বিসমিল্লাহির রহমানীর রহীম

একেবারেই একাডেমিক ধাঁচের লিখা এটি । রসকষহীন । ধৈর্য ধরে পুরোটা পড়ার অনুরোধ রইলো পাঠকদের নিকট ।

অনেকেই একটা  ভুল ধারণা নিয়ে থাকেন  আমি তো শুধু পর্ণমুভি দেখছি ,ওইগুলো করছি না । কারো কোন   ক্ষতি করছিনা । পর্ণ দেখা  দোষের তো কিছু না । এই ভুল ধারণাটা ভেঙ্গে দেবার জন্য এই লিখাটাই  যথেষ্ট ইনশা আল্লাহ্‌ ।

প্রাপ্তবয়স্ক ও বাচ্চাদের ওপর পর্নোগ্রাফির প্রভাব-ডঃ ভিক্টর বি. ক্লাইন

একজন ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট হিসেবে আমি দীর্ঘকাল ধরে ট্রিটমেন্ট করে আসছি সেক্স অফেন্ডার, সেক্স অ্যাডিক্ট ও যৌন রোগধারী ব্যাক্তিদের যাদের সংখ্যা প্রায় ৩০০ এর মত।তাদের সমস্যাগুলোর মধ্যে রয়েছে অপ্রত্যাশিত ও অদম্য যৌন আচরণ, child molestation, exhibitionism, voyeurism, sadomasochism, fetishism and rape.

নিঃসন্দেহে বলার আর অপেক্ষা রাখে না যে এদের একমাত্র প্রেরণাদায়ক শক্তি পর্ণ,দু চারটে ব্যাতিক্রম বাদে।এদের প্রাইমারি স্টেজে একটা সিন্ড্রোম কাজ করে যাকে আমি বলি ফোর ফ্যাক্টর সিনড্রোম।মানে প্রথমে আসক্তি, তারপর তীব্রতা বৃদ্ধি, এরপর ঘটে সংবেদনশীলতার অভাব আর শেষটায় এসে বর্বর আচরণ।

 

এক্ষেত্রে পুরোটাই আস্তে আস্তে ঘটে।প্রথমে ব্যাক্তি পর্ণের লোভ সামলাতে না পেরে তার যে ক্যাটাগরি পছন্দ সেই ক্যাটাগরির পর্ণে নিমজ্জিত হয়।পর্যায়ক্রমে তার পরিমাণ বাড়তে থাকে।এই  ভয়ংকর চোরাবালি একসময় তাকে নেশাগ্রস্ত করে।অবশেষে বিবেবকে শূন্যে ভাসিয়ে ও ফলাফলের কথা না ভেবে জীবনের অন্যতম ভুল করে বসে যার জন্য পরবর্তীতে মানসিকভাবে পস্তাতে হয়।কাউকে কাউকে পর্ণ মুহূর্তের মধ্যে গরম করে আবার মুহূর্তের মধ্যেই স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে আসে।কিন্তু কারো কারো ভিতর ক্যান্সারের মত এঁটে যায় সারাজীবন।মানসিক থেরাপির শরণাপন্ন হতে হয় তখন।

 

যৌন অপরাধের সাথে পর্নোগ্রাফির ঘনিষ্ঠতা –ররি রিড

 

পর্ণের প্রতি অতিরিক্ত মাদকতা মানুষের বৈধ যৌন আচরণে বিকৃত পরিবর্তন আনে ঠিক যেভাবে মানুষের জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করে অ্যালকোহল।অনেকে হয়তো স্বাভাবিক যৌন আচরণের ওপর পর্ণের প্রভাবটা মেনে নিবে না।তাদেরকে যদি একবার আমার চেয়ারে বসিয়ে শোনাতে পারতাম পর্ণাসক্তদের সঙ্গীদের তিক্ত ও তীব্র অভিজ্ঞতার কথা যা আমাকে হরহামেশাই শুনতে হয়, তাহলে বোধয় তাদের ধারণা পাল্টে যেত।এদের বাধ্য করা হয় অসুস্থ যৌন আচরণে লিপ্ত হতে।মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার এরা।কিন্তু এসব ঘটনা কেবল চার দেয়ালের মাঝেই আটকা থাকে।বিচারের জন্য কোর্টরুম পর্যন্ত আর পৌঁছায় না।যারা এই ধরণের অস্বাভাবিক ও জোরপূর্বক যৌন আচরণে তাদের সঙ্গীদের নিমজ্জিত করে তারা এটাকে খুব স্বাভাবিক বলে ধরে নেয়।অনেক সময় অচেনা কারো দ্বারা ধর্ষিত হওয়ার চেয়েও মারাত্মক হতে পারে এসব অভিজ্ঞতা।

ভিক্টিম ধর্ষণের কারণ হিসেবে নিজেকে দোষারোপ করে না কারণ এখানে নিশ্চিতভাবে তার কোন দোষ নেই।কিন্তু যেসব বৈবাহিক সম্পর্কে সেক্সুয়াল ইন্টিমেসির নামে একপাক্ষিক বিনোদন আর লাম্পট্য চলে সেসব ক্ষেত্রে অনেক সময় অভিযোগকারী নিজেকে দায়ী করতে থাকে।মনে করে যে তাদের সঙ্গীর এই বাড়াবাড়িই বোধয় ঠিক।হয়তো এমনই হওয়া উচিৎ স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্ক।সেক্স সম্বন্ধে নিজেদের ধারণাকে তখন রক্ষণশীল বা সেকেলে ধাঁচের ভাবতে শুরু করে।যখন সঙ্গীর ওপর অন্ধভাবে ভরসা করা শুরু করে তখন তারা ভাবে যে আমি হয়তো ওর চোখে যথেষ্ট সেক্সি হতে পারছি না,তাই ও পর্ণ দেখে।কাজেই এইটা আমার দোষ।একবার তো এক মহিলা আমাকে বলেই ফেলেছিলো যে অচেনা কারো হাতে একবার  নির্যাতিত হওয়া আর ১০ বছর ধরে পর্ণাসক্ত স্বামীর বেহাল্লাপনায় জড়িত থাকার মধ্যে বেছে নিতে বললে আমি প্রথমটাকেই বেছে নিবো।এইবার বুঝুন তাহলে ক্ষতিটা কোন পর্যায়ে নেমে এসেছে!

পর্নোগ্রাফির সাথে ধর্ষণের যোগসূত্র-ডঃ জুডিথ রিসম্যান  

F.B.I এর সিরিয়াল রেইপ প্রোফাইলার জন ডুগলাস তার বই “Journey Into Darkness” (1997) এ লিখেছেন, সিরিয়াল রেইপ কিলারদের আস্তানা তল্লাশি করে পাওয়া যায় পর্ণের ভাণ্ডার হয় স্টোর করা না হয় হোমমেইড।”The Evil That Men Do” (1998) বইতে রয় হেজেলউড বলেছেন,একবার এক সেক্স কিলারের সন্ধান পাই যে কিনা মেয়েদের বিভিন্ন পজিশনে বেঁধে রাখত ও টর্চার করত যা সে কোন এক পর্ণ ম্যাগাজিনে দেখেছিলো।আরেক রিপোর্টে এসেছে যে কিলারদের মধ্যে ৮১% তাদের অপরাধের জন্য প্রাথমিক মদতদাতা হিসেবে চিহ্নিত করেছে পর্ণকে।পর্ণের ভোক্তা বাড়ার সাথে সাথে দিন দিন এসব অপরাধের সংখ্যাও বাড়ছে।সরকারের কোন সোচ্চার পদক্ষেপ নেই এ খাতে।অর্ধ শতক ধরে তামাকের ব্যবসা একসময় আমেরিকা মাত করেছিল আর আজ সে জায়গা নিয়েছে পর্ণ।

# ৬০% পুরুষ এ মত পোষণ করেছেন যে, যদি ধরা পড়ার সম্ভাবনা না থাকতো তাহলে তারা হয়তো কোন নারীকে দিয়ে জোরপূর্বক কিছু করাতেন যা তার পছন্দ হতো না বা পারলে ধর্ষণই করতেন।

-Briere, J. &Malamuth, N. (1983). Self-reported likelihood of sexually aggressive behavior: Attitudinal versus sexual explanations. Journal of Research in Personality, 17,315-323.

# অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে বেশ ঢিলেঢালাভাবে পর্নোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট আইন মোতায়েন করা হয়।ফলস্বরূপ, ধর্ষণের হার বাড়ে ২৮৪%।কিন্তু একই সময়ে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে এ ব্যাপারে কঠোর আইন প্রয়োগ করে দেখা যায়, ধর্ষণের হার বেড়েছে মাত্র ২৩%।

আবার, হাওয়াইতে প্রথমে দুর্বল আইন প্রয়োগ করা হয়, এরপর তা মজবুত করা হয় এবং তারপর আবার পূর্বের অবস্থায় ফেরত নেয়া হয়।ধর্ষণের ফলাফলও আসে অনুরূপ।প্রথমে বাড়ে, এরপর কমে তারপর আবার মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।
-Court, J. (1984). Sex and violence a ripple effect. In Malamuth, N &Donnerstein, E (Eds), Pornography and sexual aggression. San Diego, Academic Press.

# একদল পুরুষকে একটা ভিডিও দেখানো হল যেটাতে একজন নারী সেক্সুয়াল ভায়োলেন্সের মাধ্যমে উত্তেজিত ও কামুকী হয়ে ওঠে।আরেক দলকেও একই ধাঁচের কিছু একটা দেখানো হয় তবে তাতে সেক্সুয়াল ভায়োলেন্স থাকে না।এইবার দুই দলকেই দেখানো হল পর্ণ যাতে রয়েছে ধর্ষণ।এরপর প্রথম দলের অধিকাংশ জানালো, তাদের চোখে পর্ণের মহিলাটির যেন ভোগান্তি কম আর তৃপ্তিই বেশি।কাজেই মহিলারা ধর্ষণ উপভোগ করে আর এমনই তাদের মতামত।
-Check, J. &Malamuth, N. (1985). An empirical assessment of some feminist hypotheses about rape. International Journal of Women’s Studies, 8, 414-423.

# এইবার মহিলাদের ব্যাপারটা দেখা যাক।অনেকে যারা বাচ্চাকাল থেকেই পর্ণের দুনিয়ায় ঢুকেছে, তাদের কাছে ধর্ষণের ভয়াবহতা হালকা হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে এবং তারা যেসব সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসিতে নিমজ্জিত হয় সেগুলোর মাঝে ধর্ষণও থাকে।

– Corne, S., Briere, J. &Esses, L. (1992). Women’s attitudes and fantasies about rape as a function of early exposure to pornography. Journal of Interpersonal Violence, Vol 7 No 4, pp 454-461.

 

#অনিবার্য_যত_ক্ষয়

চলবে ইনশা আল্লাহ্‌ ……

(লস্ট মডেস্টি অনুবাদ টিম কর্তৃক অনূদিত)

পড়তে পারেন –

‘অনিবার্য যত ক্ষয়’ (দ্বিতীয় পর্ব) – https://bit.ly/2x5OdHU
অনিবার্য যত ক্ষয়’ (শেষ পর্ব)  https://bit.ly/2O7Pgxf

রেফারেন্স-

http://www.antipornography.org/sex_crimes.html

শেয়ার করুনঃ