বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আপনি হবেন পরাজিত  এক  মানুষঃ 

হস্তমৈথুনের পরের কিছু মুহূর্ত আমরা কিন্তু অবাক হয়ে ভাবি যে আমি আসলে এটা কি করলাম! আমার কাছে একরম একেবারে পরাজিত মনে হচ্ছে কেন? যদি আমার পরিবার, বন্ধুবান্ধব, সহকর্মী কিংবা একেবারেই অপরিচিত কেউও যদি জানতে পারে যে আমি এরকম পর্ন দেখি ও হস্তমৈথুন করি ,তাহলে তারা আমাকে কত খারাপই না ভাববে!

যদি কেউ আমাকে হস্তমৈথুন করার সময় হাতেনাতে ধরে ফেলে তাহলে সেটা কতই না লজ্জার ব্যাপার হবে!(আমার বড় ভাই এর কাছে আমি ধরা পড়েছিলাম তখন আমার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর এবং সেটা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে লজ্জাকর ঘটনা)

হস্তমৈথুন আপনাকে আসলে একটা পরাজিত মানুষে পরিণত করবে কারণ আপনি আসলে ঐ সময়ে আপনি মনে করেন যে স্ক্রিনের লোকটার মত আপনিও একই কাজ করছেন ঐ মহিলার সাথে। কিন্তু আপনি তো আসলে তা না। প্রকৃতপক্ষে আপনি আছেন কোন মোবাইল ,ম্যাগাজিন বা ল্যাপটপের সামনে এবং একজন বিকৃত রুচির অসুস্থ  মানুষের মতো আপনার যৌনাঙ্গ নিয়ে অস্থির হয়ে নাড়াচাড়া করছেন।

এই রকম মানুষ  হওয়া উচিত  না।

আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে আমি হস্তমৈথুন করেন এটা দেখলে বা জানতে পারলে আপনার প্রতি মেয়েদের একটা বিরক্তিভাব জন্ম নিবে।

আপনি যখন পর্ন দেখেন আপনি আসলে তখন দুই বা ততোধিক লোকের,যাদের আপনি চেনেন না, একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখছেন। তাদের যদি আপনি চিনতেন তাহলে সেটা এত রোমাঞ্চকর মনে হত?

তাহলে সেটাও কি আপনার কাছে রোমাঞ্চকর লাগতো যে আপনি জানালা দিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা কোন দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখছেন?

আসলে পর্ন দেখা বা কারও জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে সম্পূর্ণ অচেনা কোন দম্পতির একান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত দেখার মাঝে কি কোন পার্থক্য আছে?

পর্ন দেখা মানে হচ্ছে এমন একটা জিনিস দেখা যা অধিকাংশ মানুষ একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার বলে মনে করে। আমি জানি যখন আপনি পর্ন দেখেন তখন আপনার মনে এতকিছু আসে না কিন্তু আপনার আসলে আগেই এটা নিয়া ভাব উচিত ।

আপনি হয়তো আমার সাথে একমত নাও হতে পারেন।

কিন্তু এটা চিন্তা করেন যে, আপনি আপনার স্ত্রীর সাথে একান্তে সময় কাটাচ্ছেন এবং অন্য কেউ সেটা দেখে হস্তমৈথুন করছে ,তখন আপনার কেমন লাগবে? আমি নিশ্চিত, এতে আপনার চরম বিরক্ত, রাগ লাগবে।

আপনি হয়তো তর্ক করতে পারেন যে পর্ন ভিডিওগুলো যখন তৈরি করা হয় তখন তো তারা জানেই যে তাদের ভিডিও করা হচ্ছে । কিন্তু আপনি কেন সেই বিকৃতকামী ব্যক্তি হতে যাবেন যে অন্যদের একান্ত ব্যক্তিগত সময় দেখে?

 আপনি সবসময় অপরাধবোধে ভুগবেনঃ

প্রাথমিক পর্যায়ে, আমাদের ৯৯.৯% জানি যে হস্তমৈথুন হচ্ছে এমন একটা জিনিস যা অন্যদের সামনে করা যাবে না কারণ তারা মনে করতে পারে আপনি একজন বিকৃতকামী লোক। যারা হস্তমৈথুন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না তারা, তারা যেখানেই যাক না কেন সবসময় সেই চিন্তা মাথার মাঝে আসতে থাকে। তারা এটা ভেবেই অনেকটা অস্থির থাকে যে তারা যে এই ধরনের জিনিস করে সেটা পরিবারের অন্যরা, এমনকি বাচ্চাদের কাছেও ধরা পড়লেও তারা কি মনে করবে। এটা আসলে আসলে অনেকটা পাপবোধের কারাগারের মতো যা তাদের তাড়া করে বেড়ায়। এটা তাদের মনে অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি করে। আসলে অনিয়ন্ত্রিত হস্তমৈথুন তাদের জীবন করে তোলে দুর্বিষহ।

এক ব্যক্তির অভিজ্ঞতা দেখা যাক,

“আমি আসলে কীভাবে বলবো বুঝতে পারছি না। আমি দিনে দুইবার করে হস্তমৈথুন করি। কিন্তু তা করার পরে আমার তা নিয়ে প্রচণ্ড অপরাধবোধ হয় এবং তা আমাকে পরের প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ঘিরে রাখে। মাঝে মাঝে তা আমার পুরো দিনটাই মাটি করে দেয়। হস্তমৈথুন নিয়ে আমি যা পড়েছি তাতে মনে হয়েছে যে এটা ছেলেদের জন্য সাধারণ একটা ব্যাপার , কিন্তু আমি এই লজ্জা ও অপরাধবোধের অনুভূতি কাটিয়ে উঠতে পারি না। আমি অনুভব করি যে আমার আরও ইচ্ছাশক্তির ব্যবহার করা উচিত হস্তমৈথুন বাদ দিতে কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে আমি আসলে এটা পছন্দ করি আর তা বাদ দিতে চাই না। আমার তো মনে হয় যে আমি তো কাউকে আঘাত করছি না, তাহলে কেন তা বাদ দিবো? আমার কি কোন সমস্যা আছে? না হলে যেটাকে স্বাভাবিক বলে মনে করি তাতে আমার এই অপরাধবোধ হয় কেন?”

এখানে শুধু একজনের কথা লেখা হয়েছে কিন্তু এরকম আরও হাজার হাজার লোক আছে। [১]

আপনি হয়ে যাবেন অসামাজিকঃ

হস্তমৈথুন  করে করে ডোপামিনের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেললে মন চাইবে সবসময় অন্ধকার ঘরের কোনায় বসে পর্ন দেখে দেখে হস্তমৈথুন  করতে।বন্ধুদের সংগে দেখা করা, আড্ডা দেওয়া, দলবেঁধে ঘুরতে যাওয়া এইগুলো অবধারিতভাবেই বিরক্তিকর লাগবে। পর্ন দেখা বা হস্তমৈথুন  করার উত্তেজনার কাছে মামার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার উত্তেজনা নিছকই দুধভাত।

হস্তমৈথুনের কারণে আসলে আমরা জীবনকে ভালোমতো উপভোগ করার সুযোগটাই হারিয়ে ফেলছি।

আমার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলি যখন আমি হস্তমৈথুন বাদ দিয়ে দিলাম , আমার একজন সামাজিক মানুষে পরিণত হয়ে গেলাম। আমি আবার আমার বন্ধুদের সাথে মজা করছি , গল্প করছি ,বেড়াতে যাচ্ছি। আমি মনে মনে ভাবতাম “জীবনটা তো আসলেই অনেক মজার।” যখন আমি  হস্তমৈথুনে আসক্ত ছিলাম ,আমার কখনই এই ধরনের অনুভূতি হতো না । আমার কোন উৎসাহই থাকতো না এসবের জন্য ।

[পড়তে পারেন – শান্তি পাব কোথায় গিয়ে  –  http://bit.ly/2gqcbH8 ]

জীবনের ছোট ছোট ব্যাপারগুলো থেকে আমি আপনি কম আনন্দ পাবেনঃ

হস্তমৈথুন  করে যদি আপনি ডোপামিন নিঃসরণকারী স্নায়ুগুলোকে দুর্বল বা একেবারে ধ্বংসই করে ফেলেন এবং আপনার মস্তিষ্ক ডোপামিনের স্বাভাবিক মাত্রা নির্ধারণ করতে না পারে ,তাহলে আপনি নিত্যদিনের সেই সব ছোট ছোট বিষয় থেকে  পুরোপুরি মজা পাবেন না যেসব বিষয়  থেকে একজন সুস্থ স্বাভাবিক মানুষ মজা পেয়ে থাকেন। যেমন ধরুন, ছোট বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটানো, ক্রিকেট খেলা, বৃষ্টিতে ভেজা, চাঁদনী পসর রাতে জ্যোৎস্না স্নান করা…  এই  কাজগুলো  আপনার  কাছে মনে হবে  একেবারেই বিরক্তিকর, অপ্রয়োজনীয়,আদিখ্যেতা।

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

রেফারেন্সঃ

[১] http://bit.ly/2hidby1

পড়ুন-

পর্বত জয়ের প্রতিজ্ঞা – https://bit.ly/2Mo58dj

চোরাবালি প্রথম পর্ব – https://bit.ly/2ObItTt
চোরাবালি দ্বিতীয় পর্ব – https://bit.ly/2Qm0j7D
চোরাবালি তৃতীয় পর্ব – https://bit.ly/2p0HR8l
চোরাবালি চতুর্থ পর্ব – https://bit.ly/2QoRtGb
চোরাবালি পঞ্চম পর্ব- https://bit.ly/2Nzoh0M
চোরাবালি ষষ্ঠ পর্ব- https://bit.ly/2QocEIA
চোরাবালি সপ্তম পর্ব- https://bit.ly/2x9hr81
চোরাবালি অষ্টম পর্ব- https://bit.ly/2NAhrbd
মাস্টারবেশন কী মাসলগ্রোথ এবং এথলেটিক পারফরম্যান্সের ক্ষতি করে?- https://bit.ly/2NzycUa
মিথ্যের শেকল যতো- https://bit.ly/2QpkT7f
সমকামিতা এবং হস্তমৈথুন আদিম মানুষের মধ্যে বিরল!- https://bit.ly/2CQOOT2
শেয়ার করুনঃ