বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

মেসেজটা দেখেই মন ভালো হয়ে গিয়েছিল ।  প্রবাসী একজন ভাই খুব সুন্দর করে গুছিয়ে একটা মেসেজ করেছেন কীভাবে তিনি  মাস্টারবেশন, পর্ন মুভিতে  আসক্ত হলেন , দুর্বিষহ কিছু সময় কাটিয়ে কীভাবে তিনি মুক্তি পেলেন ভয়ঙ্কর এর আসক্তি গুলো থেকে ।  অনেক ভাই তো বিশ্বাসই করতে চান না , মাস্টারবেশন/পর্ন মুভির আসক্তি থেকে তারা কোনদিন মুক্তি পাবেন , হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে বসে থাকেন । তাদের জন্য ইনশাআল্লাহ্‌ এই লিখাটা খুবই কাজে দিবে ।

আমাদের পেইজ (https://www.facebook.com/lostmodesty/ ) এবং ব্লগের (www.lostmodesty.blogspot.com) লিখাগুলো ভাইকে পর্ন /মাস্টারবেশনের নেশা ছাড়তে সাহায্য করেছে জানতে পেরে খুব ভালো লাগলো । আল্লাহ্‌ (সুবঃ) আমাদের ইখলাসের পরিশুদ্ধি দান করুক ।

ইনবক্সের মেসেজটির অল্পকিছু কাটাছেঁড়া করে উপস্থাপন করা হল আপনাদের সামনে ।

ধন্যবাদ ।

 

আসসালামু আলাইকুম,

আমার নাম বিলাল (ছদ্মনাম), আমি সেই ছোট (বয়স মনে নেই) থেকেই মাস্টারবেশনে (হস্তমৈথুন) অভ্যস্ত, যদিও আমি লজ্জায় কাউকে এই বিষয়টা এখনো পর্যন্ত জানাইনি।

আমি প্রথম মাষ্টারবেশনে জড়িয়ে পড়ি একটা ছবি দেখে । আমার কাছে তখন কোন মোবাইল ছিল না  ।রমজান মাস চলছিল। আমাদের এলাকায় একটা দোকানে ঈদ কার্ড বিক্রি হতো । সেখানে তারা ঈদ কার্ডের সাথে নায়ক নায়িকাদের  অশ্লীল ছবিও বিক্রি করতো ।  সেখান থেকে অনেকগুলো ছবি কিনে নিজের কাছে রাখতাম । আর তখন থেকেই আমি এই অন্ধকার জগতে পা বাড়াই।

তখন আমার কাছে  কোন মাল্টিমিডিয়া মোবাইলও ছিলোনা, ইন্টারনেটও ছিলো না , যার কারনে তার মাত্রা ছিলো কম ।

এরপর আমি একসময় বিদেশে চলে আসি । এখানে আসার পর প্রথম একবছর ভালোভাবেই দিন যাচ্ছিলো । হাতে কোনো ক্যামেরা মোবাইল ছিলো না ,তখনো মাস্টারবেশন অভ্যস্ত যে ছিলামনা তা না, তবে সেটা  সীমিত পর্যায়ের ছিলো । পর্ন  আসক্তি তেমন একটা ছিলনা।

ক্যামেরা মোবাইল ইন্টারনেট হাতে  পাওয়ার পর   আমি  পুরোপুরি অন্ধকার জগতের বাসিন্দা হয়ে যাই ।  নেমে আসে আমার জীবনের কালো দিনগুলি, আস্তে আস্তে আমি পর্ন  মুভির প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ি ।  একটু একাকী অনুভব করলেই পর্ন  মুভি দেখতাম । আর পর্ন  মুভি দেখার পর মাস্টারবেশন করতাম।  মোট কথা যখনি পর্ন  মুভি দেখতাম তখনি মাস্টারবেট  করতাম ।

এইভাবে আসক্তির মাত্রা বাড়তে থাকে, প্রথম প্রথম সাপ্তাহে ২-৩ দিন পর্ন  দেখতাম, প্রতিবারই মাস্টারবেট  করতাম । আস্তে আস্তে তার মাত্রা বেড়ে দাঁড়িয়েছিলো প্রতি মাসে কমপক্ষে ২২-২৫ দিন পর্ন  মুভি দেখা আর মাস্টারবেট  করা ।

এখানে ইন্টারনেট একদমই আনলিমিটেড, হাতের কাছে চাইলেই সব পাওয়া যায়, এই ২-৩ বছরের মধ্যে আমার জীবনটা দুর্বিষহ হয়ে উঠে ।  আমার নিজের প্রতি অনেক ঘৃণা জন্মাতে শুরু হলো, আমার সবকিছু শেষ হয়ে যেতে লাগলো, আমার রুচি একদমই নষ্ট হয়ে গেল, নষ্ট হয়ে এমন পর্যায় পৌছালো যে কোন মেয়ের দিকে সুস্থভাবে তাকাতে পারতাম না ।  যখনি কোনো মেয়ের দিকে তাকাতাম (সে যেই হোক) তখনি আমার ভিতর থেকে সেই পর্ন  মুভির দুর্গন্ধগুলো বেরিয়ে এসে আমার রুচিকে বিকৃতভাবে উপাস্থাপন করতো ।  আর সেটা প্রকাশ পেতো আমার চোখে মুখে আর তাকানোর ভাব ভঙ্গিতে।

একসময় আমি উপলব্ধি করতে পারি যে,আমি ভুল পথে হাঁটছি, তখনো আমি নিশ্চিত  ছিলাম না, যে আমি ভুল পথে আছি ।  একদিন ফেসবুক ঘাঁটতে ঘাঁটতে একটা ভিডিও পাই ।  সেখানে একজন আলোচক মাস্টারবেশনের অপকারিতা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। কুরআন,হাদীসের আলোকে নাসীহা করছিলেন।  সে ভিডিওটা দেখেই আমি বুঝতে পারলাম, যে আমি ভুল পথে আছি ।

এই পথ থেকে কীভাবে ফিরে আসবো, নেমে পড়লাম সে যুদ্ধে।

কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে, কোনোভাবেই আমি সফল হতে পারলাম না । প্রতিজ্ঞা করতাম কাল থেকে আর পর্ন  দেখব না, মাস্টারবেটও করব না ।  কিন্তু সে প্রতিজ্ঞা সর্বোচ্চ ২-৩দিন রাখতে পারতাম । এর পর আবার জড়িয়ে পড়তাম সে খারাপ কাজগুলোয়।  আমি একেবারে হতাশ হয়ে গেলাম ।  মনে হলো  আর বোধহয় ফিরে আসতে পারবো না।  এতকিছুর পরেও ভরসা ছিলো আল্লাহর উপর ।

এরপর আমার রুমের এক বড়ভাইয়ের কথায় দ্বীনি ভাইদের  সঙ্গে সময় দিতে শুরু করি ।  মোটামুটি সব খারাপ কাজ কমবেশি ছেড়ে দিতে সক্ষম হলাম । কিন্তু এই অন্ধকার জগত ছাড়তে পারলাম না ।

প্রতিদিনই ভাবতাম, আজকের পর থেকে আর পর্ন  দেখব না, কিন্তু পরেরদিন  সে একই কথা বলে  আবার সে কাজে জড়িয়ে পড়তাম ।  আমার কখনো যেন আজকের পর আগামীকাল আসতো না, আগামীকাল আসলে সেটা আজকে হয়ে যেতো ।

এবার আমি পুরোপুর হতাশ হয়ে যাই, ৯৯% নিশ্চিত হয়ে যাই যে আমি মনে হয় আর ফিরে আসতে পারব না ।

মাস দুয়েক আগে একদিন ফেসবুকে আপনাদের পেজটা দেখি ।  এরপর পেজে  গিয়ে আপনাদের লিখাগুলো পড়তে লাগলাম ।  একে একে করে একটানা অনেকগুলো লিখা পড়ে নিলাম ।  তখন থেকেই আমার মনে যেন একটু আশার আলো জ্বলে উঠল ।

আপনাদের লিখাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে পড়ে বাস্তবটা উপলব্ধি করতে চেষ্টা করলাম । এরপর প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজের পরে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইতে লাগলাম । আপনাদের লিখাগুলো পড়ার পর আল্লাহর নামে প্রতিজ্ঞা করে টানা এক সাপ্তাহ কোনো পর্ন  মুভি/মাস্টারবেশন  না করে থাকতে সক্ষম হলাম ।  তখনি নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস  জন্মালো,  “ইনশাহ’আল্লাহ’ আমি পারবো ।

আলহামদুলিল্লাহ, ছুম্মা আলহামদুলিল্লাহ, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, আমি আজকে প্রায় ২দিন কম এক মাস (২৮দিন) কোন প্রকার পর্ন  দেখিনি ও কোন প্রকার  মাস্টারবেশন  করিনি আল্লাহর রহমতে  । এখনো আমি প্রতিজ্ঞায় আছি, আর আমার বিশ্বাস আল্লাহ রহমতে আমি আর এই খারাপ কাজে কখনো জড়িয়ে পড়বো না ।

আমি এখন নিয়মিত আপনাদের পেজের লিখাগুলো পড়ি, আপনাদের ওয়েবসাইট “মুক্ত বাতাসের খোঁজে”’র  লিখাগুলিও সময় পেলেই পড়ার চেষ্টা করি ।  আপনাদের নতুন লেখার আশায় থাকি ।  আলহামদুলিল্লাহ এখনকার জীবনটা অনেক সুন্দর ।  এখন আমি আগের তুলনায় অনেক বেশি সুস্থ, তারপরও আমার মন থেকে সেই বিকৃত রুচিগুলো দূর করতে পারছি না, পারছি তবে কম, কোন কোন সময়ে এমন পর্যায় পৌছে যাই যে আমাকে মাস্টারবেশন  করতেই হবে,  পর্ন  মুভি দেখতে হবেই ।  জানেনই তো, ইন্টারনেট, মোবাইল ইউজ করা মানে হাতের মুঠোয় শয়তান  । তাই  কোনো সময়ে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতে পারে যে মনের মধ্যে শয়তানের কুমন্ত্রণা  আমাকে এমন অবস্থায় নিয়ে যাবে যে তখন আমি হয়তো মাস্টারবেশন করে ফেলব (আউজুবিল্লাহ)  ।

আপনাদের এই প্রচেষ্টা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত চালিয়ে যাবেন, হাজারো পথহারা যুবককে অন্ধকারের জীবন থেকে আলোর পথে আসার রাস্তা দেখিয়ে দিবেন, জাযাকাল্লাহু খাইরান, আল্লাহ আপনাদের অবশ্যই উত্তম বিনিময় দান করবেন ।

বিঃদ্রঃ- আমি এই সম্পূর্ণ লেখাটা মোবাইল দিয়ে লিখেছি, তাই অসংখ্য ভুল হতে পারে এবং বিস্তারিত কিছু লিখতে পারিনি, যা লিখেছি তা একেবারেই সংক্ষেপে । তাই দয়া করে ভুলগুলো ক্ষমারদৃষ্টিতে দেখবেন । আর আপনারা চাইলে আমার জীবনের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরে আসার কথাগুলো কাটছাঁট করে, ভুলগুলি শুধরে নিয়ে আপনাদের পেজে স্ট্যাটাস আকারে পোষ্ট করতে পারেন,এতে আমার মতো হাজারো পথহারা দ্বীনি ভাইদের উপকার হবে ।

আবারও আল্লাহর কাছে প্রাণ খুলে দোয়া করি, আপনাদের এই প্রচেষ্টা আল্লাহ কবুল করে নিয়ে আল্লাহ আপনাদের উত্তম বিনিময় দান করুন ।

আমীন ।

এরকমই আরেকটি লিখা পড়তে পারেন এই লিংকে -http://lostmodesty.blogspot.com/2015/05/blog-post_31.html

শেয়ার করুনঃ