটা স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।এজন্য কারো কারো দিনে ১০-২০ বারও মাস্টারবেট  করতে হয় শুধুমাত্র সন্তুষ্ট হওয়ার জন্য।কিছু কিছু মানুষ আছে যারা এতোটাই পর্নাসক্ত যে তারা তাদের গার্লফ্রেন্ড বা স্ত্রীর সাথে মিলিত হয়ে এখন আর সুখ পায় না।পর্ন দেখে মাস্টারবেট না করলে অসম্পূর্ণতা থেকে যায়।এই কারণে বেশ কিছু ডিভোর্সও হয়েছে। [১৩,১৪,১৫,১৬]

.

আপনি হয়ে পড়বেন উদ্যমহীন,কুঁড়েঃ

তরতাজা অনুভূতি নিয়ে দিন শুরু করলেন, নতুন সূর্য আর সকালের এক কাপ চা অফুরন্ত প্রাণশক্তি নিয়ে কর্মক্ষেত্রে ঝাঁপিয়ে পড়ার রসদ দিল আপনাকে। যে কোন কারণেই হোক মাস্টারবেট করে ফেললেন, তারপর আপনার আর কিচ্ছু করার ইচ্ছে করবে না। ঝিমিয়ে,ঘুমিয়ে দিন পার করে দিতে ইচ্ছে করবে।

কেন এমনটা হয়?

আমরা হয়তো অনেকেই আড্রেনেলিন হরমোনের নাম শুনেছি।আড্রেনাল গ্রন্থিগুলো থেকে এর উৎপত্তি।মূলত যখন ধকল খুব বেশি যায় তখন এই হরমোন নিঃসৃত হয়।এর ফলে ব্লাড সার্কুলেশন বৃদ্ধি পায়।আর ডোপামিন নিঃসরণের ফলেই এর নিঃসরণ শুরু হয়।অতিরিক্ত ডোপামিন বের হলে অতিরিক্ত আড্রেনেলিনও বের হয় আড্রেনাল গ্রন্থিগুলো থেকে।এর মধ্যে আবার ডোপামিন সংশ্লেষিত হয়ে তৈরি হয় নরআড্রেনেলিন যা আমাদের রক্তে হরমোন হিসেবে থাকে।এদের বাহিনীতে যোগ দেয় আরেক স্ট্রেস হরমোন কর্টিসোল।এই তিনে মিলে আমাদের হার্ট রেট বাড়াতে থাকে,শক্তি সঞ্চয়কারী কোষগুলো থেকে গ্লুকোজ বের করে আনে এবং স্কেলেটাল পেশিগুলোতে রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধি করে।আর এসবই আমাদের শরীরে মারাত্মক ধকল সৃষ্টি করে।

ফলস্বরূপ আমরা অনেক সময় উদ্যমহীন,ক্লান্ত বা দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। মাস্টারবেশনের কারণে ঠিক এ ঘটনাগুলোই ঘটে। নতুন কিছু করার আগ্রহ থাকে না।মন চায় ঘুমিয়ে বাকি সময়টুকু কাটিয়ে দিতে।ক্লাসের পড়া জমতেই থাকে, টেবিলে ফাইল স্তূপ হয়ে যায় কিন্তু কিছুই করার ইচ্ছে করে না। [১৭]

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌…

(লস্টমডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত,সংকলিত এবং পরিমার্জিত)

পড়ুন-

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2

রেফারেন্সঃ

[১] http://www.drjudithreisman.com/archives/Sex_Education_as_Bullying.pdf  page 8

[২] http://www.em-consulte.com/article/1074113

[৩] http://bit.ly/2CS2Yi1

[৪]http://www.tandfonline.com/doi/abs/10.1080/14681994.2017.1365121

[৫] https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/25189834

[৬]Masturbation: Scientific Evidence and Islam’s View by Sayed Shahabuddin Hoseini, Springer Science+Business Media New York 2013; page-2

[৭]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/19453891

[৮]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/21676179

[৯]https://www.ncbi.nlm.nih.gov/pubmed/17541850

[১০] https://yourbrainonporn.com/erectile-dysfunction-and-porn

[১১] http://bit.ly/2DgbZ9h

[১২] http://bit.ly/2dAkcWd

[১৩] http://slate.me/1f0SHhQ

[১৪] http://bit.ly/1pDYoqn

[১৫] http://bit.ly/2dAlSio

[১৬] http://bit.ly/2dMOZgG

[১৭] http://bit.ly/2BTKY9Z

শেয়ার করুনঃ