বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম । 

নিজের ‘স্বামী’ পর্ন আসক্ত এটা বোঝার পরের ধাপটার ক্ষেত্রেই অধিকাংশ স্ত্রী ভুল করে বসেন। কেউ কেউ একেবারেই পাত্তা দেননা, ভাবেন এটা আবার এমনকি, পুরুষমানুষ এক আধটু এগুলো দেখতেই পারে, দেখলেতো কোন সমস্যা নেই। কেউ কেউ আবার প্রচন্ড রেগে যান, চিৎকার চেঁচামেচি করেন, দুনিয়াশুদ্ধ লোকদের জানিয়ে দেন (বিশেষ করে স্বামীকে হাতেনাতে পর্ন দেখা অবস্থায় ধরে ফেললে)। আবার অনেক স্ত্রী’ই নীরবে চোখের পানি ফেলেন, কাউকেই কিছু বলেননা।

এই লেখায় আমরা আলোচনা করার চেষ্টা করবো, আপনার স্বামী পর্ন আসক্ত এটা বোঝার পর আপনার করণীয় কী।

১) আপনার পর্ন আসক্ত স্বামীর সঙ্গে তার পর্ন আসক্তি নিয়ে কথা বলা।

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপে পা ফেলতে হবে খুব সাবধানে। একটু এদিক সেদিক হলে অবস্থা খুবই জটিল হয়ে যাবে।

খেয়াল করে দেখুন,কখন আপনার স্বামীর মন ভালো আছে, তারপর এমন কোথাও গিয়ে দুজনে বসুন যেখানে আপনারা একান্তে কথা বলতে পারবেন, হতে পারে সেটা বেডরুম কিংবা কোন পার্কের বেঞ্চ। অথবা কোন নিরিবিলি সবুজ ফুটপাত যেখানে আপনারা হাত ধরে পাশাপাশি হেঁটে যেতে পারবেন দুজনে বেশ কিছুটা দূর। তার চোখে চোখ রেখে সরাসরি বলুন, আপনি জেনে ফেলেছেন তার পর্ন আসক্তির কথা, তার পর্ন আসক্তির কারণে আপনি নিজেকে কতোটা তুচ্ছ মনে করেন, আপনার হৃদয়ে প্লাবণ নামে অষ্টপ্রহর, তার প্রতিটা স্পর্শে আপনার গা ঘিন ঘিন করে ওঠে; বিস্তারিত বলুন। তাকে মনে করিয়ে দিন বিয়ের সেই প্রথম রাতগুলোর কথা যখন পৃথিবীতেই নেমে এসেছিল জান্নাতের সুখ, ঘোমটা খুলে প্রথম চোখে চোখ রাখা, প্রাণভরে দেখা, প্রথম স্পর্শ, প্রথম জৈব-রাসায়নিক ক্রিয়া-বিক্রিয়ায় মুগ্ধ হওয়া।

এরপর কতো ঝড় ঝাপটা এসেছে। দমকা বাতাস লন্ডভন্ড করে দিতে চেয়েছে আপনাদের সাজানো সংসার, আপনারা দু’জন দাঁতে-দাঁত চেপে,হাতে হাত রেখে,কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করে গিয়েছেন, জয়ী হয়েছেন, সেই আপনারাই কেন পর্ন আসক্তির কাছে পরাজিত হবেন?

মেয়েদের চোখের পানি পুরুষদের জন্য সহ্য করা খুব কষ্টের। আপনার স্বামীর সাথে কথা বলতে বলতে চোখে পানি আনুন, আপনাদের সন্তান থাকলে তার ভবিষ্যতের কথা আপনার স্বামীকে স্মরণ করিয়ে দিন। আপনাদের এই কথোপকথনের  সম্ভাব্য পরিণতি হতে পারে তিন রকমের।

  1. i) আপনার কাছে ধরা পড়ার আগে থেকেই আপনার স্বামী পর্ন আসক্তি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু তিনি সফল হননি। আপনার মুখে কথাগুলো শোনার পরে তিনি প্রচন্ড ইমোশোনাল হয়ে পড়বেন, লজ্জায় লাল হয়ে যাবেন। কঠোর প্রতিজ্ঞা করবেন আসক্তি কাটানোর।
  1. ii) ধরা পড়ার আগে তিনি পর্ন আসক্তি কাটানোর ব্যাপারে সিরিয়াস কোন চিন্তা ভাবনা করেননি। কিন্তু আপনার সাথে এ কথোপকথনের পরে পর্ন আসক্তি ছাড়ার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা শুরু করবেন। আপনাকে আশ্বাস দেবেন যে তিনি আর পর্ন দেখবেননা।

iii)আপনার কথা শুনে রেগে যাবেন। আপনাকে বকা ঝকা করবেন। গোঁয়ার গোবিন্দের মতো আচরণ শুরু করবেন। পর্ন দেখার পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দিবেন। আপনার স্বামীর প্রতিক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে আপনার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে। তিন নম্বর প্রতিক্রিয়ার কথা আপাতত মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলে আমরা এখন চিন্তা করবো প্রথম দু’টি প্রতিক্রিয়া নিয়ে।

নিজে যেমন পর্ন আসক্তির ক্ষতিকর দিক নিয়ে পড়াশোনা করবেন ঠিক তেমনি আপনার স্বামীকেও পর্ন আসক্তির ভয়াবহতা সম্পর্কে জানানোর আপ্রাণ চেষ্টা করবেন। গুগল ঘেঁটে ঘেঁটে আর্টিকেল পড়বেন, ইউটিউবে ভিডিও দেখবেন, বই পড়বেন। পর্ন আসক্তির ভয়াবহতা সত্যিকার অর্থেই উপলব্ধি করতে পারলে আপনার স্বামীর ভেতর থেকেই একটা তাগাদা আসবে আসক্তি কাটানোর।

সেই সাথে আপনারা দুজনেই পর্ন আসক্তির সাথে লড়াই করার কৌশল সম্পর্কেও ধারণা পাবেন ইন্টারনেট বা বইপত্র ঘেঁটে ।

২) এর পরের ধাপ নিজেদের জন্য একজন কাউন্সেলর ঠিক করে নেয়া। কাউন্সেলর হতে পারেন মসজিদের ইমাম সাহেব, দু’ জনেরই কাছের কোন বিশ্বস্ত বয়স্ক মুরুব্বী, কোন মনোবিদ বা কোন যৌন বিশেষজ্ঞ। আপনার স্বামীর পর্ন আসক্তি কোন পর্যায়ের, মানে তিনি কি অল্প কিছুদিন হল পর্ন দেখা শুরু করেছেন এবং এখন আসক্তির প্রথম পর্যায়ে আছেন, সফটকোর পর্ন দেখেন নাকি হার্ডকোর পর্ন ছাড়া চলেই না, অল্প কিছুদিন নাকি দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মক রকমের পর্ন আসক্ত, এসব কিছু চিন্তা করেই কাউন্সেলর ঠিক করতে হবে। মনে রাখবেন, কাউন্সেলরের সাহায্য নেয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ একটি মাত্র কাজে অবহেলার কারণে পর্ন আসক্তি কাটিয়ে উঠতে ব্যর্থ হওয়ার নজির আছে ভুরিভুরি।

৩) পরের ধাপটিও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আপনাদের খুঁজে বের করতে হবে কেন আপনার স্বামী পর্ন ভিডিও দেখছেন, কী আপনার স্বামীর জন্য পর্ন দেখার ট্রিগার হিসেবে কাজ করছে। হতে পারে,

  1. i) তিনি বিয়ের অনেক আগে থেকেই পর্ণোগ্রাফিতে আসক্ত।
  1. ii) বিয়ের পরে ইন্টারনেট ব্রাউযিং করতে করতে কৌতূহল বশত পর্ন ভিডিও দেখেছেন দু’ একবার, তারপর ধীরে ধীরে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।

iii) কোন বন্ধুর মাধ্যমে।

  1. iv) ইরোটিক মুভি,আইটেম সং দেখার নেশা থেকে আরো কড়া পর্ন ভিডিওতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন।
  1. v) হাইপার সেক্সুয়ালাইযড পরিবেশ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে।
  1. vi) যৌন অতৃপ্তি থেকে।

vii) মানসিক চাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য।

এই বিষয় গুলো চিহ্নিত করা খুবই জরুরী।

স্বামীর পর্ন আসক্তির জন্য নিজেকে দোষারোপ করা ঠিক হবেনা কখনোই। তারপরেও একটু চিন্তা করে দেখুনতো, এমনকিছু কি ঘটেছে আপনাদের মধ্যে যেটা আপনার স্বামীর সঙ্গে আপনার দুরত্ব বাড়িয়েছে, আপনাদের সম্পর্কে তৈরি করেছে শূন্যতা? আর এই শূন্যতা তিনি পূরণ করছেন পর্ন ভিডিও দিয়ে?

হাইপার সেক্সুয়ালাইযড এ সমাজে সবকিছুই একজন মানুষকে অবাধ, বিকৃত যৌনতার হাতছানি দেয়। মনে করুন আপনার স্বামী সারাদিন অফিসে কাজ করে বিধ্বস্ত হয়ে বাসায় ফিরলেন, কর্মক্ষেত্রের সহকর্মী থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটের পথচারিনী, বিলবোর্ড, দোকানের সাইনবোর্ড সবকিছুই তার ভেতরে বিশাল এক শূন্যতার সৃষ্টি করে। তার এই শূন্যতা পূরণ করতে পারতেন আপনি নিজে। আপনার সাথে দুটো কথা,আপনার মিষ্টি মুখ, মিষ্টি মুখের এক চিলতে হাসি, হালকা খুনসুটি আপনার স্বামীর বুকের বিশাল শূন্যতা ভরিয়ে দিতো জান্নাতী সুখে। কিন্তু দেখা গেল আপনার স্বামী বাসায় ফিরে আপনাকে কাছেই পেলনা, আপনি হয়তো তখন বাসাতেই নেই, ঘরের বাইরে আপনার কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত। অথবা আপনি বাসাতে আছেন, কিন্তু আপনার স্বামীর সঙ্গে মিষ্টি করে কথা বললেননা, ঘরের কাজের চাপে আপনি এলেমেলো, অগোছালো চেহারা এবং বিরক্তি নিয়ে আসলে আপনার স্বামীর সামনে। অথয়াব ঘরে ঢোকার পরেই খ্যাঁক খ্যাঁক শুরু করে দিলেন, “এটা আনতে বলেছিলাম কেন আনোনি? আর কয়বার বলতে হবে? মিনসে, আজ তোমারই একদিন না হলে আমারই একদিন!”

আপনার স্বামীর বুকের ভেতরের শূন্যতার বিস্তৃতি আরো কিছুটা বাড়ে। অনলাইনে সারফিং করা শুরু হয়। তারপর ধীরে ধীরে পর্ন আসক্তি। নাটক সিনেমার কল্যাণে এখন “কেয়ারিং ওয়াইফের” নতুন সংজ্ঞা তৈরি হয়েছে। স্বামীর সব ব্যাপারে খবরদারি করা, “এটা কেন করলে, ওটা কেন করলে না, ওর সঙ্গে কেন মিশলে…” এই ধরণের প্রশ্নবাণে বেচারা স্বামীকে সবসময় তটস্থ করে রাখাকে স্ত্রীকে এখন বলা হচ্ছে “কেয়ারিং ওয়াইফ”। কোন পুরুষ, সত্যিকারের পুরুষ স্ত্রীকে নিজের “বস”- এর ভূমিকায় দেখতে চায় না। এ কাজগুলো কতো অজস্র স্বামীদের মন বিষিয়ে তোলে, ধীরে ধীরে স্ত্রীর সাথে দূরত্ব তৈরি হয়, পরকীয়া, পর্ন আসক্তির সূচনা হয় তা আমরা বুঝতে পারছিনা!

আপনার স্বামীকে চোখের হেফাজতের গুরুত্বের কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিতে থাকুন। দু’ জনের মিলিত প্রচেষ্টায় সিনেমা, নাটক দেখা ধীরে ধীরে কমাতে শুরু করুন, এবং এক পর্যায়ে সম্পূর্ণ ভাবে এগুলো থেকে আপনার স্বামীকে দূরে থাকতে বলুন।

অবসর সময় খুব ভালোমতো কাজে লাগাতে হবে। ছুটির দিনগুলোতে মুভি,নাটক দেখা, ফেইসবুকিং, ইউটিউবে সারফিং করা বাদ দিয়ে নিজেদের মতো করে একান্ত সময় কাটান। অনুভব করুন আরো কতোটা ভালোবাসা বাকী রয়ে গেছে আপনাদের দু’জনের ভেতরে, সেই ভালোবাসা গুলো বেসে ফেলুন, বাইরে ঘুরতে যান, ফুটপাত ধরে হাঁটুন যতোক্ষণ ক্লান্ত না হন, রিকশায় বৃষ্টিবিলাস করুন (পর্দা মেইনটেইন করে)। জীবনের টানাপোড়নে আপনাদের মধ্যে যে দুরত্ব সৃষ্টি হয়েছিল কমে যাবে তার অনেকটাই।

আপনার স্বামীর জন্য সুন্দর করে সাজুন। রাস্তাঘাট,কর্মক্ষেত্রে নারীদেহের প্রদর্শনী দেখে দেখে তিনি বিষাক্ত মন নিয়ে ঘরে ফেরেন। আপনি অগোছালো হয়ে থাকলে সেই বিষাক্ত মন আরো বিষাক্ত হয়ে যায়, আপনার প্রতি আকর্ষণ কমতে থাকে। পরকীয়ার সূত্রপাত যেমন হয় তেমনি পর্ন দেখার

প্রবণতাও বাড়তে থাকে।

কুড়ি পেরোলেই বাঙ্গালী মেয়েরা কেমন যেন বুড়িয়ে যায়। নিজের শরীর ফিট রাখুন। বিয়ের প্রথম সময়ে দু’জনের চোখে মুগ্ধতার যে ঘোর লেগে থাকে বিয়ের পর কিছুটা সময় পার হলে তা কেটে যায় বাস্তবতার আঁচড়ে। আমরা কেউই স্বীকার করিনা, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আপনার শরীর বেঢপ আকৃতির হয়ে গেলে আপনার স্বামীর আপনার প্রতি দৈহিক আকর্ষণ কমে যাবে। ভালোবাসা,মায়া মমতা হয়তো আগের মতোই থাকে, কিন্তু দৈহিক আকর্ষণ নিশ্চিতভাবেই কমে যায়। এই ফাঁকা জায়গাটুকু দখল করে নেয় পরকীয়া কিংবা পর্ন আসক্তি।

আপনার স্বামীর দৈহিক চাহিদা মিটছে কিনা, তিনি একান্ত ভাবে আপনাকে তার প্রয়োজনমতো কাছে পাচ্ছেন কিনা সেদিকে খেয়াল রাখুন। অন্তরঙ্গতার সময় আপনার স্বামীকে সাধ্যমতো সহযোগিতা করুন। মাথায় রাখতে হবে,অন্তরঙ্গতার সময় স্বামীকে সাহায্য করার মানে এই না যে তিনি অন্তরঙ্গতার সময় এনাল সেক্স, ওরাল সেক্স করতে বললেও বা পর্ন এর নায়িকাদের মতো বিকৃত কাজ করতে বললেও আপনি সেটাই করবেন। শরীর ফিট রাখার মানে এই নয় যে আপনাকে পর্নস্টারদের মতো হতে হবে। সমস্যাটা আপনার স্বামীর,আপনার না। আপনি আপনার নিজের জীবনকে নষ্ট করবেন কেন? হারাম হালালের সীমার মধ্য থেকে যতোটুকু করা সম্ভব আপনি ততোটুকুই করবেন। এর বেশী কিছুনা।

একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে বোঝা দরকার। আপনার স্বামীর পর্ন দেখার জন্য আপনি দায়ী না। আপনি যাই করুন, যদি কোন অপরাধও করে ফেলেন, তবুও সেটা আপনার স্বামীর পর্ন আসক্তিকে জাস্টিফাই করে না। কিন্তু একজন মুসলিম নারী ও স্ত্রী হিসেবে, আপনি স্বামীর সংশোধনের জন্য আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা আপনার দায়িত্ব। পশ্চিমা ফেমিনিস্ট দর্শন দ্বারা যাদের চিন্তা কলুষিত তাদের কাছে হয়তো এখানে অনেক কথাই ভালো লাগবে না, কিন্তু এ সমাধানগুলো তাদের জন্য না। এ সমাধানগুলো এবং এ বই মুসলিম হিসাবে ইসলামের অবস্থান থেকে মুসলিমদের জন্য বলা।

৪) আপনার স্বামীকে টার্গেট সেট করে দিন; “আগামী এক সপ্তাহ তুমি পর্ন দেখবে না…” এক সপ্তাহ পার হলে আবার নতুন টার্গেট দিন। এবার দু সপ্তাহ। এভাবে চলতে থাকবে। প্রত্যেকবার টার্গেট পূরণ করতে পারলে তাকে পুরষ্কৃত করুন, সেটা হতে পারে তার জন্য আপনার সুন্দর করে সাজা, কোন উপহার দেয়া অথবা তার পছন্দের কোন খাবার রান্না করা; কথায় আছে The only way to the heart is through the stomach!

৫) আপনার স্বামী টার্গেট পূরণ করতে না পারলে তার সঙ্গে রাগারাগি করবেন না। তাকে সাহস দিন, প্রেরণা যোগান। পুরুষের জন্য নারী যে কত বড় প্রেরণার উৎস তা নারীরা মনে হয়না কোনদিন বুঝবে!

৬) আপনার স্বামী তার পর্ন আসক্তি কাটানোর ব্যাপারে আন্তরিক, এটা যদি আপনি বুঝতে পারেন তাহলে আপনার স্বামীকে সময় দিন। তিনি বার বার ব্যর্থ হলেও তার সঙ্গে ধৈর্য ধরে লেগে থাকুন। কিন্তু আপনি যদি বুঝতে পারেন আপনার স্বামী পর্ন আসক্তি কাটানোর ব্যাপারে একেবারেই আন্তরিক না, তিনি আপনার আবেগ নিয়ে খেলছেন তাহলে অন্য ব্যবস্থা করতে হবে। আপনিও তার আবেগ নিয়ে খেলুন। কান্নার বন্যা বইয়ে দিন, সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার হুমকি দিন,রান্না করা বন্ধ করুন; ভাতে মারুন, পানিতে মারুন, শরীরে মারুন।

৭) আপনার স্বামীকে পর্ন দেখা অবস্থায় দেখলে ঠিক তখনই কিছু বলার দরকার নেই। এ সময় তার থেকে দূরে থাকাই ভালো। তিনি এ সময় স্বাভাবিক অবস্থাতে থাকেন না, অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটে যেতে পারে। তাই পরে যে কোন একসময় এটা নিয়ে আলাপ করবেন।

৮) পিসি বা ফোনে পর্নসাইট ব্লক করার সফটওয়্যার বা অ্যাপস ইন্সটল করা অত্যন্ত জরুরী। এই ওয়েবসাইট বা অ্যাপস গুলো আপনার স্বামীর সঙ্গে আলোচনা করেই ইন্সটল করতে হবে। লুকিয়ে লুকিয়ে গোয়েন্দাগিরি করার জন্যে নয়। আপনার স্বামীর সঙ্গে কোনরকম পূর্ব আলোচনা ছাড়াই এগুলো ইন্সটল করলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা পাবেন বিষে বিষক্ষয় প্রবন্ধে।

ইন্সটল করতে সমস্যা হলে   আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সঙ্কোচবোধ করবেন না ।

৯) বাসায় পারতপক্ষে কাজের মেয়ে রাখবেন না, যেসব নারীদের সাথে আপনার স্বামীর বিয়ে হালাল, যাদের সঙ্গে আপনার স্বামীকে পর্দা মেইনটেইন করতে হবে তাঁদের ব্যাপারে আপনার স্বামীকে বারবার নাসীহাহ দিতে হবে। আপনার স্বামীকে পর্দার গুরুত্ব মনে করিয়ে দিতে হবে নিয়মিত।

১০) প্রচুর পরিমাণে দু’আ করতে হবে দুজনে মিলে। দান সাদকাহ করতে হবে। আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে হবে।

১১) আপনার সন্তানদের তাদের বাবার কাছ থেকে যতোটা পারা যায় দূরে রাখতে হবে। অনেক অনেক মানুষের পর্নোগ্রাফির সাথে পরিচয় ঘটে তাদের বাবাদের পর্ন আসক্তির সূত্রে।

১২) আপনার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও যদি আপনার স্বামী পর্ন আসক্তি কাটানোর ব্যাপারে আন্তরিক না হন, বারবার আপনার সঙ্গে প্রতারণা করেন, বারবার সুযোগ দেওয়ার পরও তিনি ব্যর্থ হন তাহলে আপনাকে আপনাদের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। একা একা কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না, আপনার কাছের মানুষদের সঙ্গে কথা বলুন, মুরুব্বীদের সঙ্গে আলোচনা করুন। কোন কিছু লুকোনোর দরকার নেই। তারপর সবাই মিলে ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেটা ডিভোর্সও হতে হবে। তবে যে সিদ্ধান্তই নিন না কেন, তার আগে অবশ্যই কোন আলিমের সাথে সম্পূর্ণ ব্যাপারটা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলতে হবে, আর অবশ্যই ইস্তেখারার সালাত আদায় করে নিতে হবে।

এবার আবার প্রথম ধাপে ফিরে যাই। পর্ন আসক্তি নিয়ে কথা শুরু করলে আপনার স্বামী যদি রাগারাগি করেন তাহলে ওকে কিছুটা সময় দিন। তারপর আবার বলুন। পর্ন আসক্তির ভয়াবহতা বুঝিয়ে বলুন। আবেগ নিয়ে খেলুন,সন্তানদের নিয়ে বাপের বাড়ী চলে যাবার হুমকি দিন, তিনি একসময় বুঝবেন ইন শা আল্লাহ্‌। তারপর ধাপে ধাপে ২ থেকে শুরু করে পরে টিপস গুলো অনুসরণ করুন।

কোনমতেই আপনার স্বামীকে বোঝাতে না পারলে মুরব্বদীদের সাহায্য নিন। এতেও কাজ না হলে একটা পথ তো খোলা আছেই- বিচ্ছেদ।  তবে আবারো স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি এধরণের চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত যদি নিতেই হবে তবে অবশ্যই কোন আলিমের পরামর্শ নিয়ে এবং ইস্তেখারার সালাত আদায় করেই অগ্রসর হবেন।

(শেষ)

পড়ুনঃ
ও যখন পর্ন আসক্ত” (প্রথম পর্ব): https://bit.ly/2x4Ifaa
ও যখন পর্ন আসক্ত” (দ্বিতীয় পর্ব): ht https://bit.ly/2CMG00p
শেয়ার করুনঃ