বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম ।

আমাদের ভাই/বোনদের মধ্যে একজন প্রশ্ন করেছিলেন, হস্তমৈথুন করা কি হারাম হবে যদি সেটা ব্যভিচার থেকে রক্ষা করে?

উত্তর: সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ্‌র। আমরা শুধু তাঁরই সাহায্য কামনা করি, তাঁর কাছেই ক্ষমা প্রার্থনা করি। যাকে আল্লাহ্‌ সাহায্য করেন, তাকে কেউ বিপথগামী করতে পারে না। আর যাকে তিনি বিপথে যেতে দেন, তাকে কেউ ঠিক পথে আনতে পারে না। আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই, মুহাম্মদ(সঃ) তাঁরই একজন রাসূল।

ব্যভিচার একটি কবিরা গুনাহ্‌, যার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ৮০টি বেত্রাঘাতের বন্দোবস্ত করেছেন। এটা কেবলমাত্র একজন ব্যভিচারীর দুনিয়ার শাস্তি। সে যদি অনুশোচনা ছাড়া মৃত্যুবরণ করে, তবে তবে আখিরাতে তার জন্য আরো কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

হস্তমৈথুন ইসলামে নিষিদ্ধ এবং মুমিনদের অবশ্যই এটা এড়িয়ে চলা উচিত। তুলনামূলকভাবে হস্তমৈথুন ব্যভিচারের মত মারাত্মক পাপ নয়। তবে এটা অবশ্যই একটা পাপ, একটি নোংরা কাজ যা মুমিনদের অবশ্যই এড়িয়ে যাওয়া উচিত।

আল্লাহ্‌ সূরা নূরের ৩০নম্বর আয়াতে বলেন, “হে রাসূল, মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে, আল্লাহ তা অবহিত আছেন।”

আল্লাহ্‌ মুমিনদের দৃষ্টি নত আর গোপনাঙ্গ ঢেকে রাখতে আদেশ করেছেন। এটাই তাদের জন্য সবচেয়ে মঙ্গলজনক পথ। ব্যভিচার ইসলামে কবিরা গুনাহ্‌। মহানবী(সঃ) আমাদেরকে চোখের ব্যভিচার, পায়ের ব্যভিচার, হাতের ব্যভিচার ইত্যাদি থেকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। যদি কেউ চোখ দিয়ে অনবরত যৌন আবেদনময়ী কোনো ছবি কিংবা পঞ্জিকা দেখে থাকে, তবে সেটা তার চোখের ব্যভিচার হবে। কেউ যদি ব্যভিচারের উদ্দেশ্যে বের হয় কিংবা কোনো যৌন আবেদনময়ী ছবি অথবা পঞ্জিকা দেখার উদ্দেশ্যে বের হয়, তবে সেটা তার পায়ের ব্যভিচার হবে। একইভাবে, হস্তমৈথুন হাতে কিংবা চোখের ব্যভিচার হিসবে গণ্য হবে। এটা একটা পাপ এবং একটি নোংরা কাজ, যা অবশ্যই মুমিনদেরকে এড়িয়ে চলা উচিত।

একটি বিশুদ্ধ হাদিসে এসেছে যে, আল্লাহ্‌র রাসূল(সাঃ) বলেন, “হে যুবকেরা, তোমাদের মধ্যে যাদের বিবাহের সামর্থ্য আছে, তারা যেন বিয়ে করে। কারণ এটা তোমাদের দৃষ্টিকে নত রাখতে এবং চরিত্রকে হেফাজত রাখতে সাহায্য করবে। আর যাদের বিয়ের সামর্থ্য নেই, তারা যেন রোজা রাখে। কারণ, এটা যৌন উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ করে।”

যদি কেউ তার যৌন উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে না পারে, তবে হস্তমৈথুন কিংবা ব্যভিচারের মত পাপাচারে লিপ্ত না হয়ে তার বিয়ে করা উচিত। যদি তার বিয়ের সামর্থ্য না থাকে, তবে তার রোজা রাখা উচিত, যাতে তার যৌন উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর ফলে সে পাপাচার থেকে বিরত থাকতে পারে।

কোনো অবস্থাতেই হস্তমৈথুনের মত পাপকে বৈধতা দেয়া যাবে না। কিন্তু কেউ যদি এমন কোনো পরিস্থিতির সম্মুকে পতিত হয় যেখানে সে কোনোভাবেই নিজের যৌন উত্তেজনাকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারছে না এবং হস্তমৈথুন আর ব্যভিচারের মধ্য থেকে তাকে যেকোন একটি বেছে নিতেই হবে, তবে সেক্ষেত্রে অনেক স্কলাররা বলেছেন তুলনামূলক ছোট পাপটাকে বেছে নিতে। আবারো বলছি, হস্তমৈথুন কিংবা ব্যভিচার দুটোই ইসলামের দৃষ্টিতে পাপ। কারোই নিজেকে এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন করা উচিত হবে না, যেখানে আবেগের কারণে আল্লাহ্‌ এবং তাঁর রাসূলের নির্দেশকে অমান্য করা হয়!

আল্লাহ্‌ সূরা বনী ইসরাঈলের ৩২নাম্বার আয়াতে বলেছেন, “তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেও না। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং মন্দ পথ।”

আল্লাহ্‌ সূরা ফুরকানের ৬৮-৭১নাম্বার আয়াতে বলেছেন, “আসল ঈমানদার তো তারা, যারা আল্লাহর সাথে অন্য উপাস্যের এবাদত করে না, আল্লাহ যার হত্যা অবৈধ করেছেন, সঙ্গত কারণ ব্যতীত তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যারা একাজ করে, তারা শাস্তির সম্মুখীন হবে। কেয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দ্বিগুন হবে এবং তথায় লাঞ্ছিত অবস্থায় চিরকাল বসবাস করবে। কিন্তু যারা তওবা করে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সৎকর্ম করে, আল্লাহ তাদের গোনাহকে পুন্য দ্বারা পরিবর্তত করে দেবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। যে তওবা করে ও সৎকর্ম করে, সে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।”

আল্লাহ্‌ সূরা নিসার ১৭-১৮নাম্বার আয়াতে বলেছেন, “অবশ্যই আল্লাহ তাদের তওবা কবুল করবেন, যারা ভূলবশতঃ মন্দ কাজ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তওবা করে; এরাই হল সেসব লোক যাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করে দেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী, তিনি সবকিছু জানেন। আর এমন লোকদের জন্য কোন ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমন কি যখন তাদের কারো মাথার উপর মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন বলতে থাকে, আমি এখন তওবা করছি। আর তওবা নেই তাদের জন্য, যারা কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করে। আমি তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।”

লেখার মধ্যে যা কিছু সত্য এবং কল্যাণময়, তার সবটুকুই আল্লাহ্‌র সাহায্য এবং সহযোগীতায়। আর যা কিছু ভুল, সব আমার নিজের। তিনিই সবকিছু সবচেয়ে ভাল জানেন এবং সবকিছু তারই কুদরত।

মূল ফতোয়ার লিংক – http://islamhelpline.net/node/1581

ISLAM QA এর ফতোয়া –  https://islamqa.info/en/329

শেয়ার করুনঃ